সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিশ্ব
১১:০১ এএম, ২৪ অক্টোবর ২০২৫

ইতালির ক্যাথলিক চার্চে যৌন নির্যাতনের মর্মান্তিক পরিসংখ্যান ৪,৪০০-এর বেশি ভুক্তভোগী, সংকট গভীর

ইতালিতে ক্যাথলিক চার্চের অভ্যন্তরে যৌন শোষণের ঘটনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ২০২০ সালের পর থেকে অন্তত ৪,৪০০ জন মানুষ বিভিন্ন ক্যাথলিক ধর্মযাজকের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সর্ববৃহৎ ভুক্তভোগী সংগঠন রেতে ল’আবুসো। এই তথ্য শুক্রবার প্রকাশিত হওয়ার পর ইতালিয়ান চার্চের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলা […]

ইতালির ক্যাথলিক চার্চে যৌন নির্যাতনের মর্মান্তিক পরিসংখ্যান ৪,৪০০-এর বেশি ভুক্তভোগী, সংকট গভীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ইতালিতে ক্যাথলিক চার্চের অভ্যন্তরে যৌন শোষণের ঘটনা নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। ২০২০ সালের পর থেকে অন্তত ৪,৪০০ জন মানুষ বিভিন্ন ক্যাথলিক ধর্মযাজকের হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সর্ববৃহৎ ভুক্তভোগী সংগঠন রেতে ল’আবুসো। এই তথ্য শুক্রবার প্রকাশিত হওয়ার পর ইতালিয়ান চার্চের ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, যা দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের গভীরতা তুলে ধরেছে।

রেতে ল’আবুসোর রিপোর্ট: নির্যাতনের বিস্তৃত চিত্র

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা ফ্রান্সেসকো জানার্দি জানান, এই পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে ভুক্তভোগীদের স্বীকারোক্তি, বিচার বিভাগীয় নথি এবং মিডিয়াতে প্রকাশিত মামলার তথ্যের ভিত্তিতে। যদিও নির্দিষ্ট বছরের তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবুও এটি ইতালির ক্যাথলিক চার্চে যৌন নির্যাতনের ব্যাপকতার একটি স্পষ্ট নির্দেশ।

রেতে ল’আবুসোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তারা এখন পর্যন্ত ১,২৫০টি সন্দেহভাজন নির্যাতনের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে, যেখানে অধিকাংশ অভিযুক্ত পুরোহিত। এছাড়া সন্ন্যাসিনী, ধর্মীয় শিক্ষক, স্বেচ্ছাসেবক এবং শিক্ষাবিদরাও এ ধরনের অভিযোগের মুখোমুখি হয়েছেন।

চার্চের নীরবতা এবং সমালোচনা

ইতালির বিশপ সম্মেলন (সিইআই) এই প্রতিবেদন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এর আগে ভ্যাটিকানের শিশু সুরক্ষা কমিশন সমালোচনা করেছিল, কারণ ২২৬টি ডায়োসিসের মধ্যে মাত্র ৮১টি কমিশনের পাঠানো প্রশ্নপত্রের উত্তর দিয়েছে, যা চার্চের সংকট মোকাবিলার অপ্রতুল প্রচেষ্টা নির্দেশ করে।

বিশ্বব্যাপী ক্যাথলিক চার্চ বহু দশক ধরে শিশু যৌন নির্যাতনের অভিযোগে কেঁপে উঠেছে, কিন্তু ইতালির চার্চ নেতৃত্ব তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি সংযত ও ধীরগতির পদক্ষেপ নিয়েছে।

পোপ লিওর নতুন নির্দেশনা

এই সংকট মোকাবিলায় নতুন পোপ লিও প্রথমবারের মতো নির্যাতিতদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন এবং ধর্মযাজকদের উদ্দেশে সতর্ক করেছেন, ‘অসদাচরণের অভিযোগ গোপন রাখবেন না।’ যদিও তার পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিস এই ইস্যুকে অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন, তবুও কার্যকর সমাধান আনা যায়নি।

নির্যাতনের ভয়াবহ পরিসংখ্যান এবং শাস্তির অভাব

রেতে ল’আবুসোর তথ্য অনুযায়ী, ৪,৬২৫ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে ৪,৩৯৫ জন পুরোহিতদের হাতে নির্যাতিত। এর মধ্যে ৪,৪৫১ জনের বয়স ছিল ১৮ বছরের নিচে এবং প্রায় ৯০ শতাংশই পুরুষ।

অভিযুক্তদের মধ্যে মাত্র ৭৬ জন চার্চ আদালতে বিচার পেয়েছেন। শাস্তি হিসেবে ১৭ জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, ৭ জনকে অন্য প্যারিশে বদলি দেওয়া হয়েছে, আর ১৮ জনকে ধর্মযাজক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অভিযোগের পর ৫ জন অভিযুক্ত আত্মহত্যা করেছেন।

ক্যাথলিক চার্চের সংকট এবং পাঠকের জন্য গুরুত্ব

এই পরিসংখ্যান ক্যাথলিক চার্চের ভেতরে যৌন নির্যাতন দমন ব্যবস্থার অদক্ষতা এবং গোপন সংস্কৃতির গভীরতাকে স্পষ্ট করে। ভ্যাটিকানের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতার অভাব চার্চ ব্যবস্থার বড় দুর্বলতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ইতালির এই ঘটনা ইউরোপের অন্যান্য দেশের মতো ক্যাথলিক চার্চের নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের গভীরতাকে তুলে ধরে। সাধারণ পাঠকদের জন্য এই তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ এটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি বিশ্বাসের প্রশ্ন তোলে এবং সতর্ক করে যে, প্রতিষ্ঠানের স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতা কতটা জরুরি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ