সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

আন্তর্জাতিক
৪:৫০ অপরাহ্ন, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইরানে সরকার উৎখাতে আমি ও ট্রাম্প অঙ্গীকারবদ্ধ: নেতানিয়াহু

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা সম্পন্ন করতে তিনি ও ট্রাম্প অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু। খবর আল জাজিরার। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর […]

ইরানে সরকার উৎখাতে আমি ও ট্রাম্প অঙ্গীকারবদ্ধ: নেতানিয়াহু

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা সম্পন্ন করতে তিনি ও ট্রাম্প অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু। খবর আল জাজিরার।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) প্রকাশিত আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত রোববার ট্রাম্পের সঙ্গে ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেছেন নেতানিয়াহু। ইরানকে আবারও পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলা এবং তথাকথিত ‘প্রতিরোধের অক্ষ’ পুনর্গঠন থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রেও দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা ভেঙে দেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের মধ্যে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নীতিগত অবস্থান এবং দুই দেশের সহযোগিতার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ইরানের সরকার উৎখাতের বিষয়ে তাঁদের আলোচনায় কী ধরনের নির্দিষ্ট পরিকল্পনা বা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে ইরানকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যে সোমবার (১৯ অক্টোবর) অঘোষিত সফরে ইসরায়েলে যান যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। সফরকালে তিনি নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন। ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র ডোরন স্পিলম্যান বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ ইসরায়েলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত উভদা বিমানঘাঁটিতে নেতানিয়াহু ও হেগসেথের মধ্যে রুদ্ধদ্বার বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

স্পিলম্যান জানান, বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক হুমকি এবং এসব হুমকি আক্রমণাত্মক ও প্রতিরক্ষামূলক—উভয় উপায়ে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের অংশীদারত্ব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া ইসরায়েলে মার্কিন সেনা উপস্থিতি এবং নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে মধ্যপ্রাচ্যসহ যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের আওতাধীন অঞ্চলে মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানান। তবে তিনি কোথায় সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলেননি।

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হেগসেথের সফরের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত জানায়নি। রয়টার্সকে দেওয়া বক্তব্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও সফরের সব দিক নিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের পক্ষ থেকে প্রকাশ্য বিবৃতি দেওয়া হয়নি।

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে সামরিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ এমন এক সময়ে জোরদার হয়েছে, যখন হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা এবং ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথিদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এসব আঞ্চলিক উত্তেজনাকে হেগসেথের সফরের প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে নেতানিয়াহুর বক্তব্য ও হেগসেথের সফর থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সামরিক পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়নি। ইরানের সরকার উৎখাতের বিষয়ে দুই নেতার আলোচনার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্য পরবর্তী পদক্ষেপও এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ