আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। নির্বাচনের আগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তার হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচনাসৃষ্টিকারী সম্পদের চিত্র। হলফনামা অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত এই তরুণ প্রার্থীর নামে কোনো কৃষি […]
ছবি: সংগৃহীত
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসন থেকে প্রথমবারের মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও জামায়াত সমর্থিত জোটের প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ। নির্বাচনের আগে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া তার হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে একটি ব্যতিক্রমী ও আলোচনাসৃষ্টিকারী সম্পদের চিত্র।
হলফনামা অনুযায়ী, উচ্চশিক্ষিত এই তরুণ প্রার্থীর নামে কোনো কৃষি বা অকৃষি জমি নেই। নেই নিজস্ব কোনো আবাসিক বা বাণিজ্যিক ভবন, অ্যাপার্টমেন্ট কিংবা গাড়ি। অথচ সব মিলিয়ে তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০ লাখ টাকা।
হাসনাত আব্দুল্লাহর সম্পদের বড় অংশই অস্থাবর। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তার কাছে নগদ অর্থ রয়েছে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এ ছাড়া ব্যাংকে সংরক্ষিত স্বর্ণালংকারের মূল্য দেখানো হয়েছে ২৬ লাখ টাকা। ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তার রয়েছে ১ লাখ টাকা মূল্যের আসবাবপত্র এবং ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রনিক সামগ্রী।
হলফনামার তথ্যে দেখা যায়, তার নামে কোনো ধরনের ঋণ নেই। ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কাছেও তিনি বা তার পরিবারের কেউ দেনাগ্রস্ত নন। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে বর্তমানে বা অতীতে কোনো ফৌজদারি মামলার তথ্যও উল্লেখ করা হয়নি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি সাহিত্যে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী হাসনাত আব্দুল্লাহ পেশায় একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১২ লাখ ৫৩ হাজার ৫৩৯ টাকা। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে এই আয় দিয়েই তিনি সংসার পরিচালনা করছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন।
তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের তালিকায় রয়েছেন তার বাবা-মা, স্ত্রী সাবরিনা জাহান নুসরাত এবং ছেলে হাম্মাদ আব্দুল্লাহ হামজা। বিলাসবহুল জীবনযাপনের কোনো চিহ্ন তার ঘোষিত সম্পদ বিবরণীতে দেখা যায়নি।
নির্বাচনী ব্যয়ের ক্ষেত্রেও একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন এই প্রার্থী। হলফনামা অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারের সম্ভাব্য ব্যয়ের জন্য তিনি নিজের ব্যবসা থেকে ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৯০০ টাকা সংগ্রহ করেছেন। পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ‘ক্রাউডফান্ডিং’-এর মাধ্যমে আরও ৩০ লাখ টাকা সংগ্রহ করার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি, যা নির্বাচনী অর্থায়নে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে আলোচনায় এসেছে।
দেবিদ্বার উপজেলার কুমিল্লা-৪ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১০ হাজার ৫৫৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৫ হাজার ২৩৭ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৩১৯ জন। এই আসনে হাসনাত আব্দুল্লাহর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও চারবারের সাবেক সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী।
নবাগত প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহ বনাম অভিজ্ঞ রাজনীতিক মঞ্জুরুল আহসান মুন্সীর এই লড়াই ঘিরে দেবিদ্বারের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যেই বাড়ছে উত্তাপ ও কৌতূহল।