জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনও অভিযান চলছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা হাজারো মানুষ নতুন সংকটের মুখে পড়েছেন। মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু বাড়িঘর, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। […]
ছবি: সংগৃহীত
জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৪ জনে পৌঁছেছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে এখনও অভিযান চলছে। একই সঙ্গে তীব্র গরমে আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা হাজারো মানুষ নতুন সংকটের মুখে পড়েছেন।
মঙ্গলবার কিউশু দ্বীপের কুমামোতো অঞ্চলে ৬ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে বহু বাড়িঘর, বিদ্যুৎ অবকাঠামো ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভূমিকম্পের পরপরই উদ্ধারকাজ শুরু হলেও ধসে পড়া ভবনগুলোর কারণে অভিযান জটিল হয়ে উঠেছে।
ভূমিকম্পে একটি শপিংমলের অংশ ধসে পড়ে হতাহতের ঘটনা ঘটে। এর প্রায় এক ঘণ্টা পর একই ভবনে একটি বিস্ফোরণও হয়। শপিংমল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এইওন (Aeon) জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গ্যাস থেকে বিস্ফোরণটি ঘটেছে। তবে প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে।
ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থাকা একটি ক্যাট ক্যাফে থেকে ২৫টি বিড়ালকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে উদ্ধারকারী দল।
এদিকে ভূমিকম্পে বাস্তুচ্যুত প্রায় ৯ হাজার মানুষ বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। তবে তাদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে তীব্র তাপপ্রবাহ। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিনে কুমামোতো অঞ্চলে তাপমাত্রা ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি ৩০০টি এয়ার কন্ডিশনার (এসি) সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ১৫০টি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে, যাতে বাস্তুচ্যুত মানুষ কিছুটা স্বস্তি পান।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত ৩০ হাজারের বেশি পরিবার বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন ছিল। অনেক এলাকায় পানির সরবরাহও বন্ধ রয়েছে।
একটি আশ্রয়কেন্দ্রের কর্মী ইউকিয়া সানৌয়ে বলেন, তাদের কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন, যাদের প্রায় ৩০ শতাংশ প্রবীণ। বিদ্যুৎ ও পানির সংকটের কারণে শুরুতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। পরে জেনারেটর চালু হলেও এর মধ্যে অনেকের মধ্যে হিটস্ট্রোকের উপসর্গ দেখা দেয় এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠাতে হয়েছে।
মূল ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১০০টির বেশি আফটারশক রেকর্ড করা হয়েছে। নতুন কম্পনের আশঙ্কায় অনেক মানুষ এখনও ঘরে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না। নিরাপত্তার জন্য অনেকে গাড়ির ভেতরেই রাত কাটাচ্ছেন।
উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে পাওয়া যায় কি না, সেই আশায় অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ ও উদ্ধারকর্মীদের অতিরিক্ত গরম থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
সূত্র: বিবিসি