ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একসঙ্গে ২৩০ জন অভিবাসীর যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর ঘটনা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। সোমবার ভোরে ডোভার উপকূলে পৌঁছানো বিশাল আকারের একটি ইনফ্ল্যাটেবল নৌকায় তাদের পাওয়া যায়। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ নৌকাটিতে থাকা সবাইকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে। একটি নৌযানে চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এর আগে সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ১৬৫। নতুন ঘটনায় সেই রেকর্ড এক […]
ছবি: সংগৃহীত
ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে একসঙ্গে ২৩০ জন অভিবাসীর যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর ঘটনা নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। সোমবার ভোরে ডোভার উপকূলে পৌঁছানো বিশাল আকারের একটি ইনফ্ল্যাটেবল নৌকায় তাদের পাওয়া যায়। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ নৌকাটিতে থাকা সবাইকে নিজেদের হেফাজতে নিয়েছে।
একটি নৌযানে চ্যানেল পার হয়ে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে এর আগে সর্বোচ্চ সংখ্যা ছিল ১৬৫। নতুন ঘটনায় সেই রেকর্ড এক ধাক্কায় অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে নৌকাটিকে ‘মেগা-ডিঙ্গি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ২টার দিকে এটি ডোভার উপকূলে পৌঁছায় বলে জানা গেছে। ধারণক্ষমতার দিক থেকে নৌকাটি একটি বোয়িং ৭৩৭ বিমানের কাছাকাছি বলে তুলনা করা হয়েছে।
অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই ছোট নৌকায় ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার ঝুঁকি নিয়ে ব্রিটেনে দীর্ঘদিন ধরেই উদ্বেগ রয়েছে। চলতি মাসের শুরুতে ১৭৩ জন যাত্রী বহনকারী একটি নৌকার ইঞ্জিনে আগুন ধরে সেটি উল্টে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।
নতুন এই রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ব্রিটিশ সরকারের অভিবাসন নীতির কঠোর সমালোচনা করেছেন রিফর্ম ইউকের নেতা নাইজেল ফারাজ। তিনি ঘটনাটিকে যুক্তরাজ্যের জন্য ‘জাতীয় নিরাপত্তা সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
তার দাবি, ইংলিশ চ্যানেল দিয়ে ছোট নৌকায় অভিবাসীদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ বন্ধ করতে সরকারের আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
রিফর্ম ইউকে ইতোমধ্যে ‘অপারেশন ফোর্ট্রেস’ নামে একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ক্ষমতায় এলে রয়্যাল নেভি ও রয়্যাল মেরিনসকে কাজে লাগিয়ে অভিবাসীবাহী নৌকাগুলো আটক করা হবে এবং সেগুলোকে ফ্রান্সের দিকে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
তবে ফারাজের প্রস্তাব বাস্তবায়নযোগ্য কি না, তা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সমুদ্রে নৌকা থামিয়ে তাতে থাকা অভিবাসীদের ফ্রান্সে ফেরত পাঠানোর উদ্যোগ বাস্তবে জটিল হয়ে উঠতে পারে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক আইন, নিরাপত্তা এবং মানবিক বিবেচনার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে।
এক নৌকায় ২৩০ জনের আগমন নতুন উদ্বেগ তৈরি করলেও চলতি বছরে ছোট নৌকায় মোট ইংলিশ চ্যানেল পার হওয়া মানুষের সংখ্যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
দ্য টাইমসের হিসাবে, ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৪ হাজার ৮১৯ জন ছোট নৌকায় যুক্তরাজ্যে পৌঁছেছেন। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা ৪৩ শতাংশ কম।
একই সময়ে অবৈধ চ্যানেল পারাপার ঠেকাতে ব্রিটিশ ও ফরাসি কর্তৃপক্ষ নজরদারি ও উপকূলীয় টহল জোরদার করেছে।
মোট আগমনের সংখ্যা কমলেও একটি নৌকায় অস্বাভাবিক সংখ্যক মানুষ বহনের প্রবণতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে এসব নৌযান সমুদ্রযাত্রার ক্ষেত্রে আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এ ধরনের বড় নৌকার ব্যবহার মানবপাচারকারীদের কৌশল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, সেটিও আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে এত বিপুলসংখ্যক মানুষকে সমুদ্রপথে পাঠানোর কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
ফলে এক নৌকায় ২৩০ জনের ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দেওয়ার ঘটনাটি শুধু নতুন রেকর্ডই নয়, যুক্তরাজ্যের অভিবাসন নীতি ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্ককেও আরও তীব্র করেছে।