ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আরও রক্তপাত ঘটিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর দাবি, একজন ‘অধঃপতিত জুয়াড়ির’ মতো মরিয়া হয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি […]
ছবি: সংগৃহীত
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আরও রক্তপাত ঘটিয়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ ব্যয় করে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করার অভিযোগ তুলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর দাবি, একজন ‘অধঃপতিত জুয়াড়ির’ মতো মরিয়া হয়ে নিজেকে রক্ষার চেষ্টা করছেন নেতানিয়াহু। তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলুর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাগচি নেতানিয়াহুকে ‘পলাতক যুদ্ধাপরাধী’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তাঁর অভিযোগ, নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডে আরব, মার্কিন ও ইরানি নাগরিকদের রক্ত ঝরেছে।
পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী লেখেন, একজন অধঃপতিত জুয়াড়ির মতো নেতানিয়াহু আরও মার্কিন নাগরিকের জীবন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদ ব্যয় করে নিজেকে বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছেন। এমনকি মার্কিন সিনেটররাও এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে চান বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। তেহরানের দাবি, ওই যুদ্ধে তিন হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। হামলার জবাবে ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালায়। এতে মার্কিন ও ইসরায়েলি নাগরিকদের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়।
তবে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ার পর ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় আবারও হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। জুনের মাঝামাঝি সময়ে দুই পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি।
বিশ্বের জ্বালানি ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতবিরোধ আলোচনাকে আরও জটিল করে তুলেছে। এই বিরোধের কারণে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এখনো স্থবির রয়েছে।
এদিকে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আরও মার্কিন প্রাণহানি ও অর্থ ব্যয়ের অভিযোগ তুলে আরাগচির দেওয়া বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার নতুন দিক সামনে এনেছে। তবে নেতানিয়াহু বা ইসরায়েলি সরকারের পক্ষ থেকে আরাগচির সর্বশেষ মন্তব্যের বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।