সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
২:৫৫ অপরাহ্ন, ৩ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: যে আসনগুলোর ফলাফলে হতে পারে বড় অঘটন

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, নাকি মেয়াদের শেষ দুই বছর ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখে পড়তে হবে তাঁকে। জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে আসার মতো বিষয়গুলো ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করেছে। […]

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন: যে আসনগুলোর ফলাফলে হতে পারে বড় অঘটন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন মার্কিন নাগরিকরা। এই নির্বাচনের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, নাকি মেয়াদের শেষ দুই বছর ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার মুখে পড়তে হবে তাঁকে।

জীবনযাত্রার উচ্চ ব্যয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং ট্রাম্পের প্রতি জনসমর্থন কমে আসার মতো বিষয়গুলো ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি করেছে। এমনকি রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কয়েকটি অঙ্গরাজ্যেও এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

তবে জনমত জরিপের ভুল পূর্বাভাস, নির্বাচনি এলাকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ এবং প্রচারণায় রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয়ের কারণে শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ফল কী হবে, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হিসাব-নিকাশ

বর্তমানে সিনেটে রিপাবলিকানদের ৫৩-৪৭ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। কংগ্রেসের উচ্চকক্ষের নিয়ন্ত্রণ নিতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত চারটি আসন বেশি জিততে হবে। কারণ, সিনেটে দুই দলের আসনসংখ্যা সমান হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নির্ণায়ক ভোটে রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবেন।

অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫টি আসনেই এবার ভোট হচ্ছে। বর্তমানে সেখানে ২১৮ জন রিপাবলিকান, একজন রিপাবলিকান-ঘনিষ্ঠ স্বতন্ত্র সদস্য এবং ২১৪ জন ডেমোক্র্যাট রয়েছেন। এ ছাড়া দুটি আসন খালি আছে। নিম্নকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ডেমোক্র্যাটদের অন্তত ২১৮টি আসন নিশ্চিত করতে হবে।

সিনেটের আটটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াই

নর্থ ক্যারোলাইনা: অবসর নেওয়া রিপাবলিকান সিনেটর থম টিলিসের ছেড়ে দেওয়া আসনে লড়ছেন ডেমোক্র্যাটিক দলের সাবেক গভর্নর রয় কুপার এবং রিপাবলিকান নেতা মাইকেল হোয়াটলি।

জনমত জরিপে রয় কুপারের ভালো অবস্থানের কারণে দুই দলই নির্বাচনি প্রচারণার অর্থ অন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকায় সরিয়ে নিয়েছে। তবে ডেমোক্র্যাটদের জন্য আসনটি জয় করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

টেক্সাস: ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী জেমস টালারিকো মুখোমুখি হয়েছেন ট্রাম্প-সমর্থিত অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনের। প্যাক্সটনকে ঘিরে বিভিন্ন বিতর্কের কারণে দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। তাঁর পেছনে রয়েছে রক্ষণশীল ভোটারদের বড় অংশ এবং বিপুল আর্থিক সহায়তা।

ওহাইও: ডেমোক্র্যাটিক দলের সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন আবারও জয়ের চেষ্টা করছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান জন হাস্টেড, যিনি জেডি ভ্যান্স ভাইস প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর তাঁর ছেড়ে দেওয়া সিনেট আসনে দায়িত্ব পেয়েছিলেন।

এটি এবারের নির্বাচনের অন্যতম ব্যয়বহুল লড়াই। অর্থনৈতিক অসন্তোষ এমন একটি অঙ্গরাজ্যের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে দিতে পারে কি না, যেখানে সাম্প্রতিক সময়ে কট্টর ডানপন্থার প্রভাব বেড়েছে, সেটিও এই নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা।

মেইন: রিপাবলিকান সিনেটর সুসান কলিন্সের প্রতিদ্বন্দ্বী অঙ্গরাজ্যের সিনেটের সাবেক নেতা ট্রয় জ্যাকসন। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মেইন সাধারণত ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে থাকলেও সুসান কলিন্স অতীতেও কঠিন নির্বাচনি লড়াইয়ে জয়ী হয়েছেন।

আলাস্কা: সাবেক ডেমোক্র্যাটিক কংগ্রেসওম্যান মেরি পেল্টোলা রিপাবলিকান সিনেটর ড্যানিয়েল সালিভানকে চ্যালেঞ্জ করছেন। ভোটারদের মধ্যে পেল্টোলার শক্তিশালী অবস্থানের কারণে ট্রাম্প-সমর্থিত এই অঙ্গরাজ্যেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে।

আইওয়া: রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান অ্যাশলি হিনসন এবং ডেমোক্র্যাট জশ টুরেক অবসর নেওয়া রিপাবলিকান সিনেটর জনি আর্নস্টের আসনের জন্য লড়ছেন। অঙ্গরাজ্যটির ভোটারদের কাছে কৃষি ও জ্বালানির ক্রমবর্ধমান ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি ইস্যু হয়ে উঠেছে।

কানসাস: ডেমোক্র্যাটিক যাজক অ্যাডাম হ্যামিল্টন রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালকে চ্যালেঞ্জ করছেন। ১৯৩২ সালের পর এই অঙ্গরাজ্য থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট সিনেটর নির্বাচিত হননি। তবে জনমত জরিপে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের আভাস পাওয়ায় মার্শালের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন ট্রাম্প।

মিশিগান: অবসর নেওয়া ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর গ্যারি পিটার্সের আসনটি রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য। সেখানে সাবেক কংগ্রেসওম্যান মাইক রজার্সের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাট নেতা আব্দুল এল-সায়েদ।

প্রতিনিধি পরিষদের যেসব আসনে নজর

নিউইয়র্কের ১৭তম নির্বাচনি এলাকা: হাডসন ভ্যালির এই আসনে রিপাবলিকান মাইক ললার লড়ছেন ডেমোক্র্যাট কেইট কনলির বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে এই এলাকায় কমলা হ্যারিস জয়ী হয়েছিলেন। ফলে আসনটি ডেমোক্র্যাটদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

নেব্রাস্কার দ্বিতীয় নির্বাচনি এলাকা: রিপাবলিকান ডন বেকন অবসর নেওয়ায় ওমাহা এলাকার এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। সেখানে লড়ছেন রিপাবলিকান ব্রিঙ্কার হার্ডিং এবং ডেমোক্র্যাট ডেনিস পাওয়েল।

পেনসিলভানিয়া: রিপাবলিকান বর্তমান সদস্য রায়ান ম্যাকেঞ্জি, রব ব্রেসনাহান ও স্কট পেরি ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের কাছ থেকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। কাছাকাছি নিউ জার্সির সপ্তম নির্বাচনি এলাকাতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে উঠেছে। সেখানে রেবেকা বেনেট লড়ছেন রিপাবলিকান টম কিন জুনিয়রের বিরুদ্ধে।

ভার্জিনিয়ার দ্বিতীয় নির্বাচনি এলাকা: ডেমোক্র্যাট এলেইন লুরিয়া উপকূলীয় এই আসনটি পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছেন। ২০২২ সালে তিনি রিপাবলিকান জেনিফার কিগানসের কাছে আসনটি হারিয়েছিলেন।

আইওয়া: অঙ্গরাজ্যটির পূর্ব ও মধ্যাঞ্চলের তিনটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত নির্বাচনি এলাকায় ডেমোক্র্যাটরা কতটা ভালো ফল করেন, তা থেকে নির্বাচনের সামগ্রিক গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাওয়া যেতে পারে।

ডেমোক্র্যাটদের অগ্রগতির ইঙ্গিত মিলবে যেসব আসনে

ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে বড় ধরনের নির্বাচনি জোয়ার তৈরি হয়েছে কি না, তা বোঝার জন্য ভার্জিনিয়ার দুটি রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত আসনের ফলাফলের দিকে নজর রাখতে হবে।

প্রথম আসনে ডেমোক্র্যাট শ্যানন টেলর লড়ছেন রিপাবলিকান রবার্ট উইটম্যানের বিরুদ্ধে। অন্য আসনে সাবেক কংগ্রেসম্যান টম পেরিয়েলো রিপাবলিকান জন ম্যাকগুইরকে পরাজিত করার চেষ্টা করছেন।

এ ছাড়া রিপাবলিকান-প্রধান কেনটাকির ষষ্ঠ নির্বাচনি এলাকায় ডেমোক্র্যাটদের জয় কিংবা ফ্লোরিডার ১৩তম ও উইসকনসিনের প্রথম নির্বাচনি এলাকায় রিপাবলিকানদের অপ্রত্যাশিত পরাজয়ও বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিতে পারে।

তবে নতুন করে নির্বাচনি এলাকার সীমানা নির্ধারণের কারণে ডেমোক্র্যাটদেরও কিছু আসনে ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলাবামার দ্বিতীয় নির্বাচনি এলাকা। সেখানে শোমারি ফিগারস নিজের আসন ধরে রাখার লড়াই করছেন।

অন্যদিকে, টেক্সাসের ৩৪তম নির্বাচনি এলাকায় ডেমোক্র্যাট ভিসেন্তে গঞ্জালেজের প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান এরিক ফ্লোরেস।

সব মিলিয়ে এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে শুধু কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণই নির্ধারিত হচ্ছে না, ট্রাম্প প্রশাসনের বাকি দুই বছরের রাজনৈতিক শক্তি ও নীতিনির্ধারণের সক্ষমতাও অনেকাংশে নির্ভর করছে এসব প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের ফলাফলের ওপর।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ