মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সৌদি আরবে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে নতুন করে […]
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যে তেল সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৬ ডলার ছাড়িয়ে যায়। সৌদি আরবে হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী ট্যাংকারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া থেকে নতুন করে ডিজেল সরবরাহের ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতির কথাও জানিয়েছেন তিনি।
গ্রিনিচ মান সময় সোমবার দুপুর ১টা ২১ মিনিটে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলার ৭ সেন্ট বা ২ শতাংশ বেড়ে ১০৬ ডলার ৭৯ সেন্টে দাঁড়ায়। গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এটিই ছিল সর্বোচ্চ দাম। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ১ ডলার ৬৯ সেন্ট বা ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলার ৫৪ সেন্টে পৌঁছায়।
ইরান-সমর্থিত হুতিরা শনিবার রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলার দায় স্বীকার করেছে। ওই হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। রোববারও আরও হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া চলতি মাসে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলবাহী ট্যাংকারে একাধিক হামলার খবর পাওয়া গেছে। এতে সেপ্টেম্বরে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানিতে যে পুনরুদ্ধার দেখা গিয়েছিল, তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস জানিয়েছে, ওমানের সোহার বন্দরের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলা হয়েছে। অন্য একটি ট্যাংকার হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এসইবি ব্যাংকের পণ্যবাজার বিশ্লেষক বিয়ারনে শিলড্রপ বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল রপ্তানিতে স্বাভাবিক পরিস্থিতি ফিরে আসার যে ধারণা তৈরি হয়েছিল, গত সপ্তাহে তা ভেঙে গেছে। সৌদি আরবে হুতিদের নতুন হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে এবং তেলের দাম বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে।
তিনি বলেন, কোন স্থাপনা রক্ষা করা হবে, তা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের ক্রমেই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তেল অবকাঠামো, সামরিক স্থাপনা, রাজপ্রাসাদ, বেসামরিক বিমানবন্দর—নাকি অন্য কোনো স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
বাজারের অস্থিরতার মধ্যে গোল্ডম্যান স্যাকস তাদের এক বিশ্লেষণী নোটে আগামী ডিসেম্বরে ব্রেন্ট ক্রুডের সম্ভাব্য দাম ব্যারেলপ্রতি ৮৫ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৯০ ডলার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রতি ব্যারেলে ২০ ডলারের কিছু বেশি ঝুঁকিজনিত অতিরিক্ত মূল্য বিবেচনায় নিয়ে এ পূর্বাভাস দিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউরোপে তেল পরিবহনের ব্যয় বেশি থাকায় ব্রেন্টের তুলনায় কম দামে থাকা ডব্লিউটিআই ক্রুডের গড় দাম ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে ব্যারেলপ্রতি ৮১ ডলার এবং ২০২৭ সালে ৭৩ ডলার হতে পারে।
এদিকে মেক্সিকো উপসাগরে হারিকেন ইসাইয়াসের আঘাতের পর শেল, শেভরন ও বিপি তাদের তেল ও গ্যাস প্ল্যাটফর্মে কর্মীদের পুনরায় মোতায়েন এবং উৎপাদন চালুর চেষ্টা করছে। শনিবার ভোরে হারিকেনটি উপকূলে আঘাত হানে।
শুক্রবার ট্রাম্প জানান, রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। পরে আরও ডিজেল সরবরাহ করা হবে বলেও জানান তিনি।
এই ঘোষণার পর সোমবার ইউরোপীয় বাজারে আইসিই গ্যাস অয়েলের ফিউচার দর ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে প্রতি মেট্রিক টন ১ হাজার ৪৪৯ ডলারে নেমে আসে।
পিভিএমের বিশ্লেষক তামাস ভার্গা বলেন, চুক্তিটির তাৎক্ষণিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কারণ, রাশিয়ার তেল পরিশোধন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।
তাঁর মতে, রাশিয়া ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আংশিক শিথিল করেছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে ৫ লাখ টন বা প্রায় ৩৭ লাখ ব্যারেল ডিজেল আসতে পারে। এই পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় এক দিনের চাহিদা এবং বৈশ্বিক চাহিদার প্রায় ১৩ শতাংশের সমান।
রোববার ট্রাম্প অপ্রত্যাশিতভাবে ঘোষণা দেন, ইউক্রেন ও রাশিয়া জ্বালানি খাতে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। তবে সোমবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) প্রধান ফাতিহ বিরোল বলেন, বাজারে অতিরিক্ত ডিজেল মজুত ছাড়ার প্রয়োজন আছে কি না, সদস্য দেশগুলোর তা পর্যালোচনা করা উচিত। যেসব দেশ এখনো প্রতিশ্রুত পরিমাণ জ্বালানি পুরোপুরি সরবরাহ করেনি, তাদের দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ক্ষেত্রে ডিজেল সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান আইইএ প্রধান।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স