সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে মেটার অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি বলে আদালতে দাবি করেছেন সাবেক মেটা নিরাপত্তা প্রকৌশলী ও হুইসেলব্লোয়ার আরতুরো বেজার। তার অভিযোগ, কোম্পানির পণ্য শিশুদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এ বিষয়টি মেটার শীর্ষ কর্মকর্তারা জানতেন। মঙ্গলবার ও বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মেটার বিরুদ্ধে চলমান একটি […]
ছবি: সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে মেটার অভ্যন্তরে দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ জানানো হলেও প্রতিষ্ঠানটি যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি বলে আদালতে দাবি করেছেন সাবেক মেটা নিরাপত্তা প্রকৌশলী ও হুইসেলব্লোয়ার আরতুরো বেজার। তার অভিযোগ, কোম্পানির পণ্য শিশুদের ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এ বিষয়টি মেটার শীর্ষ কর্মকর্তারা জানতেন।
মঙ্গলবার ও বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল আদালতে মেটার বিরুদ্ধে চলমান একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় সাক্ষ্য দেন বেজার। ২৯টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলদের করা মামলায় মেটার বিরুদ্ধে শিশুদের জন্য আসক্তিকর নকশা তৈরি, অপ্রাপ্তবয়স্কদের তথ্য সংগ্রহ এবং প্ল্যাটফর্মের নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
আদালতে বেজার বলেন, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের বিভিন্ন সিস্টেম শিশুদের ক্ষতির ঝুঁকি সম্পর্কে মেটা আগে থেকেই জানত। তার দাবি, প্ল্যাটফর্মের সুপারিশ ব্যবস্থার মাধ্যমে যৌন নিপীড়নকারী, সহিংস ও অন্যান্য ক্ষতিকর কনটেন্ট শিশুদের সামনে পৌঁছানোর ঘটনা ছিল। তিনি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে এসব বিষয়ে সতর্ক করলেও কার্যকর পরিবর্তন খুব সীমিত ছিল বলে জানান।
বেজারের ভাষ্য অনুযায়ী, মেটায় তার দায়িত্বের অংশ হিসেবে তিনি প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গকেও নিয়মিত পণ্যের নিরাপত্তা ও ব্যবহারকারীদের ক্ষতির বিষয়ে অবহিত করতেন। তিনি জানিয়েছেন, জাকারবার্গের সঙ্গে এ ধরনের বিষয়ে অন্তত ১০০ বার কথা হয়েছে।
২০২১ সালে জাকারবার্গ প্রকাশ্যে মেটা নিরাপত্তার চেয়ে মুনাফাকে অগ্রাধিকার দেয় না বলে মন্তব্য করার পর বেজার তাকে একটি ইমেইল করেছিলেন। সেখানে ক্ষতিকর কনটেন্ট এবং কিশোরদের ওপর এর প্রভাবের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি জাকারবার্গের বক্তব্যকে বিভ্রান্তিকর বলে মনে করার কথা জানান।
আদালতে বেজার আরও অভিযোগ করেন, শিশুদের সুরক্ষার ক্ষেত্রে মেটার নীতিতে এক ধরনের ‘জানব না, বলব না’ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে। বিশেষ করে ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের বিষয়ে কোম্পানি পর্যাপ্তভাবে শনাক্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার বদলে ব্যবহারকারীর সংখ্যা এবং প্ল্যাটফর্মে কাটানো সময় বাড়ানোর দিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মামলাটিতে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, মেটার ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশু ও কিশোরদের অতিরিক্ত ব্যবহারে উৎসাহিত করার মতোভাবে নকশা করা হয়েছিল। পাশাপাশি অভিভাবকের সম্মতি ছাড়া ১৩ বছরের কম বয়সী শিশুদের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগও রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া, কলোরাডো, কেনটাকি ও নিউ জার্সির নেতৃত্বে মামলাটি শুরু হলেও এতে মোট ২৯টি অঙ্গরাজ্য যুক্ত হয়েছে।
মামলার শুনানিতে মেটা অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। কোম্পানির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তায় তারা বিভিন্ন প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা চালু করেছে এবং নিরাপত্তা জোরদারে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে। মেটা আরও দাবি করেছে, ১৩ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করার ব্যবস্থাও তারা নিয়েছে।
এই মামলায় জাকারবার্গ ও ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির সাক্ষ্য দেওয়ার কথা রয়েছে। ছয় সপ্তাহ ধরে চলতে থাকা এই বিচারপ্রক্রিয়ায় মেটার পণ্য নকশা, শিশুদের নিরাপত্তা এবং কোম্পানির প্রকাশ্য বক্তব্য নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হবে।
মেটার বিরুদ্ধে চলমান এই মামলার ফলাফল শুধু কোম্পানিটির আর্থিক দায় নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে। আদালতের সিদ্ধান্ত শিশু ও কিশোরদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নকশা, বয়স যাচাই এবং অনলাইন নিরাপত্তা নীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি, দ্য গার্ডিয়ান ও আনাদোলু এজেন্সি