সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
৭:০৮ অপরাহ্ন, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে মাস্কের ২৭৬ মিলিয়ন ডলার অনুদান

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সহায়তায় জুলাইয়ের শুরু থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নিজের সুপার প্যাকে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে তিনি বড় পরিসরে ভোটারদের কেন্দ্রে আনার কর্মসূচিও গড়ে তুলেছেন। এই বিপুল অনুদানের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী […]

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে মাস্কের ২৭৬ মিলিয়ন ডলার অনুদান

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সহায়তায় জুলাইয়ের শুরু থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও নিজের সুপার প্যাকে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন ধনকুবের ইলন মাস্ক। নির্বাচনে প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে দলটির সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার প্রচেষ্টায় সহায়তা করতে তিনি বড় পরিসরে ভোটারদের কেন্দ্রে আনার কর্মসূচিও গড়ে তুলেছেন।

এই বিপুল অনুদানের মধ্য দিয়ে ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এখন পর্যন্ত জানা সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দাতা হিসেবে উঠে এসেছেন বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি মাস্ক। ফেডারেল নির্বাচনী অর্থায়নের তথ্য জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার আগে তাঁর প্রতিনিধিরা অনুদানসংক্রান্ত এসব তথ্য নিউইয়র্ক টাইমসকে জানান।

সিনেটের রিপাবলিকানদের জন্য ১৫৮ মিলিয়ন ডলার

মাস্কের দেওয়া অর্থের বড় অংশ পেয়েছে সিনেট লিডারশিপ ফান্ড। সিনেটে রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনকারী এই সুপার প্যাককে তিনি চলতি গ্রীষ্মে মোট ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার দিয়েছেন। মার্কিন রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় রাজনৈতিক অনুদান। সংশ্লিষ্ট প্রান্তিকে সংগঠনটি ডেমোক্র্যাট প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর তুলনায়ও বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা রিপাবলিকানদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সে কারণে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে দলটির প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানো এবং ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার ক্ষেত্রে এই অর্থ বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে আমেরিকা প্যাকে ৭৬ মিলিয়ন ডলার

২০২৪ সালের নির্বাচনে ইলন মাস্কের প্রতিষ্ঠিত সুপার প্যাক আমেরিকা প্যাক এবারও রিপাবলিকানদের পক্ষে বড় ধরনের ভোটার উপস্থিতি বাড়ানোর কর্মসূচি চালাচ্ছে। চলতি গ্রীষ্মে তিনি সংগঠনটিকে ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছেন।

সংগঠনটি ওই পরিমাণ অর্থই ব্যয় করেছে বিস্তৃত মাঠপর্যায়ের প্রচার কার্যক্রমে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য, যেসব রিপাবলিকান ভোটারের কাছে পৌঁছানো কঠিন, তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ করা এবং ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হতে উৎসাহিত করা।

আমেরিকা প্যাক সিনেটের সাতটি নির্বাচনী লড়াইয়ের অঙ্গরাজ্য এবং প্রতিনিধি পরিষদের প্রায় তিন ডজন আসনে সক্রিয় রয়েছে। এসব এলাকায় ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের মাধ্যমে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।

আগের নির্বাচনের চেয়েও বেশি অর্থ ব্যয়

২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রিপাবলিকানদের ক্ষমতায় ফেরাতে প্রায় ২৯ কোটি ডলার ব্যয় করেছিলেন মাস্ক। তবে ২০২৫-২৬ নির্বাচনী চক্রে ফেডারেল রাজনৈতিক কমিটিগুলোকে তিনি ইতিমধ্যে প্রায় ৩৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার দিয়েছেন, যা আগের নির্বাচনে তাঁর ব্যয়ের চেয়েও বেশি।

এ ছাড়া অপ্রকাশিত অনুদানের মাধ্যমেও তিনি আরও অর্থ দিয়েছেন বলে এ বিষয়ে অবগত ব্যক্তিরা জানিয়েছেন। ফলে তাঁর রাজনৈতিক ব্যয়ের প্রকৃত পরিমাণ প্রকাশ্যে জানা অঙ্কের চেয়েও বেশি হতে পারে।

অর্থের দিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রিপাবলিকানরা

মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকানদের সমর্থক সুপার প্যাক ও অন্যান্য আর্থিকভাবে শক্তিশালী রাজনৈতিক গোষ্ঠী ব্যাপক বিজ্ঞাপন প্রচার চালাচ্ছে। নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে টেলিভিশনসহ বিভিন্ন মাধ্যমে এসব গোষ্ঠীর বিজ্ঞাপনের উপস্থিতি আরও বাড়ছে।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে মাস্কের কাছাকাছি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছেন—এমন কোনো ধনকুবের এখন পর্যন্ত সামনে আসেননি। ফলে বিপুল অঙ্কের রাজনৈতিক অর্থায়নের দিক থেকে রিপাবলিকানরা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে।

তবে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ই নির্বাচনে জয়ের নিশ্চয়তা দেয় না। এই অর্থ ভোটারদের কাছে পৌঁছানো, তাদের সমর্থন ধরে রাখা এবং ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়, তার ওপরও ফলাফল নির্ভর করবে।

রাজনৈতিক ব্যয় কমানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন মাস্ক

মাস্কের সাম্প্রতিক অনুদান তাঁর আগের বক্তব্যের সঙ্গে বৈপরীত্য তৈরি করেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি বলেছিলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে তাঁর ভূমিকা অনেক কম থাকবে। কিন্তু মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে আবারও বিপুল অর্থ অনুদান দেওয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পক্ষে মাস্কের এই বিপুল অর্থায়ন দলটির নির্বাচনী প্রচারে উল্লেখযোগ্য আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে। সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার লড়াইয়ে এই অর্থ কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচনের ফলাফলে স্পষ্ট হবে।

সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ