সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

অন্যান্য
৬:৪০ অপরাহ্ন, ৫ আগস্ট ২০২৬

প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ১৮ তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন তরুণী

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রেমিকের সঙ্গে তীব্র ঝগড়ার পর একটি ১৮ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়েও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। নিচে থাকা একটি গাছ তার পতনের গতি অনেকটা কমিয়ে দেওয়ায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান তিনি। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সাউথ চায়না মর্নিং […]

প্রেমিকের সঙ্গে ঝগড়ার জেরে ১৮ তলা থেকে লাফ, অলৌকিকভাবে বেঁচে গেলেন তরুণী

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

চীনের ঝেজিয়াং প্রদেশে প্রেমিকের সঙ্গে তীব্র ঝগড়ার পর একটি ১৮ তলা ভবন থেকে লাফ দিয়েও অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন ২০ বছর বয়সী এক তরুণী। নিচে থাকা একটি গাছ তার পতনের গতি অনেকটা কমিয়ে দেওয়ায় নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পান তিনি। তবে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত পেয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১২ জুলাই ভোরে জিয়াশিং শহরে এ ঘটনা ঘটে। ব্যক্তিগত গোপনীয়তার স্বার্থে তরুণীর প্রকৃত নাম প্রকাশ না করে তাকে ‘শিয়াওই’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের দাবি, কয়েক মাস ধরে প্রেমিকের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েন চলছিল। শিয়াওই ইতোমধ্যে সম্পর্কটি শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এবং নিজ শহর ইউনানে ফিরে যাওয়ার জন্য ট্রেনের টিকিটও কেটেছিলেন। তবে তার প্রেমিক তাকে যেতে বাধা দেন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার রাতে দুজনের মধ্যে দীর্ঘ সময় ধরে তর্ক-বিতর্ক হয়। একপর্যায়ে প্রেমিক তার মোবাইল ফোন ও পরিচয়পত্র নিয়ে নেন এবং অ্যাপার্টমেন্টের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে দেন। সেখান থেকে বের হওয়ার অন্য কোনো পথ না পেয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় তিনি ভবনের বারান্দা থেকে লাফ দেন।

নিচে থাকা একটি বড় গাছ তার পতনের ধাক্কা অনেকটাই শোষণ করে নেয়। পরে তিনি ঝোপের ওপর পড়ে গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান। ঘটনার পর তার প্রেমিকই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান এবং প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য কিছু অর্থ পরিশোধ করেন।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তরুণীর মাথা, ফুসফুস, যকৃত ও প্লীহায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। এছাড়া তার শ্রোণি, পায়ের হাড়সহ শরীরের একাধিক অংশ ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে দুটি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। তবে অর্থের অভাবে পরবর্তী চিকিৎসা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

পরিবার জানায়, শিয়াওইয়ের মায়ের ক্যানসারের চিকিৎসায় আগেই তাদের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে তরুণীর চিকিৎসা ব্যয় এক লাখ ইউয়ানেরও বেশি ছাড়িয়েছে। এ কারণে অনলাইনে অর্থ সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে অনেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন।

এদিকে, ঘটনার পর শিয়াওইয়ের পরিবার তার প্রেমিককে হাসপাতালে দেখা করার অনুমতি দেয়নি। পরিবারের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কয়েকবার হাসপাতালে প্রবেশের চেষ্টা করেন। পরে পুলিশ এসে তাকে সেখান থেকে চলে যেতে বলে।

শিয়াওইয়ের এক স্বজন বলেন, যেখানে তিনি পড়েছিলেন, সেখান থেকে কয়েক ফুট দূরেই ছিল শক্ত কংক্রিটের মেঝে। সেখানে পড়লে তার বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় ছিল না বললেই চলে।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট (SCMP)

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ