ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বুধবার (২২ জুলাই) সরকার টেলিকম অপারেটরদের […]
ছবি: সংগৃহীত
ভারতে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতি এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে চলমান আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানী নয়াদিল্লির পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যন্তর মন্তর ও আশপাশের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় সাময়িকভাবে মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, বুধবার (২২ জুলাই) সরকার টেলিকম অপারেটরদের নির্দেশ দিয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা পর্যন্ত ওই এলাকায় মোবাইল ইন্টারনেট বন্ধ রাখতে।
নিরাপত্তা জোরদারের অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি সেন্ট্রাল রিজার্ভ পুলিশ ফোর্স (সিআরপিএফ) সদস্যকে জরুরি ভিত্তিতে দিল্লিতে মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে।
এদিকে দিল্লির মেদান্তা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনশন চালিয়ে যাওয়া জলবায়ু আন্দোলনের নেতা সোনম ওয়াংচুক দাবি করেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে। সরকারের উদ্দেশে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের বিরুদ্ধে কোনো প্রতিশোধমূলক বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না—এমন লিখিত নিশ্চয়তা পেলে তিনি অনশন প্রত্যাহার করতে প্রস্তুত।
এর আগে বিরোধী দলীয় সাংসদ এবং ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপ হাসপাতালে গিয়ে সোনম ওয়াংচুককে অনশন ভাঙার অনুরোধ জানান।
গত সোমবার সিজেপির ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও বলপ্রয়োগের ঘটনায় দিল্লি হাইকোর্টে দুটি পৃথক রিট আবেদন করা হয়েছে। বুধবার আদালত কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের কাছে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে আগামী ১১ সেপ্টেম্বর পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছেন।
আবেদনকারীদের আইনজীবীরা আদালতে অভিযোগ করেন, কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই পুলিশ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায়। পাশাপাশি এক নারী পথচারীকে মারধরের অভিযোগে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসিপি) সন্দীপ লাম্বাকে আদালতে তলবের দাবিও জানান তারা।
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ আদালতে দাবি করেছে, আন্দোলনকারীদের একাংশ সহিংস হয়ে ওঠে এবং পুলিশের ওপর পাথর নিক্ষেপ করে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব ঘটনায় তাদের ১১৮ জন সদস্য আহত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ভাঙচুর ও সহিংসতার অভিযোগে ছয়টি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস যন্তর মন্তরে সমবেত হাজারো মানুষের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে জানান, সরকার আলোচনায় বসতে চাইলে তারা প্রস্তুত। তবে সেই আলোচনা কোনো মন্ত্রীর বাসভবন বা কার্যালয়ে নয়, বরং সংবিধান ক্লাবের মতো নিরপেক্ষ স্থানে অনুষ্ঠিত হতে হবে।
জানা গেছে, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা সিজেপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করতে পারেন। অন্যদিকে দলের আরেক মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, দাবি পূরণ না হলে যন্তর মন্তরে লাখো শিক্ষার্থী সমবেত হবে।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবের নেতৃত্বে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বুধবার কেরালা, আসাম, জম্মু-কাশ্মীরসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে কংগ্রেসের উদ্যোগে ব্যাপক প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।
এদিকে আন্দোলনের সমালোচনা করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে অভিযোগ করেন, রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি দাবি করেন, সরকার নিট পরীক্ষার অনিয়ম নিয়ে সংসদে পূর্ণাঙ্গ আলোচনা করতে প্রস্তুত, কিন্তু বিরোধী দল রাজনৈতিক সংঘাত সৃষ্টি করতেই বেশি আগ্রহী।