সৌদি আরব ও ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইয়েমেন ও শামের জন্য বরকতের দোয়া এবং ‘নজদ’ অঞ্চল নিয়ে বর্ণিত একটি হাদিস ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে হাদিসে উল্লিখিত নজদের ভৌগোলিক অবস্থান ও বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। সহিহ বুখারিতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনায় হাদিসটি […]
ছবি: এআই (সংগৃহীত)
সৌদি আরব ও ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর ইয়েমেন ও শামের জন্য বরকতের দোয়া এবং ‘নজদ’ অঞ্চল নিয়ে বর্ণিত একটি হাদিস ঘিরে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে হাদিসে উল্লিখিত নজদের ভৌগোলিক অবস্থান ও বক্তব্যের ব্যাখ্যা নিয়ে ইসলামি পণ্ডিতদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
সহিহ বুখারিতে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর বর্ণনায় হাদিসটি সংকলিত হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) দোয়া করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ, আমাদের শামে বরকত দান করুন। হে আল্লাহ, আমাদের ইয়েমেনে বরকত দান করুন।’
বর্ণনা অনুযায়ী, উপস্থিত ব্যক্তিরা নজদ অঞ্চলের জন্যও বরকতের দোয়া করতে অনুরোধ করেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) শাম ও ইয়েমেনের জন্য আবারও দোয়া করেন। এরপর নজদ সম্পর্কে বলেন, সেখানে ভূমিকম্প ও ফিতনা দেখা দেবে এবং সেখান থেকে শয়তানের শিং উদিত হবে। হাদিসটি সহিহ বুখারির ১০৩৭ ও ৭০৯৪ নম্বর বর্ণনায় পাওয়া যায়।
নজদ বলতে কোন অঞ্চলকে বোঝানো হয়েছে
হাদিসে উল্লিখিত ‘নজদ’ বলতে কোন ভৌগোলিক এলাকাকে বোঝানো হয়েছে, তা নিয়ে ইসলামি ব্যাখ্যাকারদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। কোনো কোনো ব্যাখ্যায় মদিনার পূর্ব দিকের অঞ্চল, বিশেষ করে ইরাকের আশপাশের উচ্চভূমিকে বোঝানো হয়েছে। অন্যদিকে, আধুনিক ভৌগোলিক পরিচিতিতে নজদ বলতে সৌদি আরবের মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ মালভূমিকে বোঝানো হয়, যার মধ্যে রিয়াদও অবস্থিত।
তাই হাদিসে ব্যবহৃত নজদকে সরাসরি বর্তমান সৌদি আরবের কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক এলাকার সঙ্গে এক করে দেখা নিয়ে সতর্কতা প্রয়োজন। হাদিসের মূল বক্তব্য এবং তার ভৌগোলিক ব্যাখ্যা আলাদা বিষয়।
ইয়েমেনের সংঘাত ঘিরে নতুন আলোচনা
ইয়েমেনের চলমান সংঘাতের ইতিহাস দীর্ঘ। ২০১৪ সালে হুথি আন্দোলনকারীরা দেশটির রাজধানী সানা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পর সংঘাত আরও তীব্র হয়। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির পর লড়াই অনেকটা কমে এলেও ২০২৬ সালে আবারও সংঘাত বেড়েছে।
২৬ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিরা সৌদি আরবের তেল পরিবহন অবকাঠামো ও রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালানোর দাবি করেছে। সৌদি পক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে এসব হামলার সব দাবি নিশ্চিত করেনি। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হুথিদের সামরিক স্থাপনায় হামলার কথা জানিয়েছে। নতুন করে সামরিক উত্তেজনা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি পরিবহন নিয়েও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
এমন পরিস্থিতিতে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ইয়েমেনের জন্য বরকতের দোয়া এবং নজদ-সংক্রান্ত হাদিস নিয়ে ধর্মীয় আলোচনা সামনে এসেছে। তবে বর্তমান সৌদি-ইয়েমেন সংঘাতকে ওই হাদিসের সরাসরি পূরণ বা ভবিষ্যদ্বাণীর নিশ্চিত বাস্তবায়ন হিসেবে প্রত