বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম তদারকি ও নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া হালনাগাদ বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে এ আহ্বান জানান। ভলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত […]
ছবি: সংগৃহীত
বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম তদারকি ও নজরদারির জন্য একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠান গঠনের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) হিউম্যান রাইটস কাউন্সিলের ৬৩তম অধিবেশনে বৈশ্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেওয়া হালনাগাদ বক্তব্যে বাংলাদেশের প্রসঙ্গ তুলে এ আহ্বান জানান।
ভলকার তুর্ক বলেন, বাংলাদেশে নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী ও স্বাধীন জাতীয় প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন রয়েছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তর দীর্ঘদিন ধরে আহ্বান জানিয়ে আসছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে সামরিক ধাঁচের চিন্তাভাবনা বা মনোভাব মোকাবিলায় তার দপ্তর বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।
ভলকার তুর্ক আরও বলেন, জাতীয় নিরাপত্তার নামে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে অনেক দেশেই অস্বস্তি রয়েছে। এ ধরনের পুরোনো পদ্ধতি দীর্ঘমেয়াদে সরকারের জন্য বোঝা হয়ে উঠতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের বক্তব্যে বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে। স্বাধীন একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান থাকলে নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকাণ্ডের ওপর কার্যকর নজরদারি এবং জবাবদিহির সুযোগ আরও বাড়বে বলে মনে করছে জাতিসংঘ।
২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের পর বাংলাদেশ সফর করেছিলেন ভলকার তুর্ক। সে সময় তিনি নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, মানবাধিকার নিশ্চিত করা এবং অতীতে দমন-পীড়নের শিকার ব্যক্তিদের বিচারিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
এর পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তুর্ক আন্দোলনে অংশ নেওয়া বিক্ষোভকারীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা ও নিরাময়ের পথে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক দপ্তরের অঙ্গীকারের কথাও জানান তিনি।
বর্তমান বক্তব্যে বাংলাদেশে নিরাপত্তা ও আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি স্বাধীন জাতীয় পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর আবারও গুরুত্ব দিলেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার।