সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

জাতীয়
১:৫৬ অপরাহ্ন, ১৮ আগস্ট ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্কের কিছু ভুল-বোঝাবুঝি ও বাধা দূর করে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব […]

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ভারতে স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে স্মরণীয় অভ্যর্থনা জানানো হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের সম্পর্কের কিছু ভুল-বোঝাবুঝি ও বাধা দূর করে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের দ্য ওয়েস্টিন হোটেলে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন দীনেশ ত্রিবেদী। বাংলাদেশ সফররত ভারতের শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন কনফেডারেশন অব ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রির (সিআইআই) উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সম্মানে ভারতীয় হাইকমিশন এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সিআইআইয়ের মহাপরিচালক চন্দ্রজিৎ ব্যানার্জিসহ বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন খাতের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং তাকে একজন চমৎকার জননেতা হিসেবে উল্লেখ করে নির্বাচনে বড় ব্যবধানে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিই প্রথম তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। এরপর ভারতের লোকসভার স্পিকার ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীও বাংলাদেশ সফর করেছেন। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভারতের আন্তরিকতার বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি সরাসরি দিল্লিতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত বৈঠকের প্রয়োজনীয়তার কথা বলা হয়েছে। তারেক রহমান ভারত সফরে গেলে তাকে তার প্রাপ্য সর্বোচ্চ সম্মানের সঙ্গে অভ্যর্থনা জানানো হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এই সফরের সুফল শেষ পর্যন্ত দুই দেশের সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গত ১০ আগস্ট তারেক রহমানের সঙ্গে প্রথমবার সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ওই বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে সপরিবার দিল্লি সফরের আমন্ত্রণ জানানোর কথা জানানো হয়। পরে দিল্লি সফর করে তিনি বাংলাদেশের বার্তাটি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছে দেন।

তবে তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা চললেও কয়েকটি বিষয়ে সমাধান না হওয়ায় সফরের ব্যাপারে বাংলাদেশ এখনো সম্মতি দেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ভুল-বোঝাবুঝি দূর করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে কিছু ভুল-বোঝাবুঝি বা বাধা তৈরি হলেও তা দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় বাধা হওয়া উচিত নয় বলে মন্তব্য করেন দীনেশ ত্রিবেদী।

তিনি বলেন, পরিবারেও ছোটখাটো মতবিরোধ হয়, কিন্তু সে কারণে সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায় না। দুই দেশের অভিন্ন ইতিহাস ও সংস্কৃতিকে সামনে রেখে সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দীর্ঘস্থায়ী যেকোনো সম্পর্কের ভিত্তি হলো শর্তহীন পারস্পরিক বিশ্বাস। প্রকৃত বন্ধু তারাই, যারা একে অপরের সমস্যাগুলো বুঝতে পারে। বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধান করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যকার দূরত্ব কমাতে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন ভারতের হাইকমিশনার।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে শুধু সীমান্তের সম্পর্ক নয়; দুই দেশের মানুষের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ নিয়েও অনেক মিল রয়েছে। অতীতের বিষয়গুলোকে সঙ্গে রেখে পুরোনো সমস্যাগুলোর সমাধান করে দুই দেশকে একসঙ্গে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

বাণিজ্য বাড়াতে ভিসা সহজ করার আহ্বান

অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, ভারত বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান বাণিজ্য অংশীদার। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য বাড়লেও তা এখনো কাঙ্ক্ষিত সম্ভাবনার তুলনায় কম এবং কাঠামোগতভাবে কিছুটা ভারসাম্যহীন।

তিনি বলেন, দুই দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানো, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের জন্য ভারতের বিজনেস ভিসা প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার আহ্বান জানান শামা ওবায়েদ। তার মতে, ভিসা প্রক্রিয়া সহজ হলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা আরও ঘন ঘন ভারতে গিয়ে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়াতে পারবেন।

চিকিৎসা পর্যটনে দুই দেশের সম্পর্ক ইতোমধ্যে শক্তিশালী উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন বেসরকারি খাতের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আরও নিয়মিত ও সহজ যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে দুই দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান, বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী, এফবিসিসিআইয়ের প্রশাসক ফজলুল হক, মেট্রো চেম্বারের সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম এবং বিভিন্ন শীর্ষ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ছিলেন।

দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর মাধ্যমে পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের ওপরই অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ