সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন এম এ হাইশান (৩৯) নামের এক যুবক। উদ্দেশ্য ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালীর এক তরুণীকে বিয়ে করা। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই দেশে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে। ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তরপার সাঁওতা গ্রামে। স্থানীয় প্রশাসন, […]
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের টানে চীন থেকে বাংলাদেশে ছুটে এসেছিলেন এম এ হাইশান (৩৯) নামের এক যুবক। উদ্দেশ্য ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালীর এক তরুণীকে বিয়ে করা। তবে মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিয়ে না করেই দেশে ফিরে যেতে হয়েছে তাকে।
ঘটনাটি ঘটেছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়নের উত্তরপার সাঁওতা গ্রামে। স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও পরিবারের হস্তক্ষেপে বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দুপুরে হাইশানকে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত থেকে আট মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কুমারখালীর এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর সঙ্গে হাইশানের পরিচয় হয়। নিয়মিত যোগাযোগের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। সেই সূত্র ধরে বুধবার চীন থেকে বাংলাদেশে এসে প্রেমিকার বাড়িতে পৌঁছান তিনি।
চাপড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল মঞ্জু জানান, বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেয়েটির বয়স এখনো বিয়ের উপযুক্ত হয়নি। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে ইউএনওর নির্দেশনায় চীনা যুবককে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম মোল্লা বলেন, অনলাইনের সম্পর্কের টানে একজন বিদেশি যুবক এত দূর থেকে গ্রামে চলে আসবে—এমন ঘটনা আগে কখনো দেখা যায়নি। বিষয়টি জানতে পেরে অনেক মানুষ তাকে দেখতে ভিড় করেন।
মেয়েটির মা বলেন, মেয়ের বয়স কম হওয়ায় বিয়ে দেওয়া সম্ভব হয়নি। বিদেশ থেকে আসা অতিথিকে যথাসাধ্য আপ্যায়ন করা হয়েছে। পরে প্রশাসনের সহায়তায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
ওই কিশোরী জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিচয় হয়েছিল। ভাষাগত কারণে চীনা যুবকের সঙ্গে সরাসরি খুব বেশি কথা বলা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, “তার নাম ছাড়া আর তেমন কিছু জানতাম না। তবে সে মুসলিম। বিয়ের জন্য বাংলাদেশে চলে আসবে, সেটাও ভাবিনি।”
বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় কথা বলতে না পারা হাইশান বলেন, তিনি চীনের গানসু প্রদেশ থেকে এসেছেন। বাংলাদেশে এসে বিয়ে করতে চাইলেও আইনি জটিলতার কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, “আমি এখন চীনে ফিরে যাচ্ছি। যদি সুযোগ থাকে, ভবিষ্যতে আবার বাংলাদেশে আসব।”
হাইশান আরও দাবি করেন, তাদের সম্পর্ক প্রায় তিন মাসের। তিনি বলেন, “আমি দেড় বছর পরে আবার ফিরে আসতে চাই। তখন যদি সবকিছু ঠিক থাকে, আমি তাকে বিয়ে করতে চাই।”
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, মেয়েটি অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় বিয়ের কোনো সুযোগ ছিল না। বিষয়টি বুঝিয়ে চীনা নাগরিককে নিরাপদে ঢাকায় ফেরত পাঠানো হয়েছে।