সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৩:২৬ অপরাহ্ন, ২৪ আগস্ট ২০২৬

হরমুজে চলাচলের নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ৪৫ জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করল ইরান

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের ৪৫টি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে এসব জাহাজের সঙ্গে জাহাজ-টু-জাহাজ পণ্য স্থানান্তরে যুক্ত অন্য নৌযানগুলোকেও তালিকাভুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের নবগঠিত ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ […]

হরমুজে চলাচলের নিয়ম ভাঙার অভিযোগে ৪৫ জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করল ইরান

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩ মিনিটে পড়ুন |

হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের ৪৫টি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকারকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে ইরান। একই সঙ্গে এসব জাহাজের সঙ্গে জাহাজ-টু-জাহাজ পণ্য স্থানান্তরে যুক্ত অন্য নৌযানগুলোকেও তালিকাভুক্ত করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান।

রোববার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের নবগঠিত ‘পারস্য উপসাগর প্রণালি কর্তৃপক্ষ’ এ তথ্য জানায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে জরিমানা, আটক এবং তাদের বহন করা পণ্য জব্দের মতো ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

কালো তালিকায় অতি বৃহৎ অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহনকারী জাহাজও রয়েছে। তালিকাভুক্ত কয়েকটি জাহাজ সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডিএনওসি লজিস্টিকস অ্যান্ড শিপিংয়ের মালিকানাধীন। এডিএনওসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেভিগ৮ ট্যাংকারস এবং সৌদি আরবের জাতীয় শিপিং কোম্পানি বাহরির জাহাজও এতে রয়েছে। এছাড়া নরওয়ের ক্লাভেনেস শিপ ম্যানেজমেন্ট ও স্টল্ট ট্যাংকারস এবং দক্ষিণ কোরিয়ার সিনোকরের মালিকানাধীন কয়েকটি জাহাজও তালিকায় রয়েছে।

ইরানের কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, কালো তালিকাভুক্ত কোনো জাহাজের সঙ্গে শিপ-টু-শিপ ট্রান্সফার, পণ্য স্থানান্তর বা এ ধরনের কার্যক্রমে অংশ নিলে সংশ্লিষ্ট অন্য নৌযানকেও একই তালিকায় যুক্ত করা হতে পারে। তবে কোন নির্দিষ্ট নিয়ম ভঙ্গের কারণে ৪৫টি জাহাজকে ‘নন-কমপ্লায়েন্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

এর আগে ইরান জানিয়েছিল, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য জাহাজের মালিকদের তাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে এবং নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন সেবার জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হবে। কালো তালিকা থেকে নাম সরাতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জাহাজের মালিকদের প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও তথ্য দিয়ে ইরানের সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে বলা হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্কিত যাত্রার ক্ষেত্রে কার্গো মালিকদেরও তালিকাটি যাচাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তেহরানের এই পদক্ষেপ সামনে এলো। ওয়াশিংটনের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকির জবাবে ইরান আগেই সতর্ক করেছিল, যেকোনো নতুন পদক্ষেপের জবাব কঠোর হবে।

হরমুজ প্রণালি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি নৌপথ। সংঘাতের আগে বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেল ও এলএনজির প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে চলমান সংঘাত ও নিরাপত্তা সংকটের কারণে প্রণালিটিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাপকভাবে কমে গেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় ৯০ শতাংশ কম ছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রও ইরান-সংশ্লিষ্ট নৌপরিবহনের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতির মধ্যেই হরমুজ দিয়ে সীমিত পরিসরে তেল পরিবহন অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি, নৌবাহিনীর তৎপরতার কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জ্বালানি প্রবাহ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টাপাল্টি পদক্ষেপের মধ্যে ৪৫টি জাহাজকে কালো তালিকাভুক্ত করার সিদ্ধান্ত সামুদ্রিক বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত জাহাজগুলোর সঙ্গে ব্যবসা ও পণ্য স্থানান্তরের সঙ্গে যুক্ত অন্যান্য নৌযানও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ