জাতীয় ঐকমত্য কমিশন মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা হস্তান্তর করেছে। এই সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কমিশনের সমাপনী বৈঠক গতকাল (২৭ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা […]
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রস্তাবনা হস্তান্তর করেছে। এই সুপারিশ অন্তর্বর্তী সরকারের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশব্যাপী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও জবাবদিহিমূলক শাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
কমিশনের সমাপনী বৈঠক গতকাল (২৭ অক্টোবর) বিকেলে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রধান উপদেষ্টা ও কমিশন সভাপতি ড. মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে সহ-সভাপতি আলী রীয়াজসহ কমিশনের অন্যান্য সদস্য এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার উপস্থিত ছিলেন। তারা জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবনাগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
জুলাই জাতীয় সনদ, যা ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিএনপি, জামায়াতসহ মোট ২৪টি রাজনৈতিক দল ও জোটে প্রথম ধাপে স্বাক্ষরিত হয়, দেশের রাজনৈতিক সংকট নিরসনে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর দুই দিন পর গণফোরামও এই সনদে স্বাক্ষর করে। যদিও এখনো এনসিপিসহ কিছু বাম দল সনদে স্বাক্ষর করেনি, যা এখনও দেশীয় রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ ঐক্যের পথে বাধা হিসেবে রয়ে গেছে।
জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ২০২৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তার প্রথম বৈঠক থেকে বাংলাদেশে একটি স্থায়ী ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনের লক্ষ্যে কাজ করে আসছে। কমিশনের সহ-সভাপতি আলী রীয়াজ জানিয়েছেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি আইনজ্ঞ, বিচারপতি, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যাপক আলোচনার মাধ্যমে সুপারিশগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছে।’ এই সুপারিশগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের রাজনৈতিক প্রক্রিয়া আরো স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও অংশগ্রহণমূলক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়েছে।
এই প্রস্তাবনার গুরুত্ব শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতাকে আরও নিশ্চিত করবে। বিশেষত, আগামী নির্বাচন ও শাসন ব্যবস্থায় এটি একটি মাইলফলক হয়ে দাঁড়াতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করবে।