যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে, ব্যারনের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চ্যানেল থ্রিতে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ […]
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারন ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে একটি হুমকিমূলক ভিডিও প্রচার করা হয়েছে। ভিডিওটিতে দাবি করা হয়েছে, ব্যারনের গতিবিধি নজরদারিতে রাখা হয়েছে এবং তাকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের চ্যানেল থ্রিতে প্রচারিত ভিডিওটির সঙ্গে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভিডিওটির শিরোনাম ছিল, ‘ব্যারন ট্রাম্পকে কোথায় ও কীভাবে হত্যা করা হবে?’
ভিডিওতে ব্যারনের বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান, তাকে বহনকারী গাড়ি এবং নিরাপত্তায় থাকা সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের অবস্থান সম্পর্কে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যারনের চলাফেরা ‘সম্পূর্ণ নজরদারিতে’ রয়েছে বলেও দাবি করা হয়। তাঁর ব্যক্তিগত যোগাযোগ নিয়েও ভিডিওটিতে বিভিন্ন তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে।
তবে ভিডিওতে করা এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ইউরোনিউজও জানিয়েছে, ভিডিওটিতে উপস্থাপিত তথ্য তারা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ভিডিওটিতে আরও দাবি করা হয়, এক তরুণী সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা এড়িয়ে ব্যারনের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে সাক্ষাৎ করেছিলেন। পরে ওই তরুণী ব্যারন সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য ভিডিওটির নির্মাতাদের কাছে পৌঁছে দেন বলে দাবি করা হয়েছে।
ব্যারন ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এক্সবক্স ব্যবহার করেন—এমন দাবিও ভিডিওটিতে করা হয়েছে। তবে এ তথ্যেরও স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ব্যারন ট্রাম্প বর্তমানে নিউইয়র্কে কলেজে পড়াশোনা করছেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের কনিষ্ঠ সন্তান। পরিবারের অন্য সদস্যদের তুলনায় ব্যারন সাধারণত জনসম্মুখে কম থাকেন। তবে প্রেসিডেন্টের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাকে পরিবারের সঙ্গে দেখা গেছে।
ট্রাম্প পরিবারের কোনো সদস্যকে লক্ষ্য করে ইরান-সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে হুমকিমূলক ভিডিও প্রচারের ঘটনা অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে জুলাই মাসেও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে নিয়ে একই ধরনের একটি ভিডিও প্রচার করা হয়েছিল। ওই ভিডিওতেও তাঁর চলাচল ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরা হয়েছিল।
ব্যারনকে ঘিরে প্রচারিত ভিডিওটির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিসও অবগত হয়েছে। সংস্থাটির এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হুমকি হিসেবে বিবেচিত যেকোনো বিষয় তারা তদন্ত করে। ফলে ভিডিওটি প্রকাশের পর ব্যারনের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বর্তমানে তীব্র অবস্থায় রয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তেহরানের ওপর আরও চাপ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এর মধ্যেই ব্যারনকে লক্ষ্য করে এমন হুমকিমূলক প্রচার দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ট্রাম্প নিজেও অতীতে ইরানের পক্ষ থেকে পাওয়া হত্যার হুমকি নিয়ে প্রকাশ্যে কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলার ঘটনা ঘটলে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও তিনি দিয়েছেন। এর আগে ট্রাম্পকে লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনার অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে কয়েকটি মামলাও হয়েছে।
সব মিলিয়ে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারে ট্রাম্পপুত্র ব্যারনকে লক্ষ্য করে হত্যার হুমকি এবং ১ কোটি ডলারের পুরস্কারের দাবি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনাকে আরও আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবে ভিডিওতে ব্যারনের ওপর নজরদারি, তাঁর নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে নির্দিষ্ট তথ্য এবং পুরস্কার ঘোষণার দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।