সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
৪:১৪ অপরাহ্ন, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ও মশার বংশবৃদ্ধি রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুদিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং চলাচলের পথ পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব। বুধবার […]

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে দুদিন ঘরবাড়ি পরিষ্কারের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর বিস্তার ও মশার বংশবৃদ্ধি রোধে প্রত্যেক নাগরিক ও পরিবারকে সপ্তাহে অন্তত দুদিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় নিয়ে ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং চলাচলের পথ পরিষ্কার করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে পারলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন সম্ভব।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিশেষ বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

বার্তায় তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার যেন সপ্তাহে অন্তত দুদিন নির্দিষ্ট সময় ব্যয় করে নিজেদের ঘরবাড়ি, আশপাশের পরিবেশ এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব স্থানে ডেঙ্গুর মশা জন্মাতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার করেন।

জমে থাকা পানি ও আবর্জনা সরানোর ওপর গুরুত্ব

ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঘরের আনাচকানাচে, রাস্তাঘাটে এবং জনসমাগমস্থলে জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার রাখা এবং পানি জমতে না দেওয়ার বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু টিকার ওপর নির্ভর না করে মশার প্রজননস্থল নির্মূলকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও উঠে আসে। তাঁর মতে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার কমানো সম্ভব।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নির্দেশনাতেও ডেঙ্গু প্রতিরোধে জমে থাকা পানি অপসারণ, পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার এবং মশার বংশবিস্তার বন্ধ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সংস্থাটি বলছে, টিকাও ডেঙ্গু প্রতিরোধের সমন্বিত ব্যবস্থার একটি অংশ হতে পারে; তবে এটি সব সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে পারে না।

সম্মিলিত প্রচেষ্টায় প্রাণহানি কমানোর আহ্বান

দেশে ডেঙ্গুতে বিভিন্ন বয়সী মানুষের অসুস্থতা ও মৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারেক রহমান বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বহু পরিবারকে স্বজন হারানোর বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্ভব।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাংলাদেশের মানুষ ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছে, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে সফল হয়েছে এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন রাখেন, দেশের মানুষ অতীতে একসঙ্গে এত বড় অর্জন সম্ভব করেছে, তাহলে ডেঙ্গুর মতো জাতীয় সমস্যা মোকাবিলায় সবাই কেন সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে পারবে না?

তাঁর মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধকে কেবল সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেখলে চলবে না। প্রতিটি নাগরিককে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

পরিচ্ছন্নতা অভিযানে যুক্ত হচ্ছে আড়াই কোটি শিক্ষার্থী

দেশব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী রয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস ও রেড ক্রিসেন্টের মতো সেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে প্রায় ৪০ লাখ সদস্য যুক্ত রয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও স্বেচ্ছাসেবীদের একটি বড় অংশ গত প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় আবর্জনা পরিষ্কারের কাজে অংশ নিচ্ছেন।

এই উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে চান তিনি। তাঁর আশা, শিক্ষার্থী, তরুণসমাজ ও স্বেচ্ছাসেবীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও নিয়মিতভাবে এ কাজে যুক্ত হবেন।

জনগণের অংশগ্রহণেই সফল হবে সরকার

সরকারের দায়িত্ব ও নাগরিকদের ভূমিকার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, একটি সরকার তখনই প্রকৃত অর্থে সফল হয়, যখন তারা সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের সমস্যা সমাধানে কাজ করে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলা করতে চায়। এ জন্য দেশের প্রতিটি নাগরিককে ডেঙ্গু প্রতিরোধের সামাজিক আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মতে, প্রত্যেকে নিজ নিজ বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখলে ডেঙ্গুর বিস্তার কমানো সম্ভব হবে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে অসংখ্য মানুষের প্রাণ রক্ষা করা যেতে পারে।

ডেঙ্গুর ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টাই দেশকে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা থেকে রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ