যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পান তিনি। নিউইয়র্ক টাইমস ভোট গণনার প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হওয়ার […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের আইনসভায় নির্বাচিত হয়েছেন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত আবের কাওয়াস। এর মধ্য দিয়ে তিনি অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান এবং প্রথম হিজাব পরা নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত মধ্যবর্তী নির্বাচনে নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনে ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে জয় পান তিনি।
নিউইয়র্ক টাইমস ভোট গণনার প্রায় ৯০ শতাংশ শেষ হওয়ার পর কাওয়াসকে বিজয়ী ঘোষণা করে। সে সময় তাঁর প্রাপ্ত ভোটের হার ছিল প্রায় ৭৫ শতাংশ। তবে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের নির্বাচন বোর্ডের সর্বশেষ প্রকাশিত অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা যায়, ১২ নম্বর আসনের ১৫০টি নির্বাচনী এলাকার সব কটির ফল প্রকাশিত হয়েছে। এতে কাওয়াস পেয়েছেন ৪৭ হাজার ২৯৪ ভোট, যা মোট ভোটের ৭০ দশমিক ১৩ শতাংশ। তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী হান-খোন তো পেয়েছেন ১৬ হাজার ১৬৫ ভোট বা ২৩ দশমিক ৯৭ শতাংশ।
কাওয়াসের নির্বাচনী প্রচারের স্লোগান ছিল ‘মর্যাদায় বিনিয়োগ, ধ্বংসের বিরুদ্ধে লড়াই’। তাঁর প্রচারের প্রধান বিষয়গুলোর মধ্যে ছিল সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা, সাশ্রয়ী আবাসন, উন্নত গণপরিবহন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, অভিবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং যুদ্ধের পেছনে সরকারি অর্থ ব্যয় বন্ধ করা।
তাঁর নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন জানান নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি, সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য রাশিদা তালাইব। কাওয়াস ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অব আমেরিকার (ডিএসএ) সদস্য।
রাজনীতিতে নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে আসার আগে ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে শ্রমিক, অভিবাসী ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন কাওয়াস। নিউইয়র্কে ‘নট অন আওয়ার ডাইম’ নামে একটি প্রচারাভিযান গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখেন তিনি। এর লক্ষ্য ছিল, অলাভজনক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ব্যবহার করে নিউইয়র্কভিত্তিক সংস্থাগুলো যেন অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করতে না পারে। এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি প্রস্তাব ২০২৩ সালে উত্থাপিত হলেও তা আইনে পরিণত হয়নি।
আবের কাওয়াস ব্রুকলিনে ফিলিস্তিনি শরণার্থী পরিবারের সন্তান হিসেবে জন্মগ্রহণ ও বেড়ে ওঠেন। তাঁর বাবা-মা ১৯৯০-এর দশকে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন। কাওয়াসের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর স্কুলজীবনে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ আইসিই তাঁর বাবাকে আটক করে এবং পরে জর্ডানে ফেরত পাঠায়। পরিবারের জীবনে ওই ঘটনা তাঁর অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করার আগ্রহকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
নিউইয়র্কের স্থানীয় ও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর সহযোগিতা সীমিত করার পক্ষেও অবস্থান নিয়েছেন কাওয়াস। এ ছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নিউইয়র্ক সফরের বিরোধিতা করে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন তিনি। ওই কর্মসূচিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরে ছেড়ে দেওয়া হয়।
নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২ নম্বর আসনটি কুইন্সের কয়েকটি এলাকা নিয়ে গঠিত। এর মধ্যে অ্যাস্টোরিয়া, সানিসাইড, উডসাইড, লং আইল্যান্ড সিটি, রিজউড, মাসপেথ, এলমহার্স্ট, গ্লেনডেল ও জ্যাকসন হাইটসের অংশ রয়েছে। আসনটির আগের সিনেটর মাইকেল জিয়ানারিস অবসরে যাওয়ায় এবার এটি শূন্য ছিল।
নিউইয়র্কের আইনসভায় কাওয়াসের এই জয় ফিলিস্তিনি-আমেরিকানদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা। একই সঙ্গে অঙ্গরাজ্যটির আইনসভায় হিজাব পরা নারীর নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে তাঁর অভিষেকও নতুন ইতিহাস তৈরি করেছে।