বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি ও ‘আসছে বছর আবার হবে’ স্লোগানে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকা। রাজধানীতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বনানী মাঠসহ […]
ছবি: সংগৃহীত
বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা ও প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হয়। ঢাক-ঢোল, কাঁসর, শঙ্খধ্বনি ও ‘আসছে বছর আবার হবে’ স্লোগানে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে বিভিন্ন এলাকা।
রাজধানীতে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, বনানী মাঠসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপ থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে বুড়িগঙ্গা নদীর ওয়াইজঘাট ও তুরাগ নদীর তীরে নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়।
প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে নেওয়া হয় বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা। নদীর তীরে মোতায়েন ছিলেন নৌ-পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও আনসার সদস্যরা। বিসর্জন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রাখা হয় বিশেষ নৌকা ও ক্রেন। রাজধানীতে প্রতিমা বিসর্জনের জন্য ৩৩টি স্থান নির্ধারণ করা হয়। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোতায়েন করা হয় প্রায় ১৬ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য।
ঢাকার বাইরে চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ, সিলেট ও যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন হয়। বিজয়া দশমী উপলক্ষে ভক্তরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা ও আলিঙ্গন বিনিময় করেন।
পঞ্জিকা অনুযায়ী, এবার দেবী দুর্গার আগমন হয়েছিল ঘোড়ায় এবং গমন হয়েছে নৌকায়।
ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা
বুধবার বিকেল ৪টায় ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে বিজয়া শোভাযাত্রা বের হয়। এর আগে সকাল থেকেই মন্দিরে বিজয়া দশমীর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা চলে। এদিন বিবাহিত নারীরা দেবীকে পান, মিষ্টি ও সিঁদুর দিয়ে বরণ করেন। পরে তাঁরা একে অপরের সঙ্গে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন। স্বামী ও পরিবারের মঙ্গল কামনায় এ রীতি পালন করা হয়।
ঢাক-ঢোল ও শঙ্খধ্বনির মধ্য দিয়ে শোভাযাত্রাটি পলাশী, জগন্নাথ হল ও শহীদ মিনার হয়ে বুড়িগঙ্গার ওয়াইজঘাটে পৌঁছায়। সেখানে প্রশাসনের নির্ধারিত স্থানে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এ সময় ভক্তদের কণ্ঠে শোনা যায় ‘আসছে বছর আবার হবে, জয় মা দুর্গা’ স্লোগান। বিসর্জন দেখতে নদীর দুই তীরে ভিড় করেন হাজারো মানুষ।
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের এক নেতা বলেন, অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে এবারের দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। দেবীর কাছে প্রার্থনা, তিনি যেন সব অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে দেশে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখেন।
বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে ছয় দিনের দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। এবার আগামী ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে লক্ষ্মীপূজা।
দুর্গাপূজার পর আশ্বিন মাসের পূর্ণিমা তিথিতে লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এ পূর্ণিমাকে বলা হয় কোজাগরী পূর্ণিমা এবং এ উপলক্ষে আয়োজিত পূজাকে কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বলা হয়। এ রাতে ভক্তরা জেগে থেকে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে প্রতি বৃহস্পতিবার কিংবা দীপান্বিতা অমাবস্যায় সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপূজা পালনের রীতিও রয়েছে। সরায়, ঘটে বা প্রতিমায় দেবীর পূজা করা হয়। ব্যক্তিগত ও সর্বজনীন—উভয়ভাবেই এ পূজা অনুষ্ঠিত হয়।
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। তাঁকে উন্নতি, আলো, জ্ঞান, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবেও মান্য করা হয়।
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন