যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ড. আবদুল আল-সাইয়েদকে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের কারণে আক্রমণ করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা। নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আল-সাইয়েদের। গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানের পোর্ট হুরনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনী […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে। ডেমোক্রেটিক প্রার্থী ড. আবদুল আল-সাইয়েদকে তাঁর ধর্মীয় পরিচয় ও বিশ্বাসের কারণে আক্রমণ করছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ রিপাবলিকান নেতারা। নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে আল-সাইয়েদের।
গত ২৫ অক্টোবর মিশিগানের পোর্ট হুরনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের পক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে আল-সাইয়েদকে ‘জিহাদি’ এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য বলে আখ্যা দেন ট্রাম্প। তাঁর বিরুদ্ধে সন্ত্রাসীদের পক্ষ নেওয়ার অভিযোগও তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
ট্রাম্প আরও বলেন, আল-সাইয়েদ সিনেটর নির্বাচিত হলে তাঁকে সিনেটে প্রবেশের আগে মেটাল ডিটেক্টরের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার প্রসঙ্গ টেনেও তাঁর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন ট্রাম্প।
আল-সাইয়েদ ট্রাম্পের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর দাবি, নিজের নাম ও ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে এসব আক্রমণ চালানো হচ্ছে। মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা থাকার কথাও তিনি অস্বীকার করেছেন।
ট্রাম্পের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন আরব-আমেরিকানদের একটি সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিশারা বাহবাহ। তিনি বলেছেন, ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে একজন প্রার্থীকে এভাবে আক্রমণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়, প্রেসিডেন্টের মন্তব্য সীমা ছাড়িয়েছে।
ট্রাম্পের পাশাপাশি রিপাবলিকান দলের অন্য নেতারাও আল-সাইয়েদকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেছেন। টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ তাঁকে ‘জিহাদি লেপ্রিকন’ বলে কটাক্ষ করেন। আল-সাইয়েদের সঙ্গে মুসলিম ব্রাদারহুডের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে তাঁর সিনেটর হওয়ার সম্ভাবনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ক্রুজ।
অন্যদিকে, মিশিগানের রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সও আল-সাইয়েদের রাজনৈতিক অবস্থান ও সংগঠনগুলোর সঙ্গে তাঁর কথিত সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
আল-সাইয়েদ মনে করেন, স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং করপোরেট প্রভাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে ভোটারদের দৃষ্টি সরাতেই তাঁর ধর্মীয় পরিচয়কে নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রে আনা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, এসব বিষয়ে নীতিগত আলোচনা না করে প্রতিপক্ষ ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে আক্রমণ করছে।
ভারমন্টের সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও আল-সাইয়েদের পক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে এ ধরনের বক্তব্যের সমালোচনা করেন। তাঁর মতে, সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা, আবাসন ও আয়বৈষম্যের মতো বিষয় নিয়ে কথা না বলে বিভাজন ও বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে।
মিশিগানে জন্ম নেওয়া আবদুল আল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা। রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের সঙ্গে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিতা এখন দেশটির আলোচিত সিনেট নির্বাচনগুলোর একটি। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়বেন আল-সাইয়েদ।