নিউইয়র্কের কুইন্সের লরেলটন এলাকায় বাড়ির অদূরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী হোসে স্কট। গুরুতর আহত অবস্থায় নিজের বাড়ির দিকে ফিরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেরিক বুলেভার্ড ও ২২১তম স্ট্রিটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) […]
নিউইয়র্কের কুইন্সের লরেলটন এলাকায় বাড়ির অদূরে ছুরিকাঘাতে নিহত হয়েছেন ৩৩ বছর বয়সী হোসে স্কট। গুরুতর আহত অবস্থায় নিজের বাড়ির দিকে ফিরে আসার পর পরিবারের সদস্যরা তাকে দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মেরিক বুলেভার্ড ও ২২১তম স্ট্রিটের কাছে এ ঘটনা ঘটে। নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগের (এনওয়াইপিডি) কর্মকর্তারা ২২০-২০ মেরিক বুলেভার্ডের সামনে এক ব্যক্তির ওপর হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে হোসে স্কটকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ছুরিকাঘাতের আঘাতসহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, স্কটের বাসা ছিল ঘটনাস্থল থেকে মাত্র কয়েক ধাপ দূরে, ২২০-২৬ মেরিক বুলেভার্ডে। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি কোনোভাবে নিজের বাড়ির দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। পরে তাকে জ্যামাইকা হাসপাতাল মেডিকেল সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তার মৃত্যু ঘোষণা করেন।
হোসের মা ডেবরা স্কট নিউইয়র্ক ডেইলিকে জানান, ছেলেকে বাড়ির সামনে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান তিনি। তখনও হোসে সচেতন ছিলেন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করছিলেন। পরিবারের কাছে শেষ মুহূর্তগুলো ছিল অত্যন্ত মর্মান্তিক।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেও হোসে স্বাভাবিকভাবেই পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়েছিলেন। মায়ের সঙ্গে বসে টেলিভিশনে বাস্কেটবল খেলা দেখেন এবং ভবিষ্যতে একসঙ্গে কী কী করবেন, তা নিয়েও কথা বলেন। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই পরিবারের ওপর নেমে আসে এই শোকের ঘটনা।
হোসে অবিবাহিত ছিলেন এবং তার দুই সন্তান রয়েছে। পরিবারের সদস্যরা তাকে একজন ভালো বাবা ও পরিবারকেন্দ্রিক মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে আরও সন্তান নেওয়ার ইচ্ছাও ছিল তার।
হোসের বোন কেতুরাহ চ্যাটম্যান জানান, হামলার সূত্রপাত হয় কাছের একটি লন্ড্রোম্যাটের সামনে। ছুরিকাঘাতে আহত হওয়ার পরও তার ভাই শেষ শক্তি দিয়ে বাড়ির সিঁড়ির কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছিলেন।
আরেক বোন শাকিয়েমা স্কট বলেন, হোসে ছিলেন একজন পরিশ্রমী ব্যক্তিগত প্রশিক্ষক। এলাকার অনেক তরুণের সঙ্গে কাজ করতেন তিনি এবং তাদের খারাপ পথ থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি জীবনে ভালো কিছু করার জন্য উৎসাহ দিতেন।
পরিবারের দাবি, স্থানীয় তরুণদের মধ্যে হোসের ভালো পরিচিতি ছিল এবং কমিউনিটির মানুষ তাকে পছন্দ করতেন। তার এমন আকস্মিক মৃত্যুতে স্বজন ও পরিচিতদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। হামলার কারণও এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের আশপাশের তথ্য ও সম্ভাব্য নজরদারি ফুটেজসহ বিভিন্ন সূত্র যাচাই করে হামলাকারীকে শনাক্তের চেষ্টা করছেন।
এনওয়াইপিডি জানিয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। কারও কাছে এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে তথ্য থাকলে ক্রাইমস্টপার্স হটলাইনে ১-৮০০-৫৭৭-টিপস নম্বরে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।