সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

বিশেষ প্রতিবেদন
৫:৫০ পিএম, ১০ জুলাই ২০২৬

এশিয়াজুড়ে প্রকৃতির তাণ্ডব: বন্যা, ভূমিধস ও টাইফুনে বিপর্যস্ত জনজীবন

ভারী বর্ষণ, বন্যা, ভূমিধস ও শক্তিশালী টাইফুনের প্রভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ একাধিক দেশে প্রাণহানি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে। ভারতে টানা বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। মহারাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুজরাটের সুরাটসহ […]

এশিয়াজুড়ে প্রকৃতির তাণ্ডব: বন্যা, ভূমিধস ও টাইফুনে বিপর্যস্ত জনজীবন

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

ভারী বর্ষণ, বন্যা, ভূমিধস ও শক্তিশালী টাইফুনের প্রভাবে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে ভয়াবহ দুর্যোগ দেখা দিয়েছে। ভারত, চীন, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ একাধিক দেশে প্রাণহানি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি এবং লাখো মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়েছে।

ভারতে টানা বর্ষণ ও বন্যা পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। মহারাষ্ট্রে এক সপ্তাহের ভারী বৃষ্টিতে অন্তত ২২ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুজরাটের সুরাটসহ বিভিন্ন জেলায় বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ত্রিপুরার তিন জেলায় বন্যায় প্রায় ১১ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন এবং চার হাজারের বেশি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঊনকোটি জেলা। সেখানে ৩৫টি ত্রাণশিবির খোলা হয়েছে। খোয়াই জেলায় ২৪টি এবং ধলাই জেলায় ২০টি ত্রাণকেন্দ্র চালু করা হয়েছে।

ভারতের আবহাওয়া বিভাগ মহারাষ্ট্র, গুজরাট, গোয়া, দিল্লি, কর্ণাটক, উত্তরাখণ্ড, পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় রেড ও অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করেছে। রাজধানী দিল্লিতেও জলাবদ্ধতার কারণে যান চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটছে।

হিমাচল প্রদেশেও ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাসে অরেঞ্জ অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিচু অঞ্চলে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।

চীনের দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলেও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। টানা বর্ষণে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় বিভিন্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। কয়েক লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বহু পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এদিকে শক্তিশালী টাইফুনের প্রভাবে জাপানে প্রবল ঝড়বৃষ্টি শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে তাইওয়ান, ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ডেও টাইফুন ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায় ব্যাপক সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

তাইওয়ানে সম্ভাব্য টাইফুন ‘বাভি’ মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে সরকার। ভারী বৃষ্টি, দমকা হাওয়া এবং জলোচ্ছ্বাসের আশঙ্কায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তার জন্য প্রায় ২৯ হাজার সেনাসদস্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

ভিয়েতনামের উত্তরাঞ্চলে টাইফুন ‘মেইসাক’ এবং টানা বর্ষণের প্রভাবে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস এবং নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

থাইল্যান্ডের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কয়েকটি প্রদেশেও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বৃষ্টিপাতের তীব্রতা এবং একের পর এক শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ের কারণে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দুর্যোগ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ