সম্পূর্ণ নিউজ বাংলা-ভয়েজ

উত্তর আমেরিকা
২:১৫ অপরাহ্ন, ৮ অক্টোবর ২০২৬

ওবামার সঙ্গে নির্বাচনি সমাবেশ, তীব্র সমালোচনার মুখে এল-সাইদ

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে যাচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠেয় একটি নির্বাচনি সমাবেশে ওবামার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অতীতে ওবামার বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এল-সাইদের সঙ্গে তার বর্তমান রাজনৈতিক জোট নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। এল-সাইদ ওবামা […]

ওবামার সঙ্গে নির্বাচনি সমাবেশ, তীব্র সমালোচনার মুখে এল-সাইদ

ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক
২ মিনিটে পড়ুন |

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইদের সঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিতে যাচ্ছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ২৪ অক্টোবর ডেট্রয়েটে অনুষ্ঠেয় একটি নির্বাচনি সমাবেশে ওবামার অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। তবে অতীতে ওবামার বিভিন্ন নীতির কঠোর সমালোচক হিসেবে পরিচিত এল-সাইদের সঙ্গে তার বর্তমান রাজনৈতিক জোট নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।

এল-সাইদ ওবামা প্রেসিডেন্ট থাকাকালে তার প্রশাসনের বিভিন্ন নীতির প্রকাশ্য সমালোচনা করেছিলেন। বিশেষ করে যুদ্ধনীতি, নাগরিক স্বাধীনতা, অভিবাসন, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক নীতির ক্ষেত্রে ওবামা প্রশাসন প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিবর্তন আনতে পারেনি বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

২০১২ সালে লেখা এক নিবন্ধে ওবামার দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়াকে প্রগতিশীলদের জন্য বিজয় হিসেবে দেখার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন এল-সাইদ। পরবর্তী সময়েও তিনি ওবামার নীতিকে অতিরিক্ত মধ্যপন্থি বলে সমালোচনা করেন। ২০১৭ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে প্রার্থী হওয়ার সময়ও ওবামার সঙ্গে তার নীতিগত মতপার্থক্যের কথা প্রকাশ্যে তুলে ধরেছিলেন।

তবে সময়ের সঙ্গে এল-সাইদের অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বর্তমানে ওবামার প্রতি তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি আগের তুলনায় অনেক বেশি ইতিবাচক বলে জানিয়েছে তার প্রচারশিবির।

এল-সাইদের প্রচারশিবিরের ভাষ্য, তরুণ বয়সে ২০০৮ সালের নির্বাচনে ওবামার বিজয় তাকে রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত করেছিল। যদিও ওবামা প্রশাসনের কিছু সিদ্ধান্তের সঙ্গে তার মতপার্থক্য ছিল, তবু এল-সাইদ সাবেক প্রেসিডেন্টকে একজন দক্ষ নেতা এবং আমেরিকানদের প্রতি প্রতিশ্রুতিশীল ব্যক্তি হিসেবে দেখেন।

প্রাইমারিতে অল্প ব্যবধানে জয়

চলতি বছরের আগস্টে মিশিগানের ডেমোক্রেটিক সিনেট প্রাইমারিতে সাবেক কংগ্রেস সদস্য হ্যালি স্টিভেন্সকে অল্প ব্যবধানে পরাজিত করেন এল-সাইদ। প্রগতিশীল ডেমোক্র্যাটদের সমর্থনও পেয়েছেন তিনি।

তার সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেস সদস্য আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ। সাধারণ নির্বাচনে তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান প্রার্থী ও সাবেক কংগ্রেস সদস্য মাইক রজার্স।

এদিকে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসও সম্প্রতি ডেট্রয়েটে এল-সাইদের হয়ে নির্বাচনি প্রচারে অংশ নিয়েছেন। এবার ওবামার সরাসরি উপস্থিতিও তার প্রচারণায় বাড়তি গুরুত্ব যোগ করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিশেষ করে ডেট্রয়েটের কৃষ্ণাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে ওবামার দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তা এল-সাইদের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনি সমাবেশে সাবেক প্রেসিডেন্টের উপস্থিতি এল-সাইদের প্রতি ডেমোক্র্যাট সমর্থকদের মধ্যে আরও জোরালো বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ভোটারদের আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

মিশিগানের সিনেট নির্বাচন আগামী মার্কিন কংগ্রেসে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে, তা নির্ধারণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে এল-সাইদের নির্বাচনি প্রচারে ওবামার সরাসরি অংশগ্রহণকে ডেমোক্র্যাটদের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে ওবামার সঙ্গে এল-সাইদের এই রাজনৈতিক সমন্বয় অতীতের অবস্থানের কারণে প্রশ্নও তুলেছে। একসময় যিনি ওবামার নীতিকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করেছিলেন, তিনিই এখন তার সমর্থন নিয়ে নির্বাচনি প্রচারে এগিয়ে যাচ্ছেন। এল-সাইদের প্রচারশিবির অবশ্য বলছে, মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও ওবামার নেতৃত্ব ও রাজনৈতিক ভূমিকার প্রতি তার মূল্যায়ন ইতিবাচক।

তথ্যসূত্র: মিডল ইস্ট আই, দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট ও দ্য গার্ডিয়ান

Facebook Comments Box
Advertise with us
এ বিভাগের আরও খবর


আর্কাইভ ক্যালেণ্ডার
Su Mo Tu We Th Fr Sa
Advertise with us
আরও বাংলা-ভয়েজ সংবাদ