রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা লুটের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা ও একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। অভিযুক্তদের ধরতে গেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় ছিনতাইকারীরা। এতে আদাবর থানার ওসি ও এক এসআই আহত হন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে দুই সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়। পুলিশ […]
ছবি: সংগৃহীত
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর এলাকায় বিকাশ এজেন্টকে কুপিয়ে টাকা লুটের ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন পুলিশের এক কর্মকর্তা ও একজন উপপরিদর্শক (এসআই)। অভিযুক্তদের ধরতে গেলে ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর চড়াও হয় ছিনতাইকারীরা। এতে আদাবর থানার ওসি ও এক এসআই আহত হন। পরে পুলিশের পাল্টা গুলিতে দুই সন্দেহভাজন ছিনতাইকারী গুলিবিদ্ধ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আদাবরের শেখেরটেক ৭ নম্বর সড়কে শফিকুল ইসলাম নামে এক বিকাশ এজেন্টের দোকানে হামলা চালায় ৪ থেকে ৫ জনের একটি দল। চাপাতির মুখে তাকে জখম করে ক্যাশে থাকা প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা ও লেনদেনের মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
গুরুতর আহত শফিকুল ইসলামকে উদ্ধার করে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে পুলিশ। বিকেল ৪টার দিকে আদাবর থানার ওসি মো. জাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি দল বেড়িবাঁধসংলগ্ন ডেল্টা গার্মেন্টসের পেছনের এলাকায় অভিযান চালায়।
পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় সন্দেহভাজন ছিনতাইকারীরা আত্মসমর্পণ না করে চাপাতি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়। এতে ওসি জাহিদুল ইসলাম এবং এসআই তরুণ আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে দুই সন্দেহভাজন গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ‘চোরা রুবেল’ ও ‘কানা আমির’ নামে পরিচিত দুইজন এবং তাদের সহযোগী কাশেম ও জয় রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, অভিযানের সময় পুলিশের ওপর প্রাণঘাতী হামলা হওয়ায় আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে চক্রটির আরও সদস্যদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আদাবর, মোহাম্মদপুর, ঢাকা উদ্যান, চন্দ্রিমা হাউজিং ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে কয়েকটি সংঘবদ্ধ কিশোর ও তরুণ গ্যাং সক্রিয় রয়েছে। এসব গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা এবং জমি দখলের অভিযোগও রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাদের তৎপরতা নিয়ে নানা অভিযোগ ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।