সাইবার হামলার পর সাময়িকভাবে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখলেও পুনরায় সেবা চালুর পর ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। রোববার (১ নভেম্বর) উত্তোলনসেবা চালুর পর প্রথম সাড়ে নয় ঘণ্টায় গ্রাহকদের মোট উত্তোলন ও জমার হিসাব মিলিয়ে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলারের নিট বহিঃপ্রবাহ হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্সের হট ওয়ালেটে সাইবার হামলার […]
ছবি: সংগৃহীত
সাইবার হামলার পর সাময়িকভাবে গ্রাহকদের অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখলেও পুনরায় সেবা চালুর পর ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ তুলে নিয়েছেন গ্রাহকরা। রোববার (১ নভেম্বর) উত্তোলনসেবা চালুর পর প্রথম সাড়ে নয় ঘণ্টায় গ্রাহকদের মোট উত্তোলন ও জমার হিসাব মিলিয়ে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলারের নিট বহিঃপ্রবাহ হয়েছে।
গত ২৯ অক্টোবর বাইন্যান্সের হট ওয়ালেটে সাইবার হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো সম্পদ চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনার জন্য এক্সচেঞ্জটি সাময়িকভাবে অর্থ উত্তোলন বন্ধ রাখে। তবে সব ধরনের লেনদেন বন্ধ ছিল না; বাইন্যান্স জানিয়েছিল, জমা এবং অন্যান্য যেসব সেবা ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি, সেগুলো সচল ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (এফবিআই) একাধিক সংস্থা এই সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে। এফবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ‘ট্রেডারট্রেইটার’ নামের একটি সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী এই হামলা চালিয়েছে।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, হামলায় চুরি যাওয়া সম্পদের প্রায় ৯৫ শতাংশের আর্থিক ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাকি অংশের সম্পদ সংগ্রহ করতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি বারবার বলেছে, এই হামলার কারণে গ্রাহকদের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার পুরো দায় বাইন্যান্স নিজেই বহন করবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় বাইন্যান্স জানায়, ১ নভেম্বর জিএমটি সময় সকাল ৬টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টার মধ্যে তারা ৪৬৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের উত্তোলন এবং ১০১ কোটি ডলারের জমা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। ফলে ওই সময়ের মধ্যে প্রায় ৩৬৪ কোটি ডলারের নিট বহিঃপ্রবাহ ঘটেছে।
অর্থাৎ, গ্রাহকদের মোট উত্তোলনের পরিমাণ ছিল ৪৬৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। একই সময়ে নতুন করে জমা হয়েছে প্রায় ১০১ কোটি ডলার। দুটি অঙ্কের পার্থক্যই ৩৬৪ কোটি ডলারের নিট বহিঃপ্রবাহ।
বাইন্যান্স আরও জানায়, উত্তোলনসেবা চালুর পরপরই গ্রাহকদের মধ্যে অর্থ তুলে নেওয়ার প্রবণতায় তীব্র উল্লম্ফন দেখা যায়। তবে পরবর্তী সময়ে সেই চাপ কমে এসেছে এবং পরিস্থিতি প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থিতিশীল হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, এক দিনে হওয়া এই নিট বহিঃপ্রবাহ তাদের ব্যবস্থাপনাধীন ১ লাখ ৭১ হাজার কোটি ডলারের সম্পদের প্রায় ২ দশমিক ১ শতাংশ। হামলার ক্ষতি সামাল দিতে ৬৩৪ কোটি ডলারের বেশি তহবিল সংরক্ষণের কথা আগেই জানিয়েছিল বাইন্যান্স।
রোববার জিএমটি সময় সকাল ৬টা থেকে ধাপে ধাপে অর্থ উত্তোলনের সুবিধা চালু করে বাইন্যান্স। প্রথম পর্যায়ে বিটকয়েন, ইথারসহ ১৫টি নেটওয়ার্ক ও সম্পদে উত্তোলনসেবা পুনরায় চালু করা হয়। দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের সব নেটওয়ার্ক ও সম্পদে উত্তোলন চালু করা সম্ভব হয়।
বাকি নেটওয়ার্ক ও সম্পদের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা পরীক্ষা অব্যাহত রয়েছে। পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সেবাও চালু করা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বাইন্যান্সের এই হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটারকে দায়ী করেছে এফবিআই। গোষ্ঠীটি এর আগে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকে প্রায় ১৫০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ চুরির ঘটনায়ও দায়ী ছিল বলে জানিয়েছিল সংস্থাটি।
বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হয়েছিল, একজন প্রকৌশলীর হ্যাক হওয়া ল্যাপটপের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা প্রতিষ্ঠানের একটি সার্ভিস কনটেইনারে প্রবেশ করে অননুমোদিত উত্তোলনের লেনদেন সম্পন্ন করার সুযোগ পেয়েছিল। তবে পরবর্তী তদন্তে প্রতিষ্ঠানটি আরও কয়েকটি সম্ভাব্য অনুপ্রবেশের পথের সন্ধান পেয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ওয়ালেটের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা চাবি বা প্রাইভেট কি ফাঁস হওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে বাইন্যান্স।
এই হামলার শিকার হয়েছে বাইন্যান্সের বৈশ্বিক কেন্দ্রীয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ। তবে প্রতিষ্ঠানটির মার্কিন প্ল্যাটফর্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, ‘আমাদের প্রতিশ্রুতি একই রয়েছে: এই ঘটনায় চুরি হওয়া তহবিলের আর্থিক প্রভাব বাইন্যান্স পুরোপুরি বহন করবে, গ্রাহকদের নয়।’
ক্রিপ্টোকারেন্সি হলো বাইন্যান্সের মতো এক্সচেঞ্জে লেনদেন হওয়া ডিজিটাল সম্পদ। কাগজের মুদ্রার মতো এগুলোর কোনো শারীরিক রূপ নেই। কম্পিউটার, স্মার্টফোন ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে এসব সম্পদ সংরক্ষণ ও লেনদেন করা হয়।
সূত্র: বিবিসি