শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কার ভাগাভাগি নিয়ে রসিকতা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভেনথাম নাভি পিল্লাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঐতিহাসিক নুরেমবার্গ বিচার শুরুর ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ রসিকতা করেন তিনি। নুরেমবার্গে যে আদালত প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ওই বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানেই আয়োজন করা […]
ছবি: সংগৃহীত
শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পুরস্কার ভাগাভাগি নিয়ে রসিকতা করেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার বিচারক ও মানবাধিকারকর্মী নাভেনথাম নাভি পিল্লাই। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ঐতিহাসিক নুরেমবার্গ বিচার শুরুর ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ রসিকতা করেন তিনি। নুরেমবার্গে যে আদালত প্রাঙ্গণে ঐতিহাসিক ওই বিচার অনুষ্ঠিত হয়েছিল, সেখানেই আয়োজন করা হয় অনুষ্ঠানটির।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ওই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নাভি পিল্লাই। সেখানেই তিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ের খবর পান। খবরটি নিশ্চিত হওয়ার পর সহকর্মীদের সামনে তাৎক্ষণিক বক্তব্য দিতে গিয়ে ট্রাম্পকে নিয়ে রসিকতা করেন তিনি।
পিল্লাই বলেন, ‘আপনারা যদি আরও একটু জোরে হাততালি দেন, তাহলে হয়তো এই পুরস্কার ট্রাম্পের সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারি।’ তাঁর এমন মন্তব্যে উপস্থিত সহকর্মীদের মধ্যে হাস্যরসের পরিবেশ তৈরি হয়।
বক্তব্যে মানবাধিকারকর্মী ও সহকর্মীদের সঙ্গে থাকার আনন্দের কথাও তুলে ধরেন পিল্লাই। তিনি বলেন, মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করেন এমন বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে থেকে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবরটি উদ্যাপন করা তাঁর জন্য যথাযথ হয়েছে।
তাঁর ভাষায়, ‘আমি মনে করি, বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে থাকাটা খুবই উপযুক্ত হয়েছে। তারা সবাই মানবাধিকারের পক্ষে কাজ করেন।’
সাম্প্রতিক কাজের প্রসঙ্গ তুলে পিল্লাই গাজা নিয়ে তৈরি একটি প্রতিবেদনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি জানান, ওই প্রতিবেদনে গাজায় চলমান পরিস্থিতিকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। পরিস্থিতি যাচাইয়ের কাজও প্রতিবেদনের অংশ ছিল বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে বিপুল প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলছে। এ পরিস্থিতিতে পিল্লাইয়ের বক্তব্যে মানবাধিকার রক্ষায় তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধান ও প্রতিবেদন তৈরির গুরুত্ব আবারও উঠে আসে।
নোবেল কমিটি তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছে—এ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বিস্ময় প্রকাশ করেন পিল্লাই। তিনি বলেন, ‘আপনারা কল্পনা করতে পারেন, আমি কতটা বিস্মিত হয়েছিলাম।’
এরপর তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘সত্য কথা বলার জন্য সাহসের প্রয়োজন হবে কেন?’
পিল্লাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, আইন ব্যাখ্যা করা এবং সব তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করাই তাঁর কাজ। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
নুরেমবার্গ বিচারের ৮০ বছর পূর্তির অনুষ্ঠানে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার খবর এবং সেখানে দেওয়া পিল্লাইয়ের বক্তব্যে মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন ও সত্য অনুসন্ধানের বিষয়গুলো বিশেষভাবে উঠে আসে।
সূত্র: সিএনএন