সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
১:৫৩ অপরাহ্ন, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে যেকোনো সময় হামলার প্রস্তুতি, সময়সূচি নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প

ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। কয়েক দিন আগে পেন্টাগন থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক করা হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের […]

ইরানে যেকোনো সময় হামলার প্রস্তুতি, সময়সূচি নিয়ে ভাবছেন ট্রাম্প

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মিনিটে পড়ুন |

ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ডকে নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর। কয়েক দিন আগে পেন্টাগন থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হলেও এখনো হামলার কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঠিক করা হয়নি এবং এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বক্তব্য এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈঠকের তথ্য থেকে ইঙ্গিত মিলছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি ওয়াশিংটনের বিবেচনায় রয়েছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এবং সম্ভাব্যভাবে ইসরায়েলের নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগেও হামলা চালানো হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কেউ কেউ জানিয়েছেন।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী তিন থেকে চার সপ্তাহের মধ্যে ইরানে আবার যুদ্ধ শুরু হলে তা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নতুন করে সংঘাত শুরু হলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা নির্বাচনের আগে মার্কিন অর্থনীতি ও ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, প্রতিরক্ষা দপ্তরের দায়িত্ব হলো প্রেসিডেন্টের সামনে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প তৈরি করা এবং সেগুলো উপস্থাপন করা। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের সামনে এখনো সব ধরনের বিকল্প খোলা রয়েছে এবং তিনি যেকোনো সময় সেগুলোর কোনোটি প্রয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

ওই কর্মকর্তা দাবি করেন, হরমুজ প্রণালির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে এবং ইরানের অর্থনীতি বর্তমানে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। তার মতে, এসব কারণে যুক্তরাষ্ট্র কৌশলগতভাবে শক্তিশালী অবস্থানে আছে। তিনি বলেন, ইরান ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখন পরিস্থিতি সমাধানের জন্য সহজ অথবা কঠিন—দুই ধরনের পথই ট্রাম্পের সামনে রয়েছে।

তার ভাষায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব কার্ড রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে যা সবচেয়ে ভালো হবে, তিনি সেটিই করবেন।

এর আগে বুধবার মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে হামলা চালানোর সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত শুক্রবার ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দলের সদস্যরা যুদ্ধ পরিস্থিতি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কয়েক ঘণ্টা বৈঠক করেন।

ওই বৈঠকের একটি অংশে ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা।

বৈঠকের পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পররাষ্ট্রনীতি পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে বৈঠকে ইরান নিয়ে ঠিক কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু জানাননি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি নেই

মার্কিন কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান আলোচনায় এখন পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা এখনো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া পাল্টা প্রস্তাবের বিষয়ে ইরানের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছেন।

ওই মার্কিন পাল্টা প্রস্তাবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে ছাড় দেওয়ার দাবি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় সামরিক বিকল্পের বিষয়টি আবারও সামনে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন থেকে ইরানে হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়নি।

একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে বলেন, ইরানে আবার বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়ে আলোচনা আগের তুলনায় জোরালো হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে হামলা চালানোর সম্ভাবনা খুব বেশি নয় বলেও তিনি উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে সেই সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানান তিনি।

ওই কর্মকর্তা বলেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানে হামলার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে।

পর্দার আড়ালে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু যোগাযোগ

ইরান পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে গতকাল ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। কয়েক সপ্তাহ বিরতির পর কয়েক দিনের ব্যবধানে এটি দুই নেতার দ্বিতীয় ফোনালাপ।

এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ফোনালাপে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ৭ অক্টোবরের হামলার ঘটনায় নিহতদের স্মরণ ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর বিষয়েও কথা বলেছেন।

তবে ইরান ইস্যুতে দুই নেতার মধ্যে কী আলোচনা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

একজন ইসরায়েলি কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, নেতানিয়াহু তার জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ইরান পরিস্থিতি নিয়ে বৈঠক করার পরই ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। এর আগে গত সোমবার নেতানিয়াহু মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও আলোচনা করেছিলেন।

সংশ্লিষ্ট ইসরায়েলি কর্মকর্তারা মনে করছেন, ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান হলে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয় দেশের বাহিনী অংশ নিতে পারে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীও সম্ভাব্য অভিযানে যুক্ত হতে পারে বলে তারা জানিয়েছেন।

ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা

দুই ইসরায়েলি কর্মকর্তার দাবি, ইরানের শাসকগোষ্ঠী বর্তমানে চরম হতাশা ও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার আগেই কোনো ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা দাবি করেছেন, ইরান এরই মধ্যে দুটি আকস্মিক হামলার মুখোমুখি হয়েছে। ফলে দেশটির নেতৃত্ব তৃতীয় কোনো আকস্মিক হামলার ঝুঁকি নিতে চাইছে না।

তাদের মতে, নতুন করে সামরিক সংঘাত শুরু হলে ইরান পাল্টা হামলা হিসেবে ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়তে পারে। এতে সংঘাত দ্রুত আরও বড় আকার ধারণ করার আশঙ্কা রয়েছে।

ইসরায়েলি নির্বাচনেও প্রভাব পড়তে পারে

ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হলে এর প্রভাব ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।

ইরান থেকে পাল্টা হামলা হলে ইসরায়েলে জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের শেষ সময়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ঘিরে বিরোধীদের রাজনৈতিক আক্রমণের মাত্রা কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করছেন।

তাদের মতে, নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়া, এমনকি সরাসরি যুদ্ধ শুরু না হলেও দীর্ঘস্থায়ী টানটান পরিস্থিতি বা জরুরি অবস্থা তৈরি হওয়া নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে এসব সম্ভাবনা এখনো আলোচনাধীন এবং ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।

তথ্যসূত্র: অ্যাক্সিওস

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ