ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন সিনেটর জন ফেটারম্যানের পোশাক ও বসার ভঙ্গি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটনের ব্লেয়ার হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফেটারম্যানকে কালো রঙের একটি হুডি, ধূসর রঙের হাফপ্যান্ট এবং স্নিকার্স পরা অবস্থায় দেখা যায়। বৈঠকের একপর্যায়ে তিনি পায়ের ওপর পা তুলে বসেছিলেন, যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। বৃহস্পতিবার […]
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকে মার্কিন সিনেটর জন ফেটারম্যানের পোশাক ও বসার ভঙ্গি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ওয়াশিংটনের ব্লেয়ার হাউসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ফেটারম্যানকে কালো রঙের একটি হুডি, ধূসর রঙের হাফপ্যান্ট এবং স্নিকার্স পরা অবস্থায় দেখা যায়। বৈঠকের একপর্যায়ে তিনি পায়ের ওপর পা তুলে বসেছিলেন, যা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে ইসরায়েলের প্রতি নিজের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ডেমোক্র্যাটিক পার্টির এই সিনেটর। গাজা যুদ্ধ, হামাস এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও দুই নেতার মধ্যে আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে জন ফেটারম্যানকে ধন্যবাদ জানান বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ এবং দুই দেশের দীর্ঘদিনের মিত্রতার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে ফেটারম্যান ধারাবাহিকভাবে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ইসরায়েলের জনগণের পক্ষ থেকে তিনি এ জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে নিজের দল ডেমোক্র্যাটিক পার্টিরও সমালোচনা করেন ফেটারম্যান। তার দাবি, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলের কিছু অবস্থান তাকে হতাশ করেছে। বিশেষ করে নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ডেমোক্র্যাটিক পার্টির ভেতরে ইসরায়েলবিরোধী মনোভাবের বিরুদ্ধে তিনি ধারাবাহিকভাবে কথা বলে আসছেন।
ফেটারম্যান নিজেকে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির “বিবেকের কণ্ঠ” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ইসরায়েলকে সমর্থন করার জন্য তার কোনো অনুশোচনা নেই। সব পরিস্থিতিতেই তিনি ইসরায়েলের পাশে থাকবেন বলে পুনর্ব্যক্ত করেন।
গাজা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রসঙ্গেও নিজের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষায়, হামাস ও হিজবুল্লাহকে দুর্বল করা এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা মোকাবিলা করা প্রয়োজন ছিল। তিনি মন্তব্য করেন, অনেকেই এখন ভুলে গেছেন কেন এই যুদ্ধের সূচনা হয়েছিল।
জন ফেটারম্যানের পোশাক নিয়ে এর আগেও যুক্তরাষ্ট্রে বহুবার আলোচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত হওয়ার পরও তিনি প্রায়ই হুডি, শর্টস এবং সাধারণ পোশাকে প্রকাশ্যে উপস্থিত হয়েছেন। তার দাবি, পোশাক নয়, জনগণের প্রতিনিধিত্ব করাই একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির মূল দায়িত্ব।
ব্লেয়ার হাউসে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার এই বৈঠকের ছবি ও ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ তার সরল জীবনধারার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বৈঠকে এমন পোশাককে শিষ্টাচারবহির্ভূত বলেও মন্তব্য করেছেন।