ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধকে ‘জাতীয় অপমান’ ও ‘ভয়াবহ ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর ক্রিস মারফি। তার অভিযোগ, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিবর্তে দেশটিকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে আলজাজিরা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে […]
ছবি: সংগৃহীত
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধকে ‘জাতীয় অপমান’ ও ‘ভয়াবহ ব্যর্থতা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেটর ক্রিস মারফি। তার অভিযোগ, এই যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাড়ানোর পরিবর্তে দেশটিকে আরও অনিরাপদ করে তুলছে। একই সঙ্গে যুদ্ধের প্রভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে খবর প্রকাশ করেছে আলজাজিরা।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মারফি এসব মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনছে না। বরং পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধে পিছিয়ে পড়ছে।
মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ তাকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি পরিদর্শন এবং সেখানে কর্মরত সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেননি বলেও অভিযোগ করেন মারফি। তার দাবি, যুদ্ধের প্রকৃত পরিস্থিতি আড়াল করতেই তাকে এসব স্থানে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
মারফি বলেন, ‘এই যুদ্ধ কোনো কাজে আসছে না। আমরা হেরে যাচ্ছি।’
যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি ও এর প্রকৃত ব্যয় সম্পর্কে মার্কিন জনগণকে অন্ধকারে রাখার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন এই সিনেটর। তার ভাষ্য, যুদ্ধের বাস্তব পরিস্থিতি প্রকাশ না করে তা আড়াল করার একটি প্রচেষ্টা চলছে, যাতে সাধারণ মানুষ এর প্রকৃত মূল্য ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে জানতে না পারে।
মারফির দাবি, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কয়েক শ কোটি ডলারে পৌঁছেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে তার এই দাবির পক্ষে বিস্তারিত হিসাব বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ধ্বংসযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র প্রকাশ এবং এ বিষয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন মারফি। তার মতে, সামরিক স্থাপনাগুলোর ক্ষয়ক্ষতির তথ্য গোপন রাখা হলে মার্কিন জনগণ যুদ্ধের প্রকৃত পরিণতি সম্পর্কে জানতে পারবে না।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সমালোচনা করে মারফি বলেন, ‘ট্রাম্প চান না মার্কিনিরা জানুক, এই যুদ্ধ কতটা ভয়াবহ ব্যর্থতায় পরিণত হয়েছে। সে কারণেই কংগ্রেসের একজন সদস্যকেও ক্ষয়ক্ষতি দেখতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না।’
মারফির এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধের ব্যয়, সামরিক ক্ষয়ক্ষতি এবং যুদ্ধসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের স্বচ্ছতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্কের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে সামরিক ঘাঁটিগুলোর ক্ষয়ক্ষতি ও তা পরিদর্শনে বাধা দেওয়ার বিষয়ে সিনেটরের অভিযোগের পাশাপাশি মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য বা স্বাধীন যাচাই করা তথ্য প্রতিবেদনে দেওয়া হয়নি।