সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বাংলাদেশ
৩:২৯ পিএম, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার: আইজিপির বক্তব্যে বিতর্ক, ব্যাখ্যা পুলিশের

সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্য ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি আইজিপি। তবে তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। সোমবার […]

সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার: আইজিপির বক্তব্যে বিতর্ক, ব্যাখ্যা পুলিশের

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে—পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্য ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে পুলিশ সদর দপ্তর জানিয়েছে, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি আইজিপি। তবে তাঁর মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির ইসলামিক ব্যাংকিং সেবা ‘কমিউনিটি ইসলামিক’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি এ কথা বলেন।

আলী হোসেন ফকির বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ‘ফ্যাসিস্ট’ বলে, আবার পুলিশ নীরব থাকলে দুর্বল বলে আখ্যা দেওয়া হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আইজিপি আরও বলেন, সুখে-শান্তিতে বসবাস করতে হলে পুলিশের প্রয়োজন রয়েছে। তবে স্বাধীনতা আছে বলে যা ইচ্ছা তা করা যাবে না। আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি পুলিশের সব সদস্যের অপরাধের দায় পুরো বাহিনীর ওপর চাপানোও ঠিক নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশের ২৭ সদস্য বরখাস্ত

অনুষ্ঠানে পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিস্তার এবং মাদক কারবারে পুলিশের কিছু সদস্যের সম্পৃক্ততা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন আইজিপি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদক কারবারের সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সদস্যদের পাশাপাশি পুলিশের কিছু সদস্যও জড়িত।

গত দুই মাসে মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের অভিযোগে ২৭ পুলিশ সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কবে দেশে ফিরবেন, তা পুলিশের বিষয় নয় বলে মন্তব্য করেন আইজিপি। তবে দেশে কেউ অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে পুলিশ আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে বলে জানান তিনি।

বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

আইজিপির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর ব্যাখ্যা দেয়। তাদের দাবি, মাদক কারবারি, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দৃঢ়তা বোঝাতে গিয়ে আইজিপি ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেননি।

পুলিশ সদর দপ্তর আরও জানায়, ২০২৬ সালের প্রথম ১০ মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সরকারি দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় চার পুলিশ সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। মানবাধিকার সমুন্নত রেখে জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছে পুলিশ।

টিআইবি ও এনসিপির প্রতিবাদ

আইজিপির বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছে টিআইবি। সংস্থাটি বলেছে, সরকারের অনুমতির শর্ত জুড়ে ক্রসফায়ারের সম্ভাবনা সামনে আনা আইনের শাসন ও সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বক্তব্যটির ব্যাখ্যা প্রকাশ, নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া এবং আইজিপির জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, এনসিপি আইজিপির বক্তব্যকে মানবাধিকার ও আইনের শাসনের জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর অপসারণ দাবি করেছে। দলটির বক্তব্য, সরকারের অনুমতি থাকলেও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বৈধ হয়ে যায় না। পুলিশকে বেআইনি নির্দেশ পালন থেকে বিরত রাখা এবং বাহিনীর জবাবদিহি নিশ্চিত করারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

বাংলাদেশে ‘ক্রসফায়ার’ দীর্ঘদিন ধরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের সঙ্গে যুক্ত একটি বিতর্কিত বিষয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্যে অনেক ঘটনায় বন্দুকযুদ্ধের কথা বলা হলেও, বিভিন্ন ঘটনায় নিহত ব্যক্তিদের স্বজন ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছে।

আইজিপির বক্তব্যের পর পুলিশ সদর দপ্তর ব্যাখ্যা দিলেও, সরকার ক্রসফায়ার চালুর কোনো সিদ্ধান্ত নিয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের তথ্যও পাওয়া যায়নি।

সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন, প্রথম আলো, বিডিনিউজ২৪, জাগোনিউজ২৪ ও টিআইবি

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ