কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়লেও এর ব্যয় এখন বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহারের কৌশল নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উন্নত এআই সেবার বাড়তি খরচ সামাল দিতে কোম্পানিগুলো এখন বিকল্প পথ খুঁজছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির উত্থানের পর এআই কোম্পানিগুলো বাজার দখলের জন্য তুলনামূলক […]
ছবি: সংগৃহীত
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বিশ্বজুড়ে দ্রুত বাড়লেও এর ব্যয় এখন বড় উদ্বেগ হয়ে উঠেছে। ফলে অনেক প্রযুক্তিনির্ভর প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহারের কৌশল নতুন করে সাজাতে শুরু করেছে। বিশেষ করে উন্নত এআই সেবার বাড়তি খরচ সামাল দিতে কোম্পানিগুলো এখন বিকল্প পথ খুঁজছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২০২২ সালে চ্যাটজিপিটির উত্থানের পর এআই কোম্পানিগুলো বাজার দখলের জন্য তুলনামূলক কম দামে সেবা দিত। বিনিয়োগকারীদের বড় অঙ্কের অর্থায়নের কারণে তখন প্রতিষ্ঠানগুলো সহজেই উন্নত এআই সুবিধা ব্যবহার করতে পারত।
স্টার্টআপ ইনকিউবেটর ডেলফি ল্যাবসের কেভিন সিমব্যাক এই সময়কে “সাবসিডাইজড ইন্টেলিজেন্স”-এর যুগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার মতে, এখন পরিস্থিতি বদলেছে। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ধীরে ধীরে লাভজনক ব্যবসায় রূপ নিতে চাইছে, ফলে সেবার প্রকৃত খরচও বাড়ছে।
বিশেষ করে এআই এজেন্টের ব্যবহার বাড়ায় ব্যয় আরও দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাধারণ চ্যাটবট শুধু প্রশ্নের উত্তর দিলেও আধুনিক এআই এজেন্ট কোড লেখা, অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং, ডেটা বিশ্লেষণ কিংবা ফাইল ব্যবস্থাপনার মতো জটিল কাজ করতে পারে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে একাধিক এআই সিস্টেম একসঙ্গে কাজ করে, যার ফলে টোকেন ব্যবহারের পরিমাণও বেড়ে যায়।
এআই সেবার মূল্য সাধারণত ‘টোকেন’ ব্যবহারের ওপর নির্ভর করে। একটি সাধারণ কথোপকথনের তুলনায় জটিল এআইভিত্তিক কাজ কয়েকগুণ বেশি টোকেন ব্যবহার করে। এর পাশাপাশি ডেটা সেন্টার ও শক্তিশালী চিপের চাহিদা বাড়ায় অবকাঠামোগত ব্যয়ও দ্রুত বাড়ছে।
প্রযুক্তি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ওমনিইউএক্সের মার্ক বার্টন বলেন, সফটওয়্যার ডেভেলপার ও প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর মধ্যে এআই ব্যবহারের ব্যয় এখন বড় চাপে পরিণত হয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত এআই ব্যবহার করছে, যাকে বিশ্লেষকরা “টোকেনম্যাক্সিং” নামে উল্লেখ করছেন।
জে. গোল্ড অ্যাসোসিয়েটসের বিশ্লেষক জ্যাক গোল্ডের মতে, কিছু ক্ষেত্রে কয়েক মাসের এআই ব্যবহারের খরচ একজন কর্মীর বেতনের সমান হয়ে যাচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে অনেক প্রতিষ্ঠান এখন ওপেনসোর্স বা উন্মুক্ত এআই মডেলের দিকে ঝুঁকছে। যদিও এসব মডেল চ্যাটজিপিটি বা ক্লডের মতো শক্তিশালী নয়, তবু নির্দিষ্ট অনেক কাজের জন্য সেগুলো যথেষ্ট কার্যকর এবং তুলনামূলক সস্তা।
কিছু প্রতিষ্ঠান আবার নির্দিষ্ট খাতভিত্তিক ছোট ও বিশেষায়িত মডেল ব্যবহার করছে। যেমন রিয়েল এস্টেট, ব্যাংকিং বা কাস্টমার সাপোর্টের জন্য আলাদা এআই ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। বড় কাজগুলোকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে কম খরচের মডেলের মাধ্যমে সম্পন্ন করার প্রবণতাও বাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় আকারের উন্নত এআই মডেলে প্রতি ১০ লাখ টোকেন ব্যবহারে যেখানে প্রায় ১৫ ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে, সেখানে ছোট মডেলে একই ধরনের কাজ কয়েক সেন্টেই করা সম্ভব।
বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে এআই ধীরে ধীরে একটি সাধারণ প্রযুক্তি পণ্যে পরিণত হবে। তখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে—কোন কাজের জন্য কোন মডেল সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর। তবে অত্যাধুনিক ও শক্তিশালী এআই মডেলের চাহিদা পুরোপুরি কমবে না বলেও মনে করছেন তারা।