আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। তার ভাষ্য, ভোট গ্রহণের পর সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতেই ব্যালট গণনা করা হবে এবং সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত […]
ছবি: সংগৃহীত
আগামী বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) অনুষ্ঠেয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনী কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। তার ভাষ্য, ভোট গ্রহণের পর সংসদ সদস্যদের উপস্থিতিতেই ব্যালট গণনা করা হবে এবং সবার সামনে ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
বুধবার (১৯ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন সিইসি। তিনি বলেন, পুরো প্রক্রিয়াটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে ভোট ও ফলাফল নিয়ে কোনো ধরনের প্রশ্ন না থাকে।
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে নাসির উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৯১ সালে সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। দীর্ঘ সময় পর এবার আবারও ভোট হওয়ায় নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক অভিজ্ঞতার কিছু ঘাটতি রয়েছে। তবে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও অনুশীলন সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সিইসি জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালিত হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে। সংসদের অধিবেশন না থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য সংসদ সদস্যদের বৈঠক আহ্বান করা যায়। সে অনুযায়ী ২০ আগস্টের ভোটের জন্য প্রয়োজনীয় গেজেটও প্রকাশ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হলেন সংসদ সদস্যরা। সংবিধানের ৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এবার মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোট দেবেন। নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের সময়সীমা শেষ হয়েছে।
১৩ আগস্ট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছিল। এর মধ্যে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি এবং ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র ছিল। যাচাই-বাছাই শেষে তিনটি মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। পরে প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে দুই প্রার্থীর মধ্যেই ভোট হবে।
সিইসি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোট গ্রহণ চলবে। ভোট শেষ হওয়ার পরপরই সেখানেই ব্যালট গণনা শুরু হবে।
গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন। ব্যালট কতটি ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার করা হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল বা নষ্ট হয়েছে—এসব তথ্য প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে প্রত্যেক প্রার্থী কত ভোট পেয়েছেন, তাও বিস্তারিতভাবে জানানো হবে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা হিসেবে সিইসি। পরে নির্বাচন কমিশন থেকে ওই দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।
নির্বাচনের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন নাসির উদ্দিন। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার দৃশ্য শুরুতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ টেলিভিশনের মাধ্যমে সম্প্রচারের সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোট গণনা শুরু হওয়ার সময়ও সরাসরি সম্প্রচার চালু করা হতে পারে বলে জানান সিইসি। এর ফলে ভোট গ্রহণ ও গণনার গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়গুলো সাধারণ মানুষও দেখতে পারবেন।
তবে কোনো সংসদ সদস্য ব্যক্তিগতভাবে কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, সেই তথ্য আলাদাভাবে প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছেন সিইসি।
নাসির উদ্দিন বলেন, ভোটার হিসেবে সংসদ সদস্যের নাম ব্যালটে থাকবে এবং প্রার্থীদের নামও থাকবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া উন্মুক্ত থাকলেও কোনো নির্দিষ্ট সদস্য কাকে ভোট দিয়েছেন, তা আলাদাভাবে ঘোষণা করার প্রয়োজন নেই।
দুই প্রার্থী নির্বাচনের আগে প্রচারণা চালাতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, ভোটের দিন সংসদ কক্ষের ভেতরে প্রচার-প্রচারণার সুযোগ থাকবে না। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারণা চালানোর বিষয়ে তার আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।
নাসির উদ্দিন বলেন, নির্বাচনটি ঐতিহাসিক হওয়ায় প্রস্তুতির ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনা করা হয়েছে। সুষ্ঠু, সুন্দর ও নির্বিঘ্নভাবে ভোট গ্রহণ শেষ করার জন্য নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিয়েছে।
আগামী ২০ আগস্টের ভোটে ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার হিসেবে অংশ নেবেন। ভোট গ্রহণ শেষে সংসদ কক্ষেই গণনা ও ফলাফল ঘোষণার মাধ্যমে শেষ হবে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।