সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
১০:২৯ পূর্বাহ্ন, ৭ অক্টোবর ২০২৫

বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বিদ্যুতের শক দিয়ে হত্যায় স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড

বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার এক দুঃখজনক ঘরোয়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় স্বামী, তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়ের জামাইকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। আদালতের বিচারক বেগম লায়লাতুল ফেরদৌস দুপুর ২টায় রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা […]

বরগুনায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে বিদ্যুতের শক দিয়ে হত্যায় স্বামীসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত মঙ্গলবার (৭ অক্টোবর) বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার এক দুঃখজনক ঘরোয়া হত্যাকাণ্ডের মামলায় স্বামী, তার দ্বিতীয় স্ত্রী ও মেয়ের জামাইকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

আদালতের বিচারক বেগম লায়লাতুল ফেরদৌস দুপুর ২টায় রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন কবির তালুকদার (৫৯), তার দ্বিতীয় স্ত্রী এলাচী বেগম (৫০) এবং এলাচীর ছেলে সুজন (৪০)। তারা সবাই পাথরঘাটা উপজেলার রায়হানপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, প্রায় ৩০ বছর আগে কবির তালুকদার প্রথম স্ত্রী মহিমা বেগমকে বিয়ে করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তিনি যৌতুকের জন্য মহিমাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এছাড়া, কবিরের দ্বিতীয় স্ত্রী এলাচী বেগমের সঙ্গে তার কন্যা রেখা বেগমের শাশুড়ির অনৈতিক সম্পর্ক ছিল। এই সম্পর্কের তথ্য প্রকাশ পেলে রেখা নির্যাতনের শিকার হন এবং পরবর্তীতে রাগ ও হতাশায় আত্মহত্যা করেন।

রেখার মৃত্যুর ৩-৪ বছর পর কবির তালুকদার তার দ্বিতীয় স্ত্রী এলাচী বেগমকে বিয়ে করেন, যা প্রথম স্ত্রী মহিমার পক্ষে মেনে নেয়া কঠিন ছিল। এর পর থেকে যৌতুকের চাপ সহ্য করতে না পেরে মহিমা বেগমের ওপর নির্যাতন বৃদ্ধি পায়। এক পর্যায়ে তিনি বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন, যদিও জীবিত ছিলেন।

২০১৯ সালের ২৫ অক্টোবর পরিকল্পিতভাবে বৈদ্যুতিক শক দিয়ে মহিমা বেগমকে হত্যা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামী কবির তালুকদার ও নিহত মহিমার ছেলে হেলাল তালুকদার এই হত্যা মামলার বাদী। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর হোসনেয়ারা শিপু জানান, সাক্ষ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে পরিকল্পিত এই হত্যাকাণ্ড প্রমাণিত হওয়ায় আদালত কঠোর শাস্তির রায় দিয়েছেন।

এই রায় সমাজে যৌতুক নিরোধে শক্ত বার্তা হিসেবে কাজ করবে। যৌতুক ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ও কঠোর অবস্থানের প্রয়োজনীয়তাকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করেছে এই রায়।

এই ঘটনায় পরিবারের ভিতরে থাকা দ্বন্দ্ব ও অনৈতিক সম্পর্কের কারণে ঘরোয়া হিংসা কতটা ভয়াবহ পর্যায়ে যেতে পারে তা স্পষ্ট হয়। নারীর নিরাপত্তা এবং সম্মানের জন্য কঠোর আইন প্রয়োগ এবং সামাজিক সচেতনতা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।

পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

রায় ঘোষণার পর হেলাল তালুকদার বলেন, “আদালতের রায়ে আমি সন্তুষ্ট। আমার মায়ের হত্যাকারীদের ফাঁসির রায় পেয়ে আমি আইনকে শ্রদ্ধা জানাই।”

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ