রোবট এখন শুধু কারখানায় মানুষের হয়ে কাজই করছে না, তৈরি করছে নিজেদেরই। চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্সপেং এমন একটি স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইন চালু করেছে, যেখানে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করেই একই ধরনের নতুন রোবট তৈরি করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হে শিয়াওপেং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, উন্নত সাধারণ উদ্দেশ্যের হিউম্যানয়েড […]
ছবি: সংগৃহীত
রোবট এখন শুধু কারখানায় মানুষের হয়ে কাজই করছে না, তৈরি করছে নিজেদেরই। চীনের বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এক্সপেং এমন একটি স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন লাইন চালু করেছে, যেখানে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহার করেই একই ধরনের নতুন রোবট তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হে শিয়াওপেং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এ তথ্য জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, উন্নত সাধারণ উদ্দেশ্যের হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির ক্ষেত্রে এটি বিশ্বের প্রথম স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন প্রক্রিয়া।
এই উৎপাদন ব্যবস্থায় তৈরি প্রথম হিউম্যানয়েড রোবটটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘আয়রন’। এক্সপেংয়ের প্রধান নির্বাহীর ভাষ্য অনুযায়ী, উৎপাদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আয়রন নিজে হেঁটে কারখানা থেকে বের হয়ে আসে।
স্বয়ংক্রিয় কারখানার বিশেষত্ব হলো, এখানে কেবল রোবটের কোনো নির্দিষ্ট অংশ বা যন্ত্রাংশ তৈরি করা হচ্ছে না। মানুষের মতো গড়নের একটি পূর্ণাঙ্গ হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির কাজেই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা ব্যবহার করা হচ্ছে।
এক্সপেং জানিয়েছে, উৎপাদন ব্যবস্থাটির লক্ষ্য হলো রোবট তৈরির বিভিন্ন ধাপে মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণ কমিয়ে আনা। এতে ভবিষ্যতে বড় পরিসরে হিউম্যানয়েড রোবট উৎপাদনের পথ তৈরি হতে পারে বলে আশা করছে প্রতিষ্ঠানটি।
তবে বর্তমানে এই কারখানা থেকে দিনে বা বছরে কতটি রোবট উৎপাদন করা সম্ভব, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি এক্সপেং।
বিশ্বজুড়ে হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে গবেষণা ও বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ছে। রোবটকে মানুষের মতো হাঁটানো বা নির্দিষ্ট কাজ করানোর পাশাপাশি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে কম সময়ে বিপুলসংখ্যক রোবট উৎপাদন করা।
এ ক্ষেত্রে উৎপাদন ব্যবস্থার বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় করা গেলে উৎপাদন সময় ও শ্রমের ব্যবহার কমানো সম্ভব হতে পারে। একই সঙ্গে একই মান বজায় রেখে ধারাবাহিকভাবে রোবট তৈরির সুযোগও তৈরি হতে পারে।
এক্সপেংয়ের তৈরি ‘আয়রন’কে ঘিরে প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনাও শুধু কারখানার কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। হে শিয়াওপেংয়ের লক্ষ্য, ভবিষ্যতে এসব রোবটকে আরও বিস্তৃত ধরনের সাধারণ কাজে ব্যবহার করা।
বিশেষ করে মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, একঘেয়ে কিংবা দীর্ঘ সময় ধরে করা কঠিন এমন কাজে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
রোবট দিয়ে রোবট তৈরির এই উদ্যোগ তাই শুধু একটি নতুন কারখানা প্রযুক্তি নয়, হিউম্যানয়েড রোবটের ব্যাপক উৎপাদনের ক্ষেত্রে চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষারও একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।