সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
২:০১ অপরাহ্ন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গে গোরুর মাংসের সরবরাহে কড়াকড়ি, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন নাগরিকরা

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গোরুর মাংসের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। কঠোর বিধিনিষেধ, কসাইখানা বন্ধ এবং ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়ন স্থবির হয়ে পড়ায় কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাজারে গোরুর মাংসের সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দাম ও ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাসেও। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান […]

পশ্চিমবঙ্গে গোরুর মাংসের সরবরাহে কড়াকড়ি, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনে বাধ্য হচ্ছেন নাগরিকরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গোরুর মাংসের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। কঠোর বিধিনিষেধ, কসাইখানা বন্ধ এবং ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়ন স্থবির হয়ে পড়ায় কলকাতাসহ বিভিন্ন এলাকায় বাজারে গোরুর মাংসের সরবরাহ কমে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে দাম ও ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাসেও।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেসের ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়ে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পর পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তন দেখা দিয়েছে।

গত ১৩ মে পশ্চিমবঙ্গ সরকার ১৯৫০ সালের পশু জবাই নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে কার্যকর করার নির্দেশ দেয়। নতুন ব্যবস্থায় ১৪ বছরের বেশি বয়সী, প্রজনন বা কাজের অনুপযোগী কিংবা গুরুতরভাবে পঙ্গু পশু ছাড়া গোরু বা মহিষ জবাইয়ের জন্য ফিটনেস সনদ দেওয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি কেবল নির্ধারিত কসাইখানায় জবাইয়ের অনুমতি রাখা হয়েছে।

কসাইখানা বন্ধ, লাইসেন্স নবায়নও স্থগিত

কলকাতার ট্যাংরায় অবস্থিত শহরের একমাত্র পৌর কসাইখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সংকট আরও তীব্র হয়েছে। একই সঙ্গে কসাইদের ব্যবসায়িক লাইসেন্স নবায়নও বন্ধ রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেয়র ফরহাদ হাকিমের পদত্যাগের পর পৌরসভা ভেঙে দেওয়া এবং আগামী ডিসেম্বরে নির্বাচন নির্ধারিত হওয়ায় লাইসেন্স নবায়নের প্রক্রিয়াও থেমে গেছে।

চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কমে যাওয়ায় কলকাতায় গোরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২০০-২৫০ রুপি থেকে বেড়ে ৩৫০-৫০০ রুপিতে উঠেছে। এক প্লেট ভুনা মাংসের দামও ১০০ থেকে বেড়ে ১২০ রুপি হয়েছে।

তবে দাম বাড়লেও ব্যবসা ৫০ শতাংশের বেশি কমে গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে অনেক মানুষ প্রকাশ্যে গোরুর মাংস খাওয়াও কমিয়ে দিয়েছেন।

রেস্তোরাঁর মেনু থেকে বাদ

আইনের কঠোর প্রয়োগের ফলে কলকাতার অলি পাব ও জাম জামসহ বেশ কয়েকটি রেস্তোরাঁ তাদের মেনু থেকে গোরুর মাংসের পদ বাদ দিতে বাধ্য হয়েছে।

অন্যদিকে মাংস ব্যবসায়ী ও খামারিদের একাংশ লোকসান সামাল দিতে কম দামে গবাদিপশু বিক্রি করে ছাগলের ব্যবসার দিকে ঝুঁকছেন।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুর ও মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মালদার মতো এলাকায় কড়াকড়ির মধ্যে রাতে গোপনে এবং বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গোরুর মাংস সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

বহু পরিবারে খাদ্য তালিকার অংশ

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ১০ দশমিক ৪ শতাংশ গ্রামীণ এবং ৭ দশমিক ৯ শতাংশ শহুরে পরিবার গোরুর মাংস খেয়ে থাকে। এসব পরিবারের মধ্যে মুসলিমদের পাশাপাশি খ্রিস্টান, দলিত ও আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষও রয়েছেন।

ট্যাংরা কসাইখানা ও লাইসেন্স নবায়ন প্রসঙ্গে কলকাতা পৌরসংস্থার কমিশনার স্মিতা পান্ডে জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রাণী সম্পদ বিকাশ বিভাগের আওতাধীন। তবে প্রাণী সম্পদ বিভাগের পরিচালক নিখিল কুমার শেঠ কসাইখানা পরিচালনা ও ফিটনেস সনদ দেওয়ার দায়িত্ব পৌরসংস্থার বলে জানিয়েছেন।

ফলে বিধিনিষেধ, প্রশাসনিক জটিলতা ও সরবরাহ সংকটের কারণে পশ্চিমবঙ্গে গোরুর মাংসের বাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাব পড়ছে ব্যবসায়ী, রেস্তোরাঁ এবং ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাসেও।

সূত্র: আল জাজিরা

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ