সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি
৭:২১ পিএম, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় মানবদেহে এআই-তৈরি ভাইরাস প্রবেশ করলেন বিজ্ঞানীরা

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো এআই দিয়ে নকশা করা ব্যাকটেরিয়াভোজী ভাইরাস এক রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস। প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ‘ওমনি-১’ (Omnii-1) নামের এআই মডেল দিয়ে ভাইরাসগুলো নকশা করা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এক ঘোষণায় র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস […]

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী সংক্রমণের চিকিৎসায় মানবদেহে এআই-তৈরি ভাইরাস প্রবেশ করলেন বিজ্ঞানীরা

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। যুক্তরাষ্ট্রে প্রথমবারের মতো এআই দিয়ে নকশা করা ব্যাকটেরিয়াভোজী ভাইরাস এক রোগীর চিকিৎসায় প্রয়োগ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস।

প্রতিষ্ঠানটির তৈরি ‘ওমনি-১’ (Omnii-1) নামের এআই মডেল দিয়ে ভাইরাসগুলো নকশা করা হয়েছে। গত ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এক ঘোষণায় র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকস জানায়, গুরুতর অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে আক্রান্ত এক রোগীর শরীরে পরীক্ষামূলকভাবে এসব ভাইরাস প্রয়োগ করা হয়েছে। চিকিৎসাটি দেওয়া হয়েছে বিশেষ অনুমোদনের আওতায়, যখন প্রচলিত চিকিৎসায় পর্যাপ্ত বিকল্প থাকে না।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই-নকশা করা ভাইরাস মানুষের চিকিৎসায় ব্যবহারের ঘটনা এটিই প্রথম বলে দাবি করছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এ দাবির পক্ষে এখনো কোনো বিশেষজ্ঞ-পর্যালোচিত গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়নি।

কীভাবে কাজ করে এআই-নকশা করা ভাইরাস

ওমনি-১ মূলত ব্যাকটেরিওফাজ বা ফাজ নামের এক ধরনের ভাইরাস নকশা করে। এসব ভাইরাস মানুষের কোষে আক্রমণ না করে নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়াকে সংক্রমিত ও ধ্বংস করে। অ্যান্টিবায়োটিক কাজ না করলে গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় বিকল্প হিসেবে ফাজ থেরাপি আগে থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

প্রচলিত পদ্ধতিতে রোগীর সংক্রমণের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করতে পারে—এমন প্রাকৃতিক ফাজ খুঁজে বের করতে হয়। এ প্রক্রিয়ায় অনেক সময় লাগে। তবে র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের এআই মডেল নতুন ভাইরাস খোঁজার পরিবর্তে আগে থেকে থাকা একটি ভাইরাসের নির্দিষ্ট অংশ পুনর্নকশা করেছে। এর উদ্দেশ্য, সংক্রমণ ঘটানো ব্যাকটেরিয়ার নির্দিষ্ট ধরনকে আরও কার্যকরভাবে শনাক্ত ও আক্রমণ করতে পারে—এমন ভাইরাস তৈরি করা।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, রোগীর শরীর থেকে সংগ্রহ করা ব্যাকটেরিয়ার নমুনায় চিকিৎসা প্রয়োগের আগে এআই-নকশা করা ভাইরাস পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরীক্ষাগারে ভাইরাসের মিশ্রণটি ওই নমুনায় থাকা অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সম্পূর্ণ নির্মূল করতে সক্ষম হয়।

র‍্যাডিক্যাল নিউমেরিকসের আশা, এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভবিষ্যতে রোগীর সংক্রমণের ধরন অনুযায়ী কয়েক দিনের মধ্যেই উপযোগী ফাজ তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে জটিল সংক্রমণের চিকিৎসায় কার্যকর ভাইরাস খুঁজে পেতে সময় কমতে পারে।

তবে চিকিৎসা পাওয়া রোগীর সুনির্দিষ্ট রোগনির্ণয়, চিকিৎসার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন কিংবা সংক্রমণ পুরোপুরি নির্মূল হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি প্রতিষ্ঠানটি। ফলে পরীক্ষাগারে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসের সাফল্যকে রোগীর চিকিৎসায় সাফল্য হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এআই দিয়ে ভাইরাস তৈরিতে নিরাপত্তার উদ্বেগ

জীববিজ্ঞানের গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এ প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও আর্ক ইনস্টিটিউটের গবেষকেরা এআই ব্যবহার করে নতুন ধরনের ব্যাকটেরিয়াভোজী ভাইরাস নকশার গবেষণার ফল প্রকাশ করেন।

গবেষকেরা এআই দিয়ে তৈরি প্রায় ৩০০টি ভাইরাল জিনোম সংশ্লেষণ ও পরীক্ষা করেন। এর মধ্যে ১৬টি কার্যকর ভাইরাস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিল। এসব ভাইরাস পরীক্ষাগারে ই. কোলাই (E. coli) ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে বলে গবেষণায় দেখা যায়। তবে ওই গবেষণায় কোনো মানুষ বা প্রাণীর শরীরে ভাইরাস প্রয়োগ করা হয়নি।

বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা, ভাইরাসের জিনোম নকশায় সক্ষম এআই প্রযুক্তি অপব্যবহারের মাধ্যমে জীববৈজ্ঞানিক নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে মানুষের শরীরে সংক্রমণ ঘটাতে সক্ষম ভাইরাস তৈরিতে এ প্রযুক্তি ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে।

স্ট্যানফোর্ডের গবেষকেরা তাঁদের গবেষণায় মানুষ বা প্রাণীকে আক্রমণকারী ভাইরাসের পরিবর্তে ব্যাকটেরিয়াকে লক্ষ্য করে এমন ভাইরাস তৈরিতে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। এআইনির্ভর জীববৈজ্ঞানিক গবেষণার অগ্রগতির সঙ্গে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরছেন গবেষকেরা।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ