পর্তুগালে জনসমক্ষে পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নতুন আইন অনুমোদন করা হয়েছে। বোরকা বা নিকাবের মতো পোশাকও এই আইনের আওতায় পড়তে পারে। তবে স্বাস্থ্য, পেশাগত কাজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবহাওয়া এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে। পর্তুগালের পার্লামেন্টে অনুমোদিত নতুন বিধানে বলা হয়েছে, জনসাধারণের জন্য […]
ছবি: সংগৃহীত
পর্তুগালে জনসমক্ষে পরিচয় শনাক্তে বাধা সৃষ্টি করে এমনভাবে মুখ ঢেকে রাখার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে নতুন আইন অনুমোদন করা হয়েছে। বোরকা বা নিকাবের মতো পোশাকও এই আইনের আওতায় পড়তে পারে। তবে স্বাস্থ্য, পেশাগত কাজ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবহাওয়া এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে।
পর্তুগালের পার্লামেন্টে অনুমোদিত নতুন বিধানে বলা হয়েছে, জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত স্থান, সরকারি সেবা কেন্দ্র, রাস্তা এবং বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে এমন পোশাক বা সরঞ্জাম ব্যবহার করা যাবে না, যার কারণে ব্যক্তির মুখ শনাক্ত করা বাধাগ্রস্ত হয়। আইনটির বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপর।
নতুন বিধান অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করলে শাস্তির মাত্রা পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। অসাবধানতাবশত আইন ভাঙলে ১৫০ থেকে ৭৫০ ইউরো পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে। আর ইচ্ছাকৃতভাবে আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
তবে আইনে কয়েকটি নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন, পেশাগত দায়িত্ব, শিল্প ও সাংস্কৃতিক আয়োজন এবং আবহাওয়াজনিত কারণে মুখ ঢাকার সুযোগ থাকবে। ধর্মীয় উপাসনালয়ের ভেতরে মুখ ঢাকার ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে না।
আইনের পক্ষের ব্যক্তিদের যুক্তি, জননিরাপত্তা এবং প্রয়োজনের সময় ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার সুবিধার জন্য এ ধরনের বিধান প্রয়োজন। অন্যদিকে সমালোচকেরা আশঙ্কা করছেন, এটি ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও ধর্মীয় অধিকারের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে বোরকা ও নিকাব পরা মুসলিম নারীদের ক্ষেত্রে আইনটি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পর্তুগালের আইনপ্রণয়ন নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ধর্মীয় কারণে মুখ ঢাকার বিষয়টিও রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।
নতুন আইন শুধু নিজে মুখ ঢাকার বিষয়েই সীমাবদ্ধ নয়। কাউকে তার লিঙ্গ, ধর্ম, বয়স বা বংশগত পরিচয়ের কারণে মুখ ঢাকতে বাধ্য করার বিরুদ্ধেও বিধান রাখা হয়েছে। এ ধরনের ঘটনায়ও জরিমানার ব্যবস্থা রয়েছে।
আইনটি পার্লামেন্টে অনুমোদনের পর সরকারি প্রক্রিয়া শেষে কার্যকর হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালের সরকারি গেজেটে প্রকাশের ৩০ দিন পর নতুন বিধান কার্যকর হওয়ার কথা।
এদিকে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও জনসমক্ষে মুখঢাকা পোশাক নিয়ে একই ধরনের বিতর্ক চলছে। ফলে জননিরাপত্তার প্রয়োজন, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত পোশাক নির্বাচনের অধিকার—এই তিনটির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, তা নিয়ে ইউরোপজুড়ে আলোচনা আরও জোরালো হচ্ছে।
তথ্যসূত্র: পর্তুগালের সরকারি আইনসংক্রান্ত তথ্য, The Portugal News, Renascença