মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারি নথিপত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) শব্দটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শব্দটি প্রযুক্তিটির সক্ষমতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না। এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (এসআই) ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন। বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়া ও […]
ছবি: সংগৃহীত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারি নথিপত্রে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ (এআই) শব্দটির ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। তাঁর মতে, শব্দটি প্রযুক্তিটির সক্ষমতাকে যথাযথভাবে তুলে ধরে না। এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ (এসআই) ব্যবহারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এ কথা বলেন। বুধবার টাইমস অব ইন্ডিয়া ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে তাঁর এই বক্তব্য প্রকাশিত হয়।
পোস্টে ট্রাম্প দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল-এর নাম উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, সংবাদমাধ্যমটি কবে থেকে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ না বলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ব্যবহার শুরু করবে। এআই নামটিকে তিনি ‘খুবই খারাপ ও ভুল’ বলে অভিহিত করেন। তাঁর দাবি, প্রায় সবাই ইতিমধ্যে এসআই শব্দটি ব্যবহার করছে, অথবা শিগগিরই করবে।
ট্রাম্প আরও লেখেন, শব্দটির ভুল ব্যাখ্যার কারণে শিগগিরই প্রাসঙ্গিক নথিপত্রসহ অন্যান্য ক্ষেত্রেও আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এআই’ বা ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ শব্দের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হবে। তবে এ নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে এবং ঠিক কোন কোন ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে তাঁর পোস্টে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এর আগে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ‘ইনঅগুরেটিং দ্য এরা অব সুপার ইন্টেলিজেন্স’ শীর্ষক একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত আদেশ অনুযায়ী, প্রযোজ্য আইন যতটা অনুমতি দেয়, তার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থাকে সরকারি চিঠিপত্র, জনসাধারণের জন্য প্রকাশিত তথ্য, ওয়েবসাইট, প্রতিবেদন, নীতিপত্র এবং অন্যান্য আইনবহির্ভূত সরকারি নথিতে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এআই’-এর পরিবর্তে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ ও ‘এসআই’ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে।
তবে নির্বাহী আদেশে আগে জারি করা বিধিমালা, প্রেসিডেন্সিয়াল নির্দেশনা, চুক্তি, অনুদানসংক্রান্ত নথি এবং অন্যান্য ঐতিহাসিক নথি সংশোধন বাধ্যতামূলক করা হয়নি। অর্থাৎ, সরকারি নথিতে পরিভাষা পরিবর্তনের নির্দেশ থাকলেও তা সব পুরোনো নথির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়।
আদেশে আরও বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্টের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক সহকারীকে ৬০ দিনের মধ্যে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’-এর একটি নতুন ফেডারেল আইনগত সংজ্ঞা প্রণয়নের জন্য প্রস্তাব জমা দিতে হবে। এতে বিদ্যমান আইনে ‘আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এর সংজ্ঞা সংশোধন বা সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।
নির্বাহী আদেশে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, বর্তমান উন্নত প্রযুক্তিব্যবস্থাগুলো কেবল মানুষের বুদ্ধিমত্তার নির্দিষ্ট দিক অনুকরণ বা স্বয়ংক্রিয় করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এগুলো মানুষের সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং বিজ্ঞান, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম। এ কারণেই প্রযুক্তিটির জন্য ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ পরিভাষাটিকে অধিক উপযুক্ত মনে করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
হোয়াইট হাউসে ইলন মাস্ক, মার্ক জাকারবার্গ, সুন্দর পিচাই ও জেনসেন হুয়াংয়ের মতো প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের পর এই নীতিগত উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা সামনে আসে। তবে নির্বাহী আদেশটি ওই বৈঠকের পরই নেওয়া হয়েছে—এমন সরাসরি কারণ-সম্পর্ক সরকারি নথিতে প্রতিষ্ঠিত নয়।
সূত্র: রয়টার্স, টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হোয়াইট হাউস