সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

সারাবাংলা
২:২১ অপরাহ্ন, ২৮ এপ্রিল ২০২৬

হাঁটু পানিতে বেঞ্চে পা তুলে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিল শিক্ষার্থীরা

মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল কেন্দ্রেও চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হাঁটু সমান নোংরা পানির মধ্যেই এসএসসি পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার সকালে স্বল্প সময়ের প্রবল বৃষ্টিতে নগরীতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিপরীত পাশে […]

হাঁটু পানিতে বেঞ্চে পা তুলে বসে এসএসসি পরীক্ষা দিল  শিক্ষার্থীরা
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

মাত্র এক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে ঐতিহ্যবাহী ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল কেন্দ্রেও চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। হাঁটু সমান নোংরা পানির মধ্যেই এসএসসি পরীক্ষা দিতে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার সকালে স্বল্প সময়ের প্রবল বৃষ্টিতে নগরীতে ব্যাপক জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের বিপরীত পাশে অবস্থিত ঈশ্বর পাঠশালা স্কুল কেন্দ্রে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের চিত্র দেখা যায়। পরীক্ষা চলাকালীন কেন্দ্রের নিচতলার কয়েকটি কক্ষে হাঁটু সমান পানি জমে যায়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বেঞ্চের নিচে পানি জমে আছে, আর সেই নোংরা পানির মধ্যেই বসে পরীক্ষার্থীরা খাতায় লিখছেন। অনেকে বেঞ্চের ওপর পা তুলে কোনোভাবে পরীক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেন। অনেক শিক্ষার্থীর জামা-কাপড় ভিজে যায় এবং প্রশ্নপত্র ও খাতা ভিজে যাওয়ার আতঙ্কে তারা চরম উদ্বেগে পড়েন।

একাধিক পরীক্ষার্থী জানান, পানির মধ্যে বসে লেখা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়েছে। দীর্ঘ সময় পা পানিতে ডুবে থাকায় অবশ হয়ে আসছে এবং মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তারা বলেন, খাতা ভিজে যাওয়ার ভয়েও স্বাভাবিকভাবে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

কর্তব্যরত এক শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “আমরাও পানিতে দাঁড়িয়ে দায়িত্ব পালন করছি। শিক্ষার্থীদের কষ্ট দেখে খারাপ লাগছে, কিন্তু পরীক্ষা স্থগিতের কোনো নির্দেশনা নেই।”

কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষমাণ অভিভাবকদের মধ্যেও ক্ষোভ দেখা যায়। অভিভাবক আবু জাফর বলেন, “শিক্ষা বোর্ডের ঠিক পাশের একটি স্কুলে এমন অবস্থা মেনে নেওয়া যায় না। প্রতি বছর সামান্য বৃষ্টিতেই স্কুলটি পানিতে তলিয়ে যায়, কিন্তু ড্রেনেজ ব্যবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।”

আরেক অভিভাবক আনোয়ারা বেগম বলেন, “আমার ছেলে নোংরা পানিতে বসে পরীক্ষা দিচ্ছে। অসুস্থ হলে দায় কে নেবে?”

ঈশ্বর পাঠশালা স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুধাংশু কুমার মজুমদার বলেন, বিষয়টি প্রাকৃতিক কারণে হয়েছে। কেন্দ্র সচিবের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং শিক্ষার্থীদের সমস্যা কমানোর চেষ্টা চলছে।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, অতিবৃষ্টির কারণে ড্রেন ও খালে পানি প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা পানি অপসারণে কাজ করছেন এবং বিভিন্ন এলাকায় ময়লা ও পলিথিন পরিষ্কার করে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে ওয়ার্ডভিত্তিক শ্রমিক নিয়োগ দিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

কুমিল্লা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান জানান, মঙ্গলবার সকালে ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে এবং আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে কুমিল্লা জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম দাবি করেছেন, বৃষ্টির কারণে পরীক্ষায় কোনো বিঘ্ন ঘটেনি এবং নির্ধারিত সময়েই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের এমন দুর্ভোগ ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ