যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। ফেডারেল তদন্তে বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, হোম হেলথ এজেন্সি, থেরাপি সেন্টার এবং স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেখিয়ে কিংবা অতিরঞ্জিত বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পর রোগীদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রে মেডিকেয়ার ও মেডিকেইড কর্মসূচিকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক বড় জালিয়াতির ঘটনা সামনে এসেছে। ফেডারেল তদন্তে বিভিন্ন চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান, হোম হেলথ এজেন্সি, থেরাপি সেন্টার এবং স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দেখিয়ে কিংবা অতিরঞ্জিত বিল জমা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার পর রোগীদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবা খাতে স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
মিশিগানে কর্মরত এক বাংলাদেশি চিকিৎসক, যিনি নাম প্রকাশ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন, বলেন—অনেক রোগীই জানেন না তাদের নামে ঠিক কী ধরনের চিকিৎসা বা সেবার বিল মেডিকেয়ার কিংবা মেডিকেইডে পাঠানো হচ্ছে। যেহেতু বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীদের নিজ পকেট থেকে অর্থ ব্যয় করতে হয় না, তাই অনেকে এসব তথ্য যাচাই করার প্রয়োজন মনে করেন না। অথচ এসব অর্থ শেষ পর্যন্ত সরকারি তহবিল তথা করদাতাদের অর্থ থেকেই পরিশোধ করা হয়।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন তদন্তে দেখা গেছে, কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান চিকিৎসাগতভাবে প্রয়োজন নেই এমন পরীক্ষা-নিরীক্ষা, থেরাপি কিংবা হোম হেলথ সেবা দীর্ঘদিন চালিয়ে গিয়ে সরকারি স্বাস্থ্যবীমা কর্মসূচি থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করেছে। যদিও অধিকাংশ চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান সৎভাবে দায়িত্ব পালন করেন, তবে অল্প কিছু অনিয়ম পুরো ব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, রোগীদের উচিত প্রতিটি চিকিৎসা বা সেবার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রাখা। উদাহরণ হিসেবে, সামান্য আঘাত বা মচকে যাওয়ার মতো সমস্যার জন্য সীমিত সময়ের চিকিৎসাই যথেষ্ট হতে পারে। কিন্তু যদি দীর্ঘ সময় ধরে একই ধরনের পরীক্ষা, মূল্যায়ন বা থেরাপি চালিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে রোগী ও তার পরিবারের অধিকার রয়েছে জানতে চাওয়ার—এসব সেবা কেন প্রয়োজন, কে অনুমোদন দিয়েছেন এবং এর বিপরীতে কত অর্থের বিল জমা দেওয়া হচ্ছে।
হোম হেলথ ও পুনর্বাসনমূলক সেবার ক্ষেত্রেও একই ধরনের সতর্কতা প্রয়োজন। চিকিৎসার প্রয়োজন শেষ হওয়ার পরও যদি মাসের পর মাস একই সেবা চালু থাকে, তবে তার যৌক্তিকতা সম্পর্কে প্রশ্ন তোলা উচিত। অনেক সময় রোগীরা না বুঝেই বিভিন্ন নথিতে স্বাক্ষর করেন, যা পরবর্তীতে অতিরিক্ত বিলিংয়ের সুযোগ তৈরি করে।
বাংলাদেশি অভিবাসী কমিউনিটির অনেক প্রবীণ ব্যক্তি ভাষাগত সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র বা বিলিং তথ্য পুরোপুরি বুঝতে পারেন না। এ কারণে পরিবার ও স্বজনদেরও এ বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরি, যাতে কারও নামে অপ্রয়োজনীয় বা গ্রহণ না করা সেবার বিল করা না হয়।
চিকিৎসা গ্রহণের আগে ও পরে নিজের চিকিৎসা পরিকল্পনা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা, অপ্রয়োজনীয় মনে হলে প্রশ্ন করা এবং নিয়মিত মেডিকেয়ার বা মেডিকেইডের বিলিং স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদি কোনো রোগী এমন কোনো সেবা বা চিকিৎসার বিল দেখতে পান যা তিনি বাস্তবে গ্রহণ করেননি, তাহলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মেডিকেয়ার ও মেডিকেইডের অর্থ মূলত জনগণের করের টাকা। তাই অপ্রয়োজনীয় চিকিৎসা, অতিরঞ্জিত বিলিং কিংবা প্রতারণামূলক দাবি শুধু সরকারি তহবিলের ক্ষতিই করে না, বরং প্রকৃত রোগীদের জন্য বরাদ্দ সম্পদের ওপরও বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে।
সচেতনতা, প্রয়োজন হলে প্রশ্ন করার অভ্যাস এবং নিজের চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত যাচাই করার মাধ্যমেই এ ধরনের অনিয়ম অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।