সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
১:১৭ অপরাহ্ন, ১৮ আগস্ট ২০২৬

আস্ত খাসি না থাকায় বিয়ে ভেঙে গেল, বরপক্ষকে ফিরিয়ে দিলেন কনের পরিবার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের জন্য আস্ত খাসি না রাখাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে বিয়ে ভেঙে গেছে। কনের পরিবারের অভিযোগ, এ নিয়ে বরের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তিনি তার ভাইকে ‘তুই বিয়ে কর’ বলে মন্তব্য করেন। পরে কনের পরিবার ওই যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বরপক্ষকে বাড়ি থেকে বিদায় করে। […]

আস্ত খাসি না থাকায় বিয়ে ভেঙে গেল, বরপক্ষকে ফিরিয়ে দিলেন কনের পরিবার

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিয়ের অনুষ্ঠানে বরের জন্য আস্ত খাসি না রাখাকে কেন্দ্র করে কথা-কাটাকাটির জেরে বিয়ে ভেঙে গেছে। কনের পরিবারের অভিযোগ, এ নিয়ে বরের সঙ্গে তর্কের একপর্যায়ে তিনি তার ভাইকে ‘তুই বিয়ে কর’ বলে মন্তব্য করেন। পরে কনের পরিবার ওই যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বরপক্ষকে বাড়ি থেকে বিদায় করে।

সোমবার (১৮ আগস্ট) উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের তোলাতালা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বরও পরে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঘটনার বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কসবার নিয়ামতপুর গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে জুনায়েদ মিয়ার সঙ্গে আখাউড়ার তোলাতালা গ্রামের সফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার মেয়ে রাশেদা আক্তারের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। নির্ধারিত দিনে দুপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে বরপক্ষ কনের বাড়িতে যায়। সেখানে বরকে ফুল দিয়ে বরণ করা হলেও ফুলের তোড়া নিয়ে জুনায়েদ অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

পরে বরপক্ষের প্রায় ১৫০ জনসহ দুই পক্ষের আত্মীয়স্বজনের খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার অংশ হিসেবে বর, তার ভাই ও চাচার জন্য তিনটি বড় ডালায় বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হয়। সেখানে আস্ত খাসি না থাকায় জুনায়েদ আপত্তি জানান। এ নিয়ে কনেপক্ষের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়।

কনের পরিবারের ভাষ্য, এ ঘটনার পর তারা বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একপর্যায়ে উপহারসামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কারসহ বরপক্ষকে বাড়ি থেকে ফিরে যেতে বলা হয়।

কনের বাবার বক্তব্য

কনের বাবা সফিকুল ইসলাম বলেন, খাবারে আস্ত খাসি না থাকায় বর আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটি হলে তিনি বরকে জানান, আগে থেকে আস্ত খাসি দেওয়ার কথা বলা হয়নি। বিয়ের পরের অনুষ্ঠানে আস্ত খাসি খাওয়ানোর কথাও জানানো হয়েছিল।

তার দাবি, বরের ভাই জুনায়েদকে শান্ত করার চেষ্টা করলেও একপর্যায়ে জুনায়েদ তাকে ‘তুই বিয়ে কর’ বলে মন্তব্য করেন। এরপরই তিনি ওই যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং বরপক্ষকে ফিরিয়ে দেন।

বরের ভিন্ন দাবি

অন্যদিকে, মঙ্গলবার সকালে নিজের ফেসবুক পোস্টে জুনায়েদ মিয়া ঘটনার ভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, খাওয়া-দাওয়া শেষে কনেপক্ষ পূর্বনির্ধারিত পরিমাণের তুলনায় ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবি করে। তিনি ও তার পরিবার এতে রাজি না হওয়ায় কথা-কাটাকাটি শুরু হয় এবং পরে তাদের বিয়ের আসর থেকে বের করে দেওয়া হয়।

তবে তার এই দাবির বিষয়ে কনেপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্যের বক্তব্য

ধরখার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আশিক মিয়া বলেন, তিনি ঘটনাটি শুনেছেন। তার ভাষ্য, খাবার নিয়ে বর খারাপ আচরণ ও বেয়াদবি করায় কনের বাবা ওই যুবকের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দেবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেন। পরে সব জিনিসপত্রসহ বরপক্ষকে চলে যেতে বলা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা

ঘটনাটি বর নিজেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরার পর তা নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে অনেকে বরের বক্তব্যের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

আসলাম মিয়া নামে একজন মন্তব্য করেন, বিয়েতে কাবিনসহ দেনা-পাওনার বিষয়গুলো সাধারণত আগেই নির্ধারণ করা হয়, যাতে বিয়ের সময় জটিলতা তৈরি না হয়। তিনি পূর্বনির্ধারিত অঙ্কের চেয়ে ১০ গুণ বেশি কাবিন দাবির বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

অন্যদিকে জাহিদুল ইসলাম নামে আরেকজন মন্তব্য করেন, বরযাত্রীদের মধ্যকার কয়েকজনও নাকি ঘটনার জন্য বরপক্ষকেই দায়ী করছেন। ভুল হলে তা স্বীকার করায় দোষের কিছু নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঘটনার দুই পক্ষের বক্তব্যে ভিন্নতা থাকায় আস্ত খাসি নিয়ে বিরোধ নাকি কাবিনের অর্থ নিয়ে বিরোধ—বিয়ে ভেঙে যাওয়ার মূল কারণ কোনটি, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ