সিরিয়ায় তুরস্কের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে উল্লেখ করে আঙ্কারাকে সতর্ক করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন কোনো পদক্ষেপ মেনে নেবে না তার দেশ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কাটজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সিরিয়া নিয়ে আঙ্কারা এমন […]
ছবি: সংগৃহীত
সিরিয়ায় তুরস্কের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডকে ‘বিপজ্জনক’ হিসেবে উল্লেখ করে আঙ্কারাকে সতর্ক করেছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। তিনি বলেছেন, ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করে এমন কোনো পদক্ষেপ মেনে নেবে না তার দেশ।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় কাটজ তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, সিরিয়া নিয়ে আঙ্কারা এমন কিছু পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে দেশটির জন্য নেতিবাচক পরিণতি তৈরি করতে পারে।
কাটজ বলেন, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তুরস্কের পার্লামেন্টে অবাস্তব ও কল্পনানির্ভর বক্তব্য দেওয়া বন্ধ করাই এরদোয়ানের জন্য ভালো হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলের আত্মরক্ষার সক্ষমতা পরীক্ষা না করার জন্যও তুর্কি প্রেসিডেন্টকে সতর্ক করেন তিনি।
ইসরায়েল ও তুরস্কের মধ্যে সিরিয়াকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে উত্তেজনা বেড়েছে। সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক প্রভাব বাড়ানোর সম্ভাবনা এবং সেখানে তুর্কি সেনা মোতায়েনের পরিকল্পনা নিয়ে ইসরায়েল উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে। এরই মধ্যে সিরিয়ার আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে ইসরায়েলি হামলা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্যও এসেছে।
ইসরায়েলের দাবি, ওই বিমানঘাঁটিতে তুরস্কের সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছিল। তবে তুরস্ক এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আঙ্কারার পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সিরিয়ার সঙ্গে তাদের সামরিক সহযোগিতা মূলত প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তার মধ্যে সীমাবদ্ধ এবং সেখানে তুর্কি সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা ছিল না।
সিরিয়ার নতুন সরকারকে ঘিরে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতায় তুরস্কের ভূমিকা বাড়ায় ইসরায়েলের উদ্বেগও বেড়েছে। আঙ্কারা সিরিয়ার বর্তমান নেতৃত্বকে সমর্থন করছে এবং দেশটিতে নিজেদের কৌশলগত প্রভাব আরও বাড়াতে চাইছে বলে ইসরায়েল মনে করে।
অন্যদিকে তুরস্ক ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের সমালোচনা করে আসছে। সিরিয়ার ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বিমান হামলাকে আঙ্কারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি এবং আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হিসেবে দেখছে। সাম্প্রতিক আবু আল-দুহুর বিমানঘাঁটিতে হামলার পরও তুরস্ক এ অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রও দুই মিত্র দেশের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক ইসরায়েল, তুরস্ক ও সিরিয়ার মধ্যে সংঘাত এড়াতে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের ব্যবস্থা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন।
সিরিয়ায় তুরস্কের সামরিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা যত বাড়ছে, ততই ইসরায়েল-তুরস্ক সম্পর্কের টানাপোড়েন নতুন মাত্রা পাচ্ছে। কাটজের সর্বশেষ সতর্কবার্তা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স