রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনায় র্যাবের গ্রেপ্তার করা তিনজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছে সংস্থাটি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত […]
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর সংসদ ভবন এলাকায় ছিনতাইয়ের শিকার হয়ে শিক্ষিকা রনজিলা পারভীন নিহত হওয়ার ঘটনায় র্যাবের গ্রেপ্তার করা তিনজনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। ঘটনার প্রায় ২০ দিন পর নতুন করে দুজনকে গ্রেপ্তারের তথ্যও জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ বিভিন্ন আলামত বিশ্লেষণ করে রনজিলা পারভীন হত্যায় জড়িত সন্দেহে মো. খোকন ও রাজীব মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত ৩০ আগস্ট র্যাব-২ একই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তখন র্যাব জানিয়েছিল, ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার তিনজন রাকিব, পনি ও সেড্রিক বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন।
তবে মোটরসাইকেলটির রং ও গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের নিয়ে পরে প্রশ্ন ওঠে। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, র্যাবের গ্রেপ্তার করা তিনজনের মধ্যে একজনের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে, রনজিলা পারভীন হত্যার ঘটনায় তাদের সম্পৃক্ততা নেই।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, র্যাব যে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছিল, সেটিও ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল নয়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা মোটরসাইকেলের রং এবং উদ্ধার করা মোটরসাইকেলের রং ভিন্ন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় পর্যায়ে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে খোকন ও রাজীবকে শনাক্ত করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে নতুন গ্রেপ্তার হওয়া দুজনই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানান তিনি।
ভুক্তভোগীর স্বামীর বরাত দিয়ে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার সময় ছিনতাইকারীকে তিনি এক ঝলক দেখেছিলেন। ব্যাগ টান দেওয়ার সময় ছিনতাইকারী একবার পেছনে ফিরে তাকালে তাকে স্পষ্ট দেখা যায়। পরে পেছনে থাকা খোকনকেও শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
ডিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের সময় মোটরসাইকেলের পেছনে বসে ছিলেন খোকন। তিনি রনজিলা পারভীনের ব্যাগে হ্যাঁচকা টান দিয়ে সেটি নিয়ে নেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মিরপুরের বড়বাগ এলাকা থেকে ব্যাগটি উদ্ধার করা হয়।
ব্যাগের ভেতর ভুক্তভোগীর পোশাক, টিকিটের অংশ, চশমার খাপ ও কিছু ওষুধ ছিল। ছিনতাই হওয়া মুঠোফোনও পরে মিরপুর-১ এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
পরে সাভারের বিরুলিয়া এলাকা থেকে রাজীব মাতুব্বরকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবি জানায়, তিনি ঘটনার সময় মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। রাজীবের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দিয়াবাড়ি এলাকা থেকে ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিবির তথ্য অনুযায়ী, রাজীবের হেফাজত থেকে ৬২২টি ইয়াবা বড়িও উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, দস্যুতা, চুরি, মারামারি ও দ্রুত বিচার আইনের মামলাসহ মোট আটটি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে খোকনের বিরুদ্ধে মাদকের তিনটি মামলা রয়েছে।
গত ২৯ আগস্ট রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউর পূর্ব প্রান্তে জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের পর খেজুরবাগানের মুখে রিকশায় ছিনতাইয়ের শিকার হন রনজিলা পারভীন।
ছিনতাইকারীরা তার ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় তার স্বামী মোহাম্মদ আবদুল মতিন শেরেবাংলা নগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, র্যাবের গ্রেপ্তার করা তিনজনের সঙ্গে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কোনো যোগাযোগ বা পরিচয় ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তিনি জানান, নতুন গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সময় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল সম্পর্কে তথ্য দিয়েছেন। তদন্তে আগের তিনজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া না গেলে তাদের এই মামলা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে তাদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো মামলা থাকলে সেসব মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া চলবে।
এদিকে বিলুপ্ত র্যাবের এসআরবি-২ অধিনায়ক নয়মুল হাসান দাবি করেছেন, প্রথম থেকেই গ্রেপ্তার তিনজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়েছিল এবং তদন্তের মাধ্যমে তাদের সংশ্লিষ্টতা যাচাই করার কথা বলা হয়েছিল। নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া একজনের চেহারার সঙ্গে আগে গ্রেপ্তার হওয়া পনির কিছুটা মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।