সৌরজগতের বাইরে থাকা একটি গ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে এই সংকেতের সঙ্গে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর কোনো সম্পর্ক নেই। গবেষকদের মতে, এর উৎস ওই গ্রহের অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইডো বার্জার বলেন, রেডিও সংকেতের বিষয়টি সাধারণত ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু এবারের ঘটনা […]
সৌরজগতের বাইরে থাকা একটি গ্রহ থেকে প্রথমবারের মতো সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। তবে এই সংকেতের সঙ্গে ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর কোনো সম্পর্ক নেই। গবেষকদের মতে, এর উৎস ওই গ্রহের অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যোতির্বিজ্ঞানের অধ্যাপক ইডো বার্জার বলেন, রেডিও সংকেতের বিষয়টি সাধারণত ভিনগ্রহের বুদ্ধিমান প্রাণীর সন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করা হয়। কিন্তু এবারের ঘটনা সম্পূর্ণ ভিন্ন।
১৫ সেপ্টেম্বর ‘আর্কাইভ’ প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, পৃথিবী থেকে প্রায় ৬৩ আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত গ্যাসীয় দানব গ্রহ ‘বিটা পিক্টোরিস বি’ থেকে বারবার রেডিও তরঙ্গ শনাক্ত হয়েছে। গ্রহটির ভর বৃহস্পতির প্রায় ১২ গুণ।
গবেষক বার্জারের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গ্রহটির শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্রের প্রভাবে সেখানে মেরুজ্যোতি বা অরোরা তৈরি হচ্ছে। আর সেই প্রক্রিয়ার ফলেই উৎপন্ন হচ্ছে রেডিও সংকেত।
তিনি বলেন, যে ফ্রিকোয়েন্সিতে রেডিও তরঙ্গগুলো শনাক্ত হয়েছে, সেগুলো তৈরি হওয়ার জন্য অত্যন্ত শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র প্রয়োজন।
গবেষণায় দেখা গেছে, বিটা পিক্টোরিস বি-এর চৌম্বকক্ষেত্র বৃহস্পতির চৌম্বকক্ষেত্রের তুলনায় অন্তত ২০০ গুণ শক্তিশালী হতে পারে। দক্ষিণ আফ্রিকার ৬৪টি রেডিও টেলিস্কোপ ডিশের সমন্বয়ে গঠিত ‘মীরক্যাট’ টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণের সময় এই সংকেত শনাক্ত করা হয়।
গবেষণার প্রধান লেখক কেভিন ওরটিজ সেবালোস প্রথম তথ্য পাওয়ার পর বার্জারকে বলেছিলেন, তিনি সম্ভবত এই আবিষ্কার বিশ্বাস করবেন না। বার্জারও স্বীকার করেছেন, তাদের পর্যবেক্ষণ প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে একটি অপ্রত্যাশিত ফল দিয়েছে।
আমস্টারডাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জোসেফ কলিংহাম বলেন, এই গবেষণার বিশেষত্ব হলো, গবেষকেরা সংকেতটিকে শুধু নক্ষত্রের সঙ্গে সম্পর্কিত হিসেবে দেখেননি; বরং নক্ষত্র থেকে আলাদা করে সরাসরি গ্রহটির অবস্থান শনাক্ত করতে পেরেছেন।
যুক্তরাজ্যের লেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোনাথন নিকোলসের মতে, এই পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত হলে এক্সোপ্ল্যানেট সম্পর্কে মানুষের বর্তমান ধারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসতে পারে।
তবে গবেষণাপত্রটি এখনো চূড়ান্ত পিয়ার-রিভিউ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে। তারপরও বার্জার তার দলের পর্যবেক্ষণ নিয়ে দৃঢ় আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিভিন্ন সময়ে এবং একাধিক ফ্রিকোয়েন্সিতে সংকেতটি রেকর্ড করা হয়েছে। প্রতিবারই একই স্থানে এর উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
এখন বিজ্ঞানীরা মূলত বোঝার চেষ্টা করছেন, বিটা পিক্টোরিস বি-এর চৌম্বকক্ষেত্র এত শক্তিশালী হওয়ার কারণ কী। এই রহস্যের সমাধান হলে দূরবর্তী গ্রহগুলোর অভ্যন্তরীণ গঠন ও পরিবেশ সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন