সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

ধর্ম
৪:১২ অপরাহ্ন, ২৬ আগস্ট ২০২৬

রাসুলুল্লাহকে (সা.) কতটা ভালোবাসলে ইমান পূর্ণাঙ্গ হয়?

আখেরি নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ইমানের পূর্ণতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কাছে আমি তার পিতামাতা, সন্তানাদি এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে প্রিয় না হবো।’ (সহিহ বুখারি: ১৫) পবিত্র কোরআনেও মুমিনদের সঙ্গে নবীজির (সা.) সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা […]

রাসুলুল্লাহকে (সা.) কতটা ভালোবাসলে ইমান পূর্ণাঙ্গ হয়?

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৪ মিনিটে পড়ুন |

আখেরি নবী হজরত মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ইমানের পূর্ণতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ ততক্ষণ পর্যন্ত ইমানদার হতে পারবে না, যতক্ষণ না তার কাছে আমি তার পিতামাতা, সন্তানাদি এবং সমস্ত মানুষের চেয়ে প্রিয় না হবো।’ (সহিহ বুখারি: ১৫)

পবিত্র কোরআনেও মুমিনদের সঙ্গে নবীজির (সা.) সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘নবী মুমিনদের কাছে তাদের প্রাণের চেয়ে বেশি প্রিয়।’ (সুরা আহজাব: ৬)

নবীজির (সা.) প্রতি গভীর ভালোবাসার অন্যতম বড় ফল হলো তাঁর আনুগত্য করা সহজ হয়ে যায়। মানুষ সাধারণত যাকে ভালোবাসে, তার সন্তুষ্টিকে নিজের ইচ্ছার ওপর প্রাধান্য দেয়। তাই রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা থাকলে তাঁর সুন্নত অনুসরণ করা, নির্দেশ মেনে চলা এবং নিজের প্রবৃত্তিকে তাঁর আদর্শের অধীন করা স্বাভাবিকভাবেই সহজ হওয়ার কথা।

হজরত ওমর ফারুক (রা.) একবার রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে বলেছিলেন, হে আল্লাহর রাসুল, আপনি আমার কাছে সবকিছুর চেয়ে বেশি প্রিয়, তবে আমার জীবন ছাড়া।

এর জবাবে নবীজি (সা.) বলেন, আল্লাহর কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, ইমান পূর্ণ হবে না যতক্ষণ না কারও কাছে আমি তার জীবনের চেয়ে বেশি প্রিয় হবো।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর এ কথা হজরত ওমরের (রা.) মনে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে। তিনি সঙ্গে সঙ্গে বলেন, আল্লাহর কসম, আপনি আমার জীবনের চেয়ে বেশি প্রিয়।

তখন নবীজি (সা.) বলেন, ‘ওমর, এইমাত্র তোমার ইমান পরিপূর্ণ হলো।’ (সহিহ বুখারি: ৬৬৩২)

আরেকটি হাদিসে হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁকে বলেন, ‘বেটা, তুমি যদি পারো তাহলে অবশ্যই এমনভাবে সকাল-সন্ধ্যা পার করবে যে, তোমার মনের মধ্যে কারও প্রতি ঘৃণাবোধ থাকবে না। কেননা এটাই আমার পথে চলার নিয়ম। আর যে ব্যক্তি আমার পথে চলে, সেই প্রকৃতপক্ষে আমাকে ভালোবাসে। আর যে আমাকে ভালোবাসে, জান্নাতে সে আমার সাথে থাকবে।’ (সুনানে তিরমিজি: ২৮৯৪)

নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসার আরেকটি বড় সুসংবাদও হাদিসে এসেছে। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, এক সাহাবি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কাছে এসে কেয়ামত কবে হবে জানতে চান। নবীজি (সা.) পাল্টা জানতে চান, তিনি এর জন্য কী প্রস্তুতি নিয়েছেন।

সাহাবি বলেন, অধিক পরিমাণে নামাজ, রোজা, জাকাত ও সদকা আদায় করে তিনি বিশেষ কোনো প্রস্তুতি নিতে পারেননি। তবে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি তাঁর ভালোবাসা রয়েছে।

তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘তুমি তার সাথেই থাকবে যাকে তুমি ভালোবাসো।’ (সহিহ বুখারি: ৬১৭১)

সাহাবি বলেন, এই সুসংবাদ পাওয়ার পর ইসলাম গ্রহণের পর আর কোনো কিছুতে তিনি এতটা আনন্দিত হননি।

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের নানা মাধ্যম রয়েছে। তাঁর জীবন ও আদর্শ নিয়ে বেশি বেশি আলোচনা করা, ব্যক্তিজীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর সুন্নত অনুসরণ করা এবং তাঁর প্রতি দরুদ পাঠ করা এর অন্যতম। একই সঙ্গে সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইত অর্থাৎ তাঁর পরিবারের সদস্য এবং তাঁর উম্মতের প্রতি ভালোবাসাও নবীজির (সা.) প্রতি ভালোবাসার অংশ।

তবে প্রশ্ন হলো, মানুষের জীবনে বাবা-মা, স্বামী বা স্ত্রী, সন্তানসহ নানা সম্পর্কের প্রতি গভীর ভালোবাসা থাকার পরও নবীজিকে (সা.) সবার ঊর্ধ্বে কীভাবে ভালোবাসা সম্ভব?

এ বিষয়ে মানুষের ভালোবাসাকে সাধারণভাবে দুই ধরনের হিসেবে দেখা যায়—স্বভাবজাত ভালোবাসা এবং মস্তিষ্কজাত ভালোবাসা।

পিতামাতা, স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের প্রতি ভালোবাসা মূলত স্বভাবজাত। মানুষ জন্মের পর যারা তাকে ভালোবাসা, যত্ন ও স্নেহ দিয়ে বড় করে তোলে, তাদের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই ভালোবাসা তৈরি হয়। একইভাবে নারী ও পুরুষের পারস্পরিক আকর্ষণও স্বভাবজাত। মানবজীবনকে অর্থবহ করা ও বংশবৃদ্ধির স্বাভাবিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আল্লাহ তায়ালা এই অনুভূতি মানুষের মধ্যে রেখেছেন।

সন্তানের প্রতিও মানুষের ভালোবাসা অনেকটা একই ধরনের। মানুষ সন্তানকে নিজেরই অংশ মনে করে এবং তার মধ্যে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়। ফলে এ ভালোবাসার ক্ষেত্রে আলাদা করে চিন্তা বা যুক্তির প্রয়োজন হয় না।

অন্যদিকে, মানুষ যখন চিন্তা, উপলব্ধি ও বিশ্বাসের মাধ্যমে কাউকে ভালোবাসে, তখন সেই ভালোবাসার ধরন ভিন্ন হয়ে যায়। সেখানে আদর্শ, বিশ্বাস ও মূল্যবোধ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের ভালোবাসা অনেক সময় মানুষের জীবনের গতিপথও বদলে দিতে পারে।

এই ভালোবাসার শক্তি এত গভীর হতে পারে যে মানুষ প্রয়োজনে নিজের সবচেয়ে কাছের সম্পর্কগুলোকেও বিসর্জন দিতে প্রস্তুত হয়। কারণ সেখানে মূল চালিকাশক্তি হয়ে ওঠে বিশ্বাস।

ইমানের পূর্ণতার জন্য যে ভালোবাসার কথা হাদিসে বলা হয়েছে, তা মূলত এই বিশ্বাসভিত্তিক ভালোবাসা। সাহাবায়ে কেরাম নবীজি (সা.)-এর প্রতি এমন ভালোবাসারই দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তাই একজন মুমিনের জন্য রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন, সুন্নত ও আদর্শকে নিজের জীবনের ওপর প্রাধান্য দেওয়া এবং তাঁর প্রতি সর্বোচ্চ ভালোবাসা রাখা ইমানের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ