বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন দেখছিল নিজস্ব আধুনিক টেকনিক্যাল সেন্টার গড়ার। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় এক পদক্ষেপ হিসেবে ফিফা থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ফান্ড পাওয়ার খবর এসেছে। এই অর্থের মাধ্যমে কক্সবাজারে ফুটবলের জন্য একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, যেখানে থাকছে ঘাসের মাঠ, কৃত্রিম টার্ফ, জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল এবং ফুটবলারদের […]
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) দীর্ঘদিন ধরে স্বপ্ন দেখছিল নিজস্ব আধুনিক টেকনিক্যাল সেন্টার গড়ার। সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় এক পদক্ষেপ হিসেবে ফিফা থেকে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ফান্ড পাওয়ার খবর এসেছে। এই অর্থের মাধ্যমে কক্সবাজারে ফুটবলের জন্য একটি আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, যেখানে থাকছে ঘাসের মাঠ, কৃত্রিম টার্ফ, জিমনেশিয়াম, সুইমিং পুল এবং ফুটবলারদের জন্য একাডেমিক ভবন। তবে নির্মাণ কাজ আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শুরু না হলে এই বরাদ্দ ফান্ড ফেরত যাওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তবে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া সম্প্রতি আশ্বস্ত করেছেন যে, ফান্ড ফেরত যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই এবং তারা যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে প্রকল্পটি সময়মতো বাস্তবায়ন নিশ্চিত করবেন।
টেকনিক্যাল সেন্টারের গুরুত্ব
বাফুফে প্রতিষ্ঠার ৫৩ বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তাদের নিজস্ব মাঠ ছিল না। এটি ছিল বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নের একটি বড় প্রতিবন্ধকতা। ফিফা থেকে পাওয়া এই অর্থায়ন সেই দীর্ঘদিনের অভাব পূরণে এক বিশাল ধাপ হতে যাচ্ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এই সেন্টার রপ্তানিমুখী ফুটবলার গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত খুলবে।
বর্তমানে দেশের ফুটবল প্রজন্ম আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত ছিল। এই কেন্দ্র থেকে গড়ে উঠবে দক্ষ ও সুগঠিত খেলোয়াড়, যারা বিশ্বমঞ্চে দেশের পতাকা উঁচু করবে। শুধু খেলোয়াড়দের উন্নতি নয়, প্রশিক্ষক ও কোচদের জন্যও এটি হবে আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।
প্রকল্পের অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
প্রায় তিন বছর আগে ‘সেন্টার ফর এক্সিলেন্স’ নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছিল বাফুফে। প্রথমে কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালংয়ে ২০ একর জমি বরাদ্দ পাওয়া গেলেও পরিবেশগত ও অন্যান্য কারণবশত সেখানে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে একই উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের ধলিরছড়ায় প্রায় ১৫ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়। বর্তমানে প্রকল্পটি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। অনুমোদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্মাণ কাজ শুরু হবে বলে জানানো হয়েছে।
উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব বলেন, “ভূমি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে আমরা প্রকল্পটিকে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাবো। ফান্ড ফেরত যাওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। আমরা নিশ্চিত করতে চাই বাফুফের এই উদ্যোগ সফল হবে।”
প্রভাব ও দেশের ফুটবলের জন্য গুরুত্ব
এই প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন বাংলাদেশের ফুটবল উন্নয়নে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে উঠলে দেশের তরুণ ফুটবলাররা আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ পাবে। এটি শুধু খেলোয়াড়দের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে না, বরং দেশের ফুটবল খেলার মানও উন্নত হবে।
ফিফা থেকে প্রাপ্ত অর্থায়ন ব্যবহার করে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নিজস্ব অবকাঠামো গড়ে তোলার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হবে। এতে করে ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থান শক্তিশালী হবে এবং নতুন প্রজন্মের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ সৃষ্টি হবে।
যারা বাংলাদেশের ফুটবলকে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই খবর অত্যন্ত আনন্দদায়ক। এটি শুধু একটি নির্মাণ প্রকল্প নয়, বরং দেশের ক্রীড়া উন্নয়নের লক্ষ্যে একটি বড় পদক্ষেপ। ফুটবলের প্রতি আগ্রহী তরুণরা এখন আরও উৎসাহিত হতে পারবেন, কারণ তারা আধুনিক সুযোগ-সুবিধার মধ্যে থেকে নিজেদের প্রতিভা বিকাশ করতে পারবে।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাফুফে এবং ফিফার এই যৌথ উদ্যোগ দেশের ক্রীড়া খাতে একটি শক্তিশালী মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।