সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

USCIS
৬:১৪ অপরাহ্ন, ২৫ আগস্ট ২০২৬

ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের, কারা প্রভাবিত হবেন?

যুক্তরাষ্ট্রে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন—এমন বিদেশি নাগরিকদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটিই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক ভিসা বাতিলের ঘটনা। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া বি-১ ও বি-২ ভিসার মধ্যে সেসব ভিসা বাতিল করার […]

ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা ট্রাম্পের, কারা প্রভাবিত হবেন?

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
৫ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রে এসে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আশ্রয় চাওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছেন—এমন বিদেশি নাগরিকদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিলের পরিকল্পনা করছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে এটিই হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় একক ভিসা বাতিলের ঘটনা।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ২০১৬ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে দেওয়া বি-১ ও বি-২ ভিসার মধ্যে সেসব ভিসা বাতিল করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাদের ধারকেরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে আবেদন করছেন। বি-১ ভিসা সাধারণত ব্যবসায়িক ভ্রমণের জন্য এবং বি-২ ভিসা পর্যটনসহ বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদি ভ্রমণের জন্য দেওয়া হয়।

স্থানীয় সময় সোমবার (২৪ আগস্ট) পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট জানান, যুক্তরাষ্ট্রে স্বল্পমেয়াদি দর্শনার্থী হিসেবে প্রবেশের পর স্থায়ীভাবে থাকার উদ্দেশ্যে আশ্রয়ের আবেদন করছেন—এমন বিদেশিদের শনাক্ত করে তাদের নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বাতিল করতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করছে পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে ঠিক কতটি ভিসা বাতিল করা হবে, তা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে চলবে এবং সংখ্যাটিও পরিবর্তনশীল।

তবে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের পাওয়া পররাষ্ট্র দপ্তরের নথি এবং দুই মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগে প্রায় ২ লাখ মানুষ প্রভাবিত হতে পারেন। পরিকল্পনাটি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এটি হবে সবচেয়ে বড় গণভিসা বাতিলের ঘটনা।

কেন এত কঠোর পদক্ষেপ

ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হয়েছে। ভিসা ও গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি ব্যাপক বহিষ্কার অভিযানও প্রশাসনের অন্যতম অগ্রাধিকার। অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে আইসিইসহ বিভিন্ন ফেডারেল সংস্থার অভিযান, ভিসা যাচাইয়ে বাড়তি তথ্য চাওয়া এবং নির্দিষ্ট দেশের নাগরিকদের ভিসা দেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ—সব মিলিয়ে নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত কারণসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১ লাখ ৭৫ হাজারের বেশি ভিসা বাতিলের কথা জানায় পররাষ্ট্র দপ্তর। তবে নতুন পরিকল্পনাটি তার চেয়ে আলাদা, কারণ এবার মূল লক্ষ্য বি-১ ও বি-২ ভিসাধারীদের মধ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা করছেন।

ট্রাম্প প্রশাসন একই সময়ে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব এবং ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নিয়েও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প স্বাক্ষরিত নির্বাহী আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের পরিধি সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। পরে এ বিষয়ে আইনি লড়াই হয়। চলতি মাসেও ‘বার্থ ট্যুরিজম’ ঠেকাতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কেন বি-১ ও বি-২ ভিসা লক্ষ্যবস্তু

বি-১ ও বি-২ ভিসার আবেদনকারীদের সাধারণত প্রমাণ করতে হয় যে তারা যুক্তরাষ্ট্রে সাময়িক সময়ের জন্য যাচ্ছেন এবং ভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফিরে যাবেন। কিন্তু কিছু ভিসাধারী যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ডেপুটি সেক্রেটারি ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ এ ধরনের প্রবণতার সমালোচনা করেছেন। তিনি এক্সে লিখেছেন, ‘People in the US and all over the world are fed up with bogus asylum claims. Asylum isn’t supposed to be a loophole to circumvent immigration laws; rather, it should provide a narrow safe harbor for persons persecuted because of their “race, religion, nationality, political opinion, or membership in a particular social group.”’

প্রশাসনের যুক্তি হলো, আশ্রয় ব্যবস্থাকে অভিবাসন আইনের বিকল্প পথ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করা নিজে থেকেই অবৈধ নয়; আবেদনকারীর দাবি আইনগত মানদণ্ড পূরণ করে কি না, সেটিই চূড়ান্ত বিষয়।

ভিসা বাতিল হলে কী হবে

ভিসা বাতিল হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আশ্রয়ের আবেদন বাতিল হয়ে যাওয়া নয়। যারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করে ইতিমধ্যে আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ভিসা বাতিল হলেও তাদের আশ্রয় মামলার নিজস্ব প্রক্রিয়া চলতে পারে। অর্থাৎ ভিসা বাতিলের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সবাইকে দেশে ফেরত পাঠানো হবে—এমন নয়।

তবে ভিসা বাতিল হলে তারা আর বি-১ বা বি-২ ভিসার ভিত্তিতে সাময়িক দর্শনার্থী হিসেবে অবস্থান করতে পারবেন না। আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর না হলে তাদের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অন্য কোনো বৈধ ভিত্তি আছে কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

ইউরোপীয় অভিবাসন গবেষক রুথ বারমেজো কাসাদোর মতে, এই নীতি বাস্তবায়নে পররাষ্ট্র দপ্তর, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও ইমিগ্রেশন আদালতের তথ্যের মধ্যে ব্যাপক সমন্বয় প্রয়োজন হবে। ফলে প্রশাসনের ওপর বড় ধরনের তথ্য যাচাই ও ব্যবস্থাপনার চাপ তৈরি হতে পারে।

এই নীতির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জও তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে উপস্থিত হয়ে আশ্রয়ের আবেদন করার অধিকার এবং প্রশাসনিক যথাযথ প্রক্রিয়ার প্রশ্নে আদালতে নতুন বিতর্ক দেখা দিতে পারে। তবে প্রশাসনের দৃষ্টিতে এর অন্যতম উদ্দেশ্য হলো বি-১ ও বি-২ ভিসা ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা কমানো।

কোন দেশের নাগরিকরা বেশি প্রভাবিত হতে পারেন

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এখনো এই পরিকল্পনায় কোন দেশের কত নাগরিক প্রভাবিত হবেন, তার বিস্তারিত তালিকা প্রকাশ করেনি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোর আশ্রয় আবেদনের তথ্যের ভিত্তিতে রুথ বারমেজো কাসাদো ধারণা করছেন, ভেনেজুয়েলা, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা ও হন্ডুরাসের পাশাপাশি চীন, রাশিয়া, তুরস্ক ও মিসরের নাগরিকদের মধ্যে প্রভাব তুলনামূলক বেশি হতে পারে।

অন্যদিকে হাইতি, ভারত, কিউবা ও মেক্সিকোর আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যানের হার বেশি ছিল বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে মোট আশ্রয় আবেদন এবং বি-১ বা বি-২ ভিসা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা আবেদনকারীর সংখ্যা এক নয়। ফলে কোন দেশের নাগরিকরা বাস্তবে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

আর যেসব দেশের নাগরিকরা ভিসা ছাড়াই সীমান্ত অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন, তাদের ওপর এই নির্দিষ্ট ভিসা বাতিলের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কম হবে। কারণ তাদের ক্ষেত্রে বি-১ বা বি-২ ভিসা বাতিল করার প্রশ্নই থাকে না।

সব মিলিয়ে, ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন পরিকল্পনা মূলত সেই বিদেশিদের লক্ষ্য করছে যারা বি-১ বা বি-২ ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয়ের আবেদন করেছেন বা বর্তমানে করছেন। এখন পর্যন্ত প্রায় ২ লাখ মানুষ সম্ভাব্যভাবে এর আওতায় আসতে পারেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সংখ্যা, বাস্তবায়নের পদ্ধতি এবং সম্ভাব্য আইনি চ্যালেঞ্জের কারণে পরিকল্পনাটির চূড়ান্ত রূপ এখনো স্পষ্ট নয়।

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ